28 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকইসরায়েলি সেনাবাহিনী কাবাতিয়ায় বাড়ি দখল, পূর্ণ কার্গো আরোপ

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী কাবাতিয়ায় বাড়ি দখল, পূর্ণ কার্গো আরোপ

ইসরায়েলি সেনাবাহিনী শনি­বার কাবাতিয়া শহরে ব্যাপক গৃহ দখল ও গৃহস্থদের জোরপূর্বক বহিষ্কার করে, একই সঙ্গে পুরো শহরে কঠোর কার্গো আরোপ করে। এই পদক্ষেপটি ইসরায়েল প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইসরায়েল কাটজের নির্দেশে চালু করা সামরিক অভিযানটির দ্বিতীয় দিন। কাবাতিয়া পশ্চিম তীরের অধিগ্রহণকৃত অংশে অবস্থিত, যেখানে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক হামলার অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রের মতে, সেনাবাহিনী শহরের প্রধান প্রবেশদ্বারগুলো বন্ধ করে, বাসিন্দাদের ঘরে ঘরে ঘুরে গিয়ে জোরপূর্বক আটক করে এবং প্রশ্নোত্তর সেশনের জন্য কয়েকটি বাড়িকে সামরিক জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্র হিসেবে রূপান্তর করে। এই প্রক্রিয়ায় বহু পরিবার তাদের বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র যাওয়ার বাধ্য হয়।

পশ্চিম তীরের ওয়াফা সংবাদ সংস্থা জানায়, জিজ্ঞাসাবাদ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা বাড়িগুলোতে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে তৎক্ষণাৎ স্থানান্তর করা হয়েছে। এই বাড়িগুলোকে সামরিক ব্যবহারে রূপান্তর করার ফলে বাসিন্দাদের মৌলিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে।

ইসরায়েলি সেনা রেডিও জানিয়েছে, কাবাতিয়ায় এখন “পূর্ণ কার্গো” কার্যকর করা হয়েছে, যা রাতের বেলা পর্যন্ত চলমান এবং কোনো গৃহস্থের চলাচল সীমাবদ্ধ করে। এই কার্গোতে গৃহস্থদের চলাচল, যানবাহন চলাচল এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রম সবই নিষিদ্ধ।

এই কঠোর পদক্ষেপের পেছনে ইসরায়েল প্রতিরক্ষা মন্ত্রী কাটজের একটি আদেশ রয়েছে, যেখানে তিনি কাবাতিয়াকে “শক্তিশালীভাবে” মোকাবেলা করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, কাবাতিয়ার একজন বাসিন্দা উত্তর ইসরায়েলে ঘটিত ছুরি ও গাড়ি ধাক্কা হামলার সন্দেহভাজন।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী শুক্রবার একটি বিবৃতি দিয়ে জানায়, বহু বিভাগীয় সৈন্য, সীমান্ত পুলিশ এবং শিনবেট নিরাপত্তা সেবার সদস্যদের কাবাতিয়ায় পাঠানো হয়েছে। তারা সন্দেহভাজন আক্রমণকারীর বাড়িতে আক্রমণ করে, এবং তা ধ্বংসের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন থেকে ইসরায়েলি নীতি, যেখানে সন্দেহভাজন আক্রমণকারীর পরিবারের বাড়ি ধ্বংস করা হয়, তা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং সমষ্টিগত শাস্তি হিসেবে নিন্দা করে আসছে। এই সংস্থাগুলো বিশেষ করে এই ধরনের ধ্বংসকে অপরাধমূলক বলে উল্লেখ করে।

সামরিক বাহিনী আরও জানায়, তারা গ্রামটির অতিরিক্ত স্থানগুলো স্ক্যান করবে, সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের গ্রেফতার করবে এবং অস্ত্রের সন্ধান করবে। এই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বাড়িগুলোকে অনুসন্ধান করা হবে এবং সম্ভাব্য অস্ত্র লুকিয়ে রাখার স্থানগুলো চিহ্নিত করা হবে।

একজন কাবাতিয়া বাসিন্দা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “শহরে ভয় ছড়িয়ে আছে। ইসরায়েলি হুমকি এবং উস্কানির মুখে আমরা নিরাপদ বোধ করছি না।” তিনি আরও যোগ করেন, “কার্গো এবং বাড়ি দখল আমাদের দৈনন্দিন জীবনে বিশাল বাধা সৃষ্টি করেছে।”

কাবাতিয়ার পাশাপাশি, পশ্চিম তীরের অন্যান্য গ্রামগুলোতেও একই রকম আক্রমণ চালানো হয়েছে। হেব্রনের নিকটবর্তী দুরা, আবদা এবং ইমরিশ গ্রামগুলোতে আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই গ্রামগুলোতে সামরিক বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্কের স্রোত বাড়ছে।

পশ্চিম তীরের ওপর ইসরায়েলি সামরিক অভিযানগুলো সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রায় দৈনন্দিন রূপে পরিণত হয়েছে। প্রতিটি অভিযান স্থানীয় জনগণের জীবনে অস্থিরতা ও মানবিক সংকটের সৃষ্টি করে, এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়ায়। এই ধরনের কার্যক্রমের ফলে ভবিষ্যতে শান্তি প্রক্রিয়ার ওপর প্রভাব পড়তে পারে এবং অঞ্চলীয় নিরাপত্তা কাঠামোতে নতুন চ্যালেঞ্জ উত্থাপিত হতে পারে।

৮৯/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: আল জাজিরা
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments