বিএনপি স্ট্যান্ডিং কমিটি সদস্য আমির খোসরু মাহমুদ চৌধুরী আগামী জাতীয় নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১০ের বদলে চট্টগ্রাম-১১ থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। একই সময়ে পার্টি চট্টগ্রাম-১০ আসনে মৃত উপ-চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমানের পুত্র সাঈদ আল নোমানকে প্রার্থী হিসেবে নির্ধারণ করেছে।
আমির খোসরু, যিনি দীর্ঘদিন পার্টির গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন, প্রথমে চট্টগ্রাম-১০ের জন্য নাম প্রকাশের পর পার্টির অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের মাধ্যমে চট্টগ্রাম-১১-এ স্থানান্তরিত হয়েছেন। তিনি এখন ডাবল মুরিং, পাহারতলি, হালিশহর ও খুলশি অন্তর্ভুক্ত চট্টগ্রাম-১০ের পরিবর্তে বান্দর ও পাটেঙ্গা এলাকা সমন্বিত চট্টগ্রাম-১১কে তার নতুন নির্বাচনী ক্ষেত্র হিসেবে গ্রহণ করবেন।
সাঈদ আল নোমান, যিনি জাটিয়াতাবাদি জুট কর্মী দল কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এবং ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির প্রতিষ্ঠাতা, চট্টগ্রাম-১০ের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী লড়াইয়ে নাম নিলেন। তার প্রার্থীতা পার্টির তরুণ নেতৃত্বের অংশ হিসেবে গণ্য হচ্ছে এবং তিনি পূর্বে পার্টির বিভিন্ন সামাজিক ও শিক্ষামূলক প্রকল্পে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন।
চট্টগ্রাম-১০ এবং চট্টগ্রাম-১১ দুটোই গুরুত্বপূর্ণ নগরী এলাকা নিয়ে গঠিত। চট্টগ্রাম-১০-এ ডাবল মুরিং, পাহারতলি, হালিশহর ও খুলশি অন্তর্ভুক্ত, যেখানে চট্টগ্রাম-১১-এ বান্দর ও পাটেঙ্গা প্রধানত বন্দর ও সামরিক ভিত্তিক এলাকা। এই দুই সীমানা পার্টির ভোটাভিলি কৌশলে বিশেষ গুরুত্ব পায়।
বিএনপি চট্টগ্রাম বিভাগীয় সংগঠন সচিব মাহবুবের রহমানের মতে, প্রথমে আমির খোসরুকে চট্টগ্রাম-১০ের জন্য ঘোষিত করা হয়েছিল, তবে পরবর্তীতে পার্টির অভ্যন্তরীণ আলোচনার পর চট্টগ্রাম-১১-এ তার প্রার্থীতা চূড়ান্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে সাঈদ আল নোমানকে চট্টগ্রাম-১০ের প্রার্থী হিসেবে নিশ্চিত করা হয়েছে।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম-৪ আসনের জন্য পার্টি আসাম চৌধুরীকে চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে নির্ধারণ করেছে, যা পূর্বে কাজি সলাউদ্দিনের বদলে করা হয়েছে। এই পরিবর্তনগুলো পার্টির নির্বাচনী তালিকাকে পুনর্গঠন করার একটি বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পার্টির সূত্র অনুযায়ী, চট্টগ্রাম-১৪ আসন ছাড়া বাকি ১৫টি আসনের জন্য ইতিমধ্যে প্রার্থী নির্ধারণ করা হয়েছে। চট্টগ্রাম-১৪ এখনো BNP-এর প্রার্থী নির্বাচন প্রক্রিয়ার শেষ ধাপের অপেক্ষায় রয়েছে।
আমির খোসরুর পুত্র ইস্রাফিল খোসরু চৌধুরী, যিনি BNP আন্তর্জাতিক বিষয় সাবকমিটির সদস্য, চট্টগ্রাম-১১ আসনের জন্যও নাম নিবন্ধন ফরম সংগ্রহ করেছেন। তার অংশগ্রহণ পার্টির অভ্যন্তরে পারিবারিক রাজনৈতিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ইঙ্গিত দেয়।
বিএনপি নেতারা উল্লেখ করেছেন যে জামায়াতে ইসলামের সঙ্গে কোনো ধরনের জোট গঠন করা হলে পার্টির নৈতিক অবস্থান দুর্বল হবে। এই অবস্থান পার্টির ঐতিহ্যবাহী নীতি ও ভোটারদের বিশ্বাস রক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই প্রার্থী পরিবর্তনগুলো পার্টির নির্বাচনী কৌশলে নতুন গতিবিধি আনবে এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলে ভোটারদের মধ্যে পুনর্গঠনমূলক আলোচনার সূচনা করবে। পার্টির অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ও নতুন প্রার্থীর উপস্থিতি নির্বাচনের ফলাফলে কী প্রভাব ফেলবে তা সময়ই প্রকাশ করবে।



