শাহবাগে শনিবার অনুষ্ঠিত অবস্থান কর্মসূচিতে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের ঘোষণা দেন, শাহীদ শরিফ ও ওসমান বিন হাদির হত্যার ন্যায়সঙ্গত বিচারের জন্য এক মাস পর্যন্ত তারা এই স্থানে অবস্থান করবে। তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুসের আশ্বাস পেলেও রাস্তায় পদচারণা বন্ধ হবে না; বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা ঘরে ফিরে যাবে না।
হাদির হত্যার ন্যায়বিচার দাবি করে সিলেট, কুষ্টিয়া ও রংপুরে একই রকম অবস্থান কর্মসূচি ও প্রতিবাদ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানিয়ে গত শুক্রবার দুপুর থেকে শাহবাগে অবস্থান শুরু করেন, যেখানে বিভিন্ন পেশার মানুষ, নারী ও শিশুরা যোগ দেন।
আজ সকাল ১১ টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান উপস্থিত হয়ে ওসমান হাদির কবরের সম্মানে যাত্রা করেন। কবর জিয়ারত শেষের পর দলটি আজিজ সুপার মার্কেটের দিকে স্থানান্তরিত হয় এবং দুপুর ১২:৩০ টার দিকে আবার শাহবাগে ফিরে এসে অবস্থান পুনরায় শুরু করে।
শাহবাগ মোড় থেকে শুক্রবার দুপুর থেকে সব ধরনের গাড়ি চলাচল বন্ধ রয়েছে। অবস্থানকারীরা শীত উপেক্ষা করে খোলা আকাশের নিচে বসে স্লোগান দেয়, কবিতা আবৃত্তি করে এবং হাদির স্মৃতিতে গান গায়। কিছু সদস্য দূর থেকে কবরের দিকে হাঁটতে গিয়ে আবার ফিরে এসে জিয়ারত করেন।
দলটি ধারাবাহিকভাবে হাদির হত্যার বিচারের দাবি পুনরায় জানিয়ে থাকে। সকালের সময় উপস্থিতির সংখ্যা কম থাকলেও দুপুরের পর ধীরে ধীরে জনসাধারণের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। অবস্থানকারীরা জোহর, আসর ও মাগরিবের নামাজও আদায় করে, যা তাদের ধর্মীয় ও রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি উভয়ই প্রকাশ করে।
আবদুল্লাহ আল জাবেরের মতে, বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত রাস্তায় পদচারণা বন্ধ হবে না এবং এক মাসের বেশি সময়ও প্রয়োজন হলে তারা শীর্ষে অবস্থান বজায় রাখবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমরা বিচার নিশ্চিত করেই ঘরে ফিরব। হাদি হত্যার বিচারের জন্য যদি এক মাসও থাকতে হয়, আমরা থাকব। রাজপথ ছাড়ব না।” দলটি স্লোগান হিসেবে “নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবর”, “আপস না সংগ্রাম, সংগ্রাম সংগ্রাম” উচ্চারণ করে।
শাহবাগে এই অবস্থান কর্মসূচি দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন উত্তেজনা যোগ করেছে। ন্যায়বিচার দাবি করা দল ও সরকারী পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক মতবিরোধ স্পষ্ট, যা ভবিষ্যতে আদালত প্রক্রিয়া ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। ইনকিলাব মঞ্চের নেতৃত্বের মতে, হাদির হত্যার দায়ী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত তারা রাস্তায় উপস্থিত থাকবে, যা দেশের আইন শৃঙ্খলা ও মানবাধিকার সংরক্ষণের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি চলমান থাকায় শহরের ট্রাফিক ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ব্যাঘাত দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা রাস্তায় গাড়ি চলাচল বন্ধ হওয়ায় ক্ষতির মুখে, তবে তারা রাজনৈতিক প্রতিবাদকে গণতান্ত্রিক অধিকার হিসেবে স্বীকার করে। সরকারী দিক থেকে এখনো কোনো স্পষ্ট পদক্ষেপ প্রকাশিত হয়নি, তবে নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়িয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে।
ইনকিলাব মঞ্চের এই দীর্ঘমেয়াদী অবস্থান কর্মসূচি দেশের রাজনৈতিক মঞ্চে ন্যায়বিচার, মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিয়ে নতুন আলোচনার সূচনা করেছে। ভবিষ্যতে আদালতের রায়, সরকারী প্রতিক্রিয়া ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার পরিবর্তনই এই আন্দোলনের দিকনির্দেশ নির্ধারণ করবে।



