20 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধশাহবাগে শিক্ষককে টারিক রহমানের প্রতি আপত্তিকর মন্তব্যে গ্রেফতার করা হয়েছে

শাহবাগে শিক্ষককে টারিক রহমানের প্রতি আপত্তিকর মন্তব্যে গ্রেফতার করা হয়েছে

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ আজ সকালে শাহবাগের শহীদ শরীফ ওসমান হাদী সমাধির কাছাকাছি একটি ঘটনার পর একজন শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারের কারণ হল তিনি বিএনপি কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যান তরিক রহমানের প্রতি আপত্তিকর শব্দ ব্যবহার allegedly করেছেন।

গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তি হলেন একে.এম. শাহিদুল ইসলাম, গাবতলী টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারের সহ-প্রধান শিক্ষক। তিনি গাবতলীর একটি সরকারি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন এবং শিক্ষাক্ষেত্রে বেশ পরিচিত।

ঘটনা ঘটেছে শিবিরের সমাধি ঘেরার এলাকায়, যেখানে তরিক রহমানের পিতার সমাধিতে প্রতি বছর ভক্ত ও পারিবারিক সদস্যরা সমবেত হন। সাক্ষীদের মতে, সকালবেলা সমাবেশের মাঝখানে শাহিদুল ইসলাম হঠাৎ করে উচ্চস্বরে তরিক রহমানকে ‘ধোঁকাবাজ’ ও ‘সন্ত্রাসী’ বলে অভিহিত করতে শুরু করেন।

শহরের এই ঐতিহাসিক স্থানটি তখন বেশ ভিড় ছিল, এবং তার মন্তব্য শোনার সঙ্গে সঙ্গে সমাবেশে উপস্থিত বিএনপি কর্মীরা তৎক্ষণাৎ প্রতিক্রিয়া জানালেন। তারা শিক্ষককে থামিয়ে নিলেন এবং তার সঙ্গে তর্কে লিপ্ত হলেন।

বিএনপি কর্মীরা জানিয়ে দেন যে, তারা শিক্ষকের মন্তব্যকে রাজনৈতিক হিংসা হিসেবে বিবেচনা করে তাকে স্থান থেকে সরিয়ে নেয়। এরপর তারা শিক্ষকের হাতে পুলিশকে হস্তান্তর করার জন্য স্থানীয় নিরাপত্তা গোষ্ঠীর সঙ্গে সমন্বয় করেন।

শাহবাগ পুলিশ স্টেশনের অফিসার-ইন-চার্জ মো. মনিরুজ্জামান ঘটনাটি সম্পর্কে জানিয়ে বলেন, শিক্ষকের মন্তব্যের ফলে জনসমক্ষে তর্ক ও অশান্তি সৃষ্টি হয়েছে। তিনি যোগ করেন, স্থানীয় কর্মীরা শিক্ষকের ওপর প্রাথমিকভাবে নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর তাকে পুলিশে হস্তান্তর করা হয়।

পুলিশের মতে, শিক্ষকের ওপর ধারা ৫৪ (ধর্মীয়, জাতিগত, বর্ণগত বা জাতীয় গোষ্ঠীর প্রতি ঘৃণা উস্কে দেওয়া) অনুযায়ী গ্রেফতার করা হয়েছে। এই ধারা সাধারণত অবমাননাকর ও হিংসাত্মক বক্তব্যের জন্য ব্যবহৃত হয়।

শাহবাগের স্থানীয় আদালতে শিক্ষকের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয় এবং আদালত তাকে জেলখানায় পাঠানোর আদেশ দেয়। আদালতের রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জনসমক্ষে রাজনৈতিক নেতার প্রতি আপত্তিকর শব্দ ব্যবহার করা আইনগত শাস্তির আওতায় পড়ে।

বিএনপি কর্মীরা এই ঘটনার পর একটি অতিরিক্ত মন্তব্য করেন যে, জামায়াতে ইসলামের সঙ্গে কোনো ধরনের জোট গঠন করা হলে তাদের নৈতিক অবস্থান দুর্বল হয়ে যাবে। তারা এই বক্তব্যকে রাজনৈতিক স্বচ্ছতা ও নৈতিকতা রক্ষার দিক থেকে উল্লেখযোগ্য বলে প্রকাশ করেন।

তরিক রহমান, যিনি বর্তমানে বিএনপির কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, এই ঘটনার পর কোনো সরাসরি মন্তব্য করেননি। তবে তার রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা শিক্ষকের মন্তব্যকে ‘অবৈধ ও অনুপযুক্ত’ বলে নিন্দা করেছেন।

এই ঘটনার পর শিক্ষাক্ষেত্রের কিছু সদস্য উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, শিক্ষকদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা সীমাবদ্ধ হতে পারে। তবে পুলিশ ও আদালত উভয়ই আইনগত প্রক্রিয়ার ভিত্তিতে কাজ করার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে।

সামগ্রিকভাবে, ঘটনাটি রাজনৈতিক উন্মাদনা ও জনসমক্ষে অবমাননাকর বক্তব্যের সীমা নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং বিচারিক প্রতিষ্ঠান যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।

এই ঘটনার পরবর্তী তদন্ত ও আদালতের রায়ের ভিত্তিতে শিক্ষকের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত শাস্তি আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আরও তথ্য পাওয়া গেলে তা জনসাধারণের সঙ্গে শেয়ার করা হবে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments