ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের টার্ফ মোরে শনিবার অনুষ্ঠিত ম্যাচে বার্নলি এবং ইভারটন ০-০ সমান স্কোরে শেষ করে। দু’দলই গোল না পেলেও খেলা প্রবাহ ও সুযোগের দিক থেকে ভিন্ন রঙ দেখিয়েছে। বার্নলি অধিকাংশ সময়ে বলের আধিপত্য বজায় রাখলেও শেষ ত্রৈমাসিকে গোলের দরজা খোলার ক্ষমতা দেখাতে ব্যর্থ হয়। ইভারটন, যদিও তিনজন মূল খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতিতে সীমিত দলে খেলতে হয়েছিল, তবু ধারাবাহিক পরাজয়ের ধারাকে ভাঙতে পয়েন্ট সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়।
বার্নলি প্রায় দুই মাসের বেশি সময় ধরে কোনো জয় অর্জন করতে পারেনি; শেষ জয় থেকে এখন পর্যন্ত নয়টি লিগ ম্যাচের পরও তারা জয় পায়নি। এই ম্যাচে তাদের শুটিং পরিসংখ্যানও উদ্বেগজনক; মোট ষোলোবার শট নেওয়া সত্ত্বেও কোনোটি লক্ষ্যভেদ করতে পারেনি। অধিকাংশ শটই দূর থেকে বা বাধা পেয়ে থেমে গিয়েছে, যা দলটির আক্রমণাত্মক গুণের অভাবকে স্পষ্ট করে।
ইভারটনের দিক থেকে দেখা যায়, স্কট পার্কার দলের তিনজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে বাদ দিয়েছেন: কিয়ারনান ডিউসবুরি-হল, ইলিমান ন্ডায়ে এবং জ্যাক গ্রেলিশ, যাঁরা ভাইরাসের কারণে মাঠে উপস্থিত হতে পারেননি। ফলে ইভারটন কেবল আটজন পরিবর্তনশীল খেলোয়াড় নিয়ে খেলতে হয়েছিল, যার মধ্যে দুজন গোলরক্ষকও অন্তর্ভুক্ত। তবু দলটি তৃতীয় পরাজয়ের চক্র থেকে বেরিয়ে এসে এক পয়েন্ট সংগ্রহ করতে পেরেছে, যা তাদের রক্ষণশীল কৌশলকে সমর্থন করে।
খেলায় উভয় দিকের প্রথম গোলচেষ্টার মুহূর্তটি ২৯তম মিনিটে দেখা যায়। ইভারটনের কার্লোস আলকারাজ শিরোনামভিত্তিক হেডার মারার চেষ্টা করেন, কিন্তু স্ট্যানফোর্ডের স্লোভাকীয় গোলরক্ষক মার্টিন ডুব্রাভকা তা সহজে প্রতিহত করেন। এই মুহূর্তটি উভয় দলের জন্য সতর্কতা স্বরূপ ছিল, তবে পরবর্তী সময়ে কোনো উল্লেখযোগ্য সুযোগ তৈরি হয়নি।
বার্নলির কোচিং স্টাফের পরিবর্তনও ম্যাচে প্রভাব ফেলেছে। মারকাস এডওয়ার্ডসকে প্রথম প্রিমিয়ার লিগ স্টার্ট দেওয়া হয়, যাতে মিডফিল্ডে সৃজনশীলতা যোগ করা যায়। তাছাড়া বাশির হাম্প্রিসকে পঞ্চম ডিফেন্সিভ লাইন সদস্য হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে, যা দলের রক্ষণশীল গঠনকে শক্তিশালী করতে চেয়েছিল। তবে এই পরিবর্তনগুলো শেষ পর্যন্ত আক্রমণাত্মক গুণের ঘাটতি পূরণ করতে পারেনি।
বার্নলির আক্রমণ লাইনে আরমান্ডো ব্রোজা পুনরায় স্টার্টিং ইলেভিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন; তিনি ৪০ ম্যাচে প্রথম প্রিমিয়ার লিগ গোলের পর আবার মাঠে ফিরে এসেছেন। যদিও তিনি ডিফেন্ডারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে সক্ষম হন, তবে সহায়তার অভাবে তার প্রচেষ্টা সীমিত রয়ে যায়। এদিকে জেকব ব্রুয়েন লারসেন এবং এডওয়ার্ডসের পারস্পরিক সমন্বয়ও প্রত্যাশিত মাত্রা অর্জন করতে পারেনি।
দলীয় পরিসংখ্যানের দিক থেকে বার্নলি অধিকাংশ বলের দখল বজায় রাখলেও শেষ ত্রৈমাসিকে গোলের সুযোগ তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে। ইভারটন, যদিও সীমিত রিসোর্সে খেলতে বাধ্য হয়েছিল, তবু রক্ষণশীল কৌশল ও গোলরক্ষকের দৃঢ় পারফরম্যান্সের মাধ্যমে পয়েন্ট নিশ্চিত করতে পেরেছে। উভয় দলের জন্য এই ড্রটি ভবিষ্যৎ ম্যাচে কৌশলগত সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।
বার্নলি এখন নিরাপত্তা অঞ্চলে ছয় পয়েন্টের পিছিয়ে রয়েছে এবং বাড়িতে জয় অর্জন না করলে লিগে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ক্রমশ হ্রাস পাবে। প্রতিটি সপ্তাহে তাদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা কমে যাওয়ায়, পরবর্তী হোম গেমগুলোতে জয় নিশ্চিত করা অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইভারটনের জন্য এই পয়েন্টটি ধারাবাহিক পরাজয়ের ধারাকে থামিয়ে দেয় এবং দলকে পুনরায় আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে সহায়তা করে।
উল্লেখযোগ্য যে, টার্ফ মোরে এখন পর্যন্ত শুধুমাত্র প্রোমোশনাল দল সানডারল্যান্ড এবং লিডসের ভিজিটের পরেই পরাজয় হয়েছে। বার্নলির জন্য এই ঐতিহাসিক রেকর্ডটি একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করতে পারে, যাতে তারা ঘরে ঘরে জয় সংগ্রহের গুরুত্ব উপলব্ধি করে।
পরবর্তী সপ্তাহে বার্নলি আবারও বাড়িতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের মুখোমুখি হবে, যেখানে পয়েন্ট সংগ্রহের জন্য তাদের আক্রমণাত্মক গুণকে ত্বরান্বিত করতে হবে। ইভারটনও তাদের পরবর্তী লিগ গেমে পুনরায় সাফল্য অর্জনের জন্য কৌশলগত পরিবর্তন আনতে পারে, বিশেষত অনুপস্থিত মূল খেলোয়াড়দের ফিরে আসার পর। উভয় দলই এখনো লিগের শেষ পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের মুখোমুখি, এবং প্রতিটি পয়েন্টের গুরুত্ব অপরিসীম।



