মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় উত্তর ইউনিয়নের বিওসি কেছরিগুল গ্রামে শনিবার সন্ধ্যায় দুই ভাইকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। শিকারের মধ্যে ছিলেন কুয়েত প্রবাসী জামাল উদ্দিন (55) এবং কৃষক আব্দুল কাইয়ুম (48)। একই ঘটনার ফলে জমির উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়।
স্থানীয় পুলিশ জানায়, কাইয়ুম ও জমির উদ্দিনের মধ্যে বহু বছর ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। পূর্বে জমির উদ্দিনের ভাগ্নে জালাল উদ্দিনের হত্যার মামলায় কাইয়ুম অভিযুক্ত ছিলেন, যা দুই পরিবারের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছিল।
বিক্রিত তথ্য অনুসারে, জমির উদ্দিন ও কয়েকজন সহচর কাইয়ুমের বাড়িতে গিয়ে তাকে পুলিশ হেফাজতে পাঠানোর চেষ্টা করেন। তবে বাড়িতে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই দু’পক্ষের মধ্যে মারামারির সূচনা হয়। শিকারের সময় কাইয়ুম ও তার বড় ভাই জামাল উদ্দিন উভয়েই শত্রুর অস্ত্রের আঘাতে প্রাণ হারান।
আহত জমির উদ্দিন, যিনি মৃত আব্দুস সবুরের পুত্র, মারাত্মক আঘাত পেয়ে সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালতে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে তার অবস্থার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি।
বড়লেখা থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান খান ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি জানান, মৃতদের মধ্যে একজন কুয়েত থেকে ফিরে আসা প্রবাসী এবং অন্যজন স্থানীয় কৃষক। জামাল উদ্দিন ছয় মাস আগে দেশে ফিরে এসেছিলেন, তবে হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ ও দায়ী ব্যক্তির পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।
পুলিশের মতে, ঘটনাস্থলে প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে যে শিকারের সময় দু’পক্ষের মধ্যে অস্ত্র ব্যবহার করা হয়। তবে কোন অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, তা এখনো ফরেনসিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।
স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ঘটনাটিকে গম্ভীর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে তদন্তকে ত্বরান্বিত করার নির্দেশ দিয়েছে। ভবিষ্যতে কেস ফাইল করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অধিকন্তু, মৃতদের পরিবারকে শোক প্রকাশের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে বলে স্থানীয় সরকার জানিয়েছে। মৃতদের আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে শোকের প্রকাশ পাওয়া গিয়েছে এবং তারা ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছেন।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, স্থানীয় সম্প্রদায়ে জমি সংক্রান্ত বিরোধের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্কতা বাড়ছে। কর্তৃপক্ষের নির্দেশে, ভবিষ্যতে এ ধরনের বিরোধের সমাধান আইনগত পথে করা এবং গৃহস্থালি হিংসা রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বড়লেখা থানার ওসি উল্লেখ করেন, তদন্ত চলাকালীন সময়ে কোনো অতিরিক্ত তথ্য পাওয়া গেলে তা জনসাধারণের সঙ্গে শেয়ার করা হবে। বর্তমানে কেসটি ফরেনসিক রিপোর্ট, সাক্ষী বিবৃতি এবং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে অগ্রসর হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে, এই হিংসাত্মক ঘটনা স্থানীয় সমাজে শক সৃষ্টি করেছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য দ্রুত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। তদন্তের ফলাফল ও আদালতের রায়ের অপেক্ষা করা হচ্ছে।



