ডিসরাপ্ট ২০২5-এ অনুষ্ঠিত টেকক্রাঞ্চের স্টার্টআপ ব্যাটলফিল্ড প্রতিযোগিতায় ২০০টি আবেদনকারী থেকে শীর্ষ ২২টি ক্লিন টেক ও এনার্জি স্টার্টআপ চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এই স্টার্টআপগুলোকে ২০০টি নির্বাচিত প্রোজেক্টের মধ্যে ক্লিন টেক ও এনার্জি সেকশনের প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবে বাছাই করা হয়েছে, যেখানে শীর্ষ ২০টি দল সরাসরি মঞ্চে প্রতিযোগিতা করে $১০০,০০০ নগদ পুরস্কার ও ব্যাটলফিল্ড কাপ জয়ের সুযোগ পায়।
প্রতিযোগিতার আবেদন প্রক্রিয়া প্রতি বছর হাজারো স্টার্টআপের কাছ থেকে আসে, তবে টেকক্রাঞ্চের দল কঠোর মূল্যায়নের মাধ্যমে মাত্র ২০০টি প্রকল্পকে চূড়ান্ত তালিকায় রাখে। এই তালিকায় ক্লিন টেক ও এনার্জি সেকশনের ২২টি কোম্পানি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, কারণ তারা পরিবেশগত সমস্যার সমাধানে নতুন প্রযুক্তি ও ব্যবসায়িক মডেল উপস্থাপন করে।
এর মধ্যে প্রথমে উল্লেখযোগ্য হল আরাবাট (AraBat), যা ব্যবহার শেষ হওয়া লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির থেকে নিকেল, কোবাল্ট ইত্যাদি মূল্যবান ধাতু পুনরুদ্ধার করার জন্য একটি জৈব-ভিত্তিক রিসাইক্লিং পদ্ধতি তৈরি করেছে। প্রচলিত রসায়নিক পদ্ধতির বদলে সাইট্রাসের খোসা ও অন্যান্য উদ্ভিজ্জ বর্জ্য ব্যবহার করে এই প্রযুক্তি পরিবেশের ওপর কম প্রভাব ফেলে এবং ধাতু পুনরুদ্ধারের দক্ষতা বাড়ায়।
দ্বিতীয়টি হল আরুনা রেভোলিউশন (Aruna Revolution), যারা কৃষি বর্জ্য থেকে তৈরি প্রাকৃতিক ফাইবার ব্যবহার করে কম্পোস্টেবল মাসিক প্যাড উৎপাদন করে। এই প্যাডগুলো প্লাস্টিক ও ক্ষতিকারক রাসায়নিক থেকে মুক্ত, তবু ব্যবহারিক দিক থেকে প্রচলিত প্যাডের সমতুল্য কার্যকারিতা প্রদান করে এবং দ্রুত জৈবিকভাবে ভেঙে যায়, ফলে মহিলাদের স্বাস্থ্য ও পরিবেশ দুটোই রক্ষা পায়।
তৃতীয় স্টার্টআপ কার্বনব্রিজ (CarbonBridge) মাইক্রোবিয়াল গ্যাস ফার্মেন্টেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে মিথেন ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের মতো বর্জ্য গ্যাসকে মূল্যবান রাসায়নিক পদার্থে রূপান্তর করে। কোম্পানির দাবি অনুযায়ী, এই পদ্ধতি ঐতিহ্যবাহী গ্যাস রূপান্তর প্রযুক্তির তুলনায় বেশি দক্ষ এবং কম শক্তি ব্যবহার করে, যা শিল্পক্ষেত্রে গ্যাস নির্গমন কমাতে সহায়ক হতে পারে।
চতুর্থটি হল কার্বন নেগেটিভ (Carbon Negative), যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে শিল্প বর্জ্য ও খনিজ পদার্থকে সিমেন্টে রূপান্তর করে। এই সিমেন্টটি প্রচলিত উৎপাদন পদ্ধতির তুলনায় কার্বন নিঃসরণ কমায় এবং বিদ্যমান নির্মাণ যন্ত্রপাতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, ফলে নির্মাণ খাতে ব্যয়বহুল পরিবর্তন ছাড়াই পরিবেশবান্ধব উপাদান ব্যবহার করা সম্ভব।
পঞ্চমটি হল সিওআই এনার্জি (COI Energy), যা এন্টারপ্রাইজ ক্যাম্পাসগুলোর জন্য অতিরিক্ত শক্তি ক্ষমতা কেনা-বেচার একটি অনলাইন মার্কেটপ্লেস চালু করেছে। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের সংরক্ষিত শক্তি ভাগ করে নিতে পারে এবং ভবিষ্যৎ শক্তি চাহিদা সম্পর্কে পূর্বাভাসমূলক বিশ্লেষণ পায়, যা শক্তি ব্যবহারের দক্ষতা বাড়ায় এবং অতিরিক্ত ক্ষমতার অপচয় কমায়।
বাকি ১৭টি স্টার্টআপের নাম ও প্রযুক্তি তালিকায় উল্লেখ না করা হলেও, তারা প্রত্যেকেই পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জ্বালানি দক্ষতা বা কার্বন হ্রাসের ক্ষেত্রে নতুন সমাধান নিয়ে এসেছে। টেকক্রাঞ্চের নির্বাচন কমিটি এইসব প্রকল্পকে তাদের উদ্ভাবনী পদ্ধতি, স্কেলযোগ্যতা এবং বাজারে প্রভাবের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করেছে।
স্টার্টআপ ব্যাটলফিল্ডের এই রাউন্ডে অংশগ্রহণকারী সকল দলই তাদের পিচে প্রযুক্তিগত বিশদ, ব্যবসায়িক মডেল এবং পরিবেশগত সুবিধা তুলে ধরেছে। যদিও শুধুমাত্র শীর্ষ ২০টি দল মঞ্চে উপস্থাপিত হবে, তবু বাকি ১৮০টি স্টার্টআপের পিচও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত হবে, যা বিনিয়োগকারী ও শিল্প বিশেষজ্ঞদের জন্য মূল্যবান তথ্যসূত্র হবে।
ডিসরাপ্টের এই ইভেন্টটি ক্লিন টেক ও এনার্জি সেক্টরে উদ্ভাবনের গতি ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি, স্টার্টআপগুলোকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ প্রদান করে। আগামী বছরগুলোতে এই প্রযুক্তিগুলো যদি সফলভাবে স্কেল হয়, তবে তা শক্তি খরচ কমানো, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং গ্লোবাল কার্বন নিঃসরণ হ্রাসে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে।



