28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধগুয়াতেমালায় বাস দুর্ঘটনা: ১৫ মৃত, ১৯ আহত, গাড়ি ৭৫ মিটার গহ্বরে পড়ে

গুয়াতেমালায় বাস দুর্ঘটনা: ১৫ মৃত, ১৯ আহত, গাড়ি ৭৫ মিটার গহ্বরে পড়ে

পশ্চিম গুয়াতেমালার ইন্টার-আমেরিকান হাইওয়েতে একটি যাত্রী বাস গহ্বরে ধসে পড়ে কমপক্ষে পনেরো জনের প্রাণ ত্যাগ এবং উনিশজনের আঘাত নিশ্চিত হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনা ঘটেছে শনি-রাতে, যখন বাসটি গন্তব্যে যাচ্ছিল।

মৃতদেহের তালিকায় এগারো পুরুষ, তিনজন নারী এবং এক কিশোর অন্তর্ভুক্ত, যা স্থানীয় অগ্নিনির্বাপক সংস্থার মুখপাত্রের বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে। আঘাতপ্রাপ্তদের মধ্যে বেশ কয়েকজন গুরুতর অবস্থায় রয়েছে, এবং তাদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য নিকটস্থ হাসপাতালগুলোতে স্থানান্তর করা হয়েছে।

আহতদের মধ্যে অধিকাংশকে দুর্ঘটনা স্থানের নিকটবর্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যেখানে জরুরি সেবা কর্মীরা তাদের অবস্থা স্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে অতিরিক্ত রোগীর চাপ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তাই অতিরিক্ত মেডিকেল টিমকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।

দুর্ঘটনা সোলোলা বিভাগের ১৭২ থেকে ১৭৪ কিলোমিটার চিহ্নের মধ্যে, টোটোনিকাপান জেলার একটি পাহাড়ি অংশে ঘটেছে, যা স্থানীয়ভাবে “আলাস্কা পিক” নামে পরিচিত। এই নামটি এলাকার কঠিন ভূপ্রকৃতি ও চূড়া-চূড়ি পাহাড়ের কারণে দেওয়া হয়েছে, যা গাড়ি চালকদের জন্য চ্যালেঞ্জিং পরিবেশ তৈরি করে।

অঞ্চলটি ঘন কুয়াশার জন্যও পরিচিত, যা প্রায়শই চালকদের দৃষ্টিসীমা সীমিত করে দেয়। বিশেষ করে সন্ধ্যাবেলায় কুয়াশা তীব্র হয়ে ওঠে, ফলে গতি নিয়ন্ত্রণ ও সঠিক লেন পরিবর্তন করা কঠিন হয়ে পড়ে। এই পরিবেশগত কারণগুলো দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

বসটি গুয়াতেমালা সিটি থেকে সান মারকোস বিভাগে, যা মেক্সিকোর সীমান্তের নিকটে, যাত্রা করছিল। গন্তব্যের পথে বাসটি এই ঝুঁকিপূর্ণ সেকশন অতিক্রম করছিল, যেখানে রাস্তায় বাঁক ও ঢালু অংশের সংখ্যা বেশি।

দুর্ঘটনার সময় বাসটি প্রায় ৭৫ মিটার (প্রায় ২৫০ ফুট) গভীর গহ্বরে পড়ে যায়। গহ্বরের গভীরতা ও ঢালুতা বিবেচনা করে, বাসের গতি হঠাৎ কমে যাওয়া বা ব্রেক ফেইল হওয়া সম্ভবত প্রধান কারণ হতে পারে, তবে এখনো সঠিক কারণ নির্ধারণের জন্য তদন্ত চলমান।

অগ্নিনির্বাপক সংস্থা সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করা ছবিগুলোতে ধসে পড়া বাসের ধ্বংসাবশেষ এবং উদ্ধারকর্মীদের কাজের দৃশ্য দেখা যায়। ফায়ারফাইটাররা দ্রুতই আহতদের উদ্ধার ও মৃতদেহ পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু করে, এবং গহ্বরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত সরঞ্জাম ব্যবহার করে।

দুর্ঘটনা স্থলে এবং আশেপাশের হাসপাতালগুলোতে ভুক্তভোগীর আত্মীয়স্বজনদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। পরিবারগুলো তাদের প্রিয়জনের অবস্থান জানার জন্য অপেক্ষা করছে এবং আহতদের জন্য প্রার্থনা করছে। স্থানীয় মিডিয়া এই পরিস্থিতি সম্পর্কে রিপোর্ট করেছে।

স্থানীয় পুলিশ ও রোড সেফটি বিভাগ দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তৎপর। তারা রেকর্ডেড ড্রাইভার ডেটা, রাস্তায় থাকা ক্যামেরা ফুটেজ এবং গহ্বরের ভূতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ করে মূল কারণ নির্ণয় করার পরিকল্পনা করেছে। তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী দায়ী পক্ষের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গুয়াতেমালায় গত বছরও একই রকম একটি বড় বাস দুর্ঘটনা ঘটেছিল, যেখানে ৫০ এর বেশি মানুষ প্রাণ হারায় এবং বহুজন আহত হয়। সেই ঘটনায় গাড়ি দূষিত গহ্বরে পড়ে গিয়েছিল। এই দুইটি দুর্ঘটনা দেশের রোড সেফটি নীতি ও পাবলিক ট্রান্সপোর্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থার পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।

অধিক তথ্য ও আপডেটের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ঘোষণার অপেক্ষা করা হচ্ছে, এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রোধে রাস্তায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

৮৯/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: আল জাজিরা
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments