বাশুন্ধরা কিংস এবং আবাহনী দু’দল শনিবার কিংস আরেনায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ফুটবল লিগের ম্যাচে ২-২ সমান স্কোরে শেষ করেছে। ম্যাচের শুরুর পাঁচ মিনিটেই কিংসের দ্রুত আক্রমণ কাজ করে, যখন আবাহনীর মিডফিল্ডার ইয়াসিন খান ভুল পাস দেন এবং ব্রাজিলীয় ফরোয়ার্ড ডোরিয়েলটন গোমেজ বলটি দখল করে রাকিব হোসেনকে সঠিক থ্রু পাস দেন। রাকিবের ক্লিনিক্যাল ফিনিশে প্রথম গোলটি নেমে আসে, যা কিংসকে প্রারম্ভিক সুবিধা দেয়।
ডোরিয়েলটন আবারই সৃষ্টিকর্তা ভূমিকা পালন করেন, ষোলো মিনিটে ডিফেন্ডারকে পেরিয়ে বলটি এমমানুয়েল সানডে-কে দেন, যিনি সহজে গলে গুলি করে স্কোর দ্বিগুণ করেন। এভাবে কিংসের দুই গোলের আগে দু’গোলের ব্যবধানে ম্যাচটি চলছিল।
আবাহনী তৃতীয় মিনিটে প্রতিক্রিয়া জানায়। ফরোয়ার্ড মিরাজুল ইসলাম পেনাল্টি এলাকায় ফাউল হওয়ার পর দিয়াবাতে শান্তভাবে পেনাল্টি নিক্ষেপ করে গোলের সমতা বজায় রাখে। এই গোলটি দলকে আত্মবিশ্বাসের সঞ্চার করে এবং ম্যাচের গতি পরিবর্তনের সূচনা করে।
প্রথমার্ধের শেষের দিকে, দিয়াবাতে মিডফিল্ড থেকে দীর্ঘ পাস দেন, যা মিরাজুলের ডান ফ্ল্যাঙ্কে পৌঁছে। মিরাজুল বলটি নিয়ন্ত্রণ করে বক্সের ভিতরে প্রবেশ করে, শীখ মোরসালিনের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত পারস্পরিক ক্রিয়া শেষে দিয়াবাতে নিজে শুট করে দ্বিতীয় গোল সম্পন্ন করেন। এই গোলটি আবাহনীর সমতা পুনরুদ্ধার করে এবং ম্যাচকে পুনরায় উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছে।
দ্বিতীয়ার্ধে ৭০তম মিনিটে আবাহনী আরেকটি পেনাল্টি সুযোগ পায়। দিয়াবাতে আবারই দায়িত্ব নেন, তবে কিংসের গোলরক্ষক অনিসুর রহমান জিকো চমৎকার সেভ করে গোলটি রোধ করেন। এই রক্ষকীয় শট দলকে ভাগাভাগি পয়েন্টে আটকে রাখে।
ম্যাচের শেষের দিকে, কিংসের ডিফেন্ডার বিষ্ণু গোষ্ঠী গোহো শেষ মুহূর্তে মাঠে নামেন, যা তার দুই বছরের দীর্ঘ আঘাতের পর প্রথম পেশাদার উপস্থিতি। যদিও তিনি বড় কোনো প্রভাব ফেলতে পারেননি, তবে তার ফিরে আসা দলের জন্য ইতিবাচক সংকেত বহন করে।
এই ড্রের ফলে কিংস টেবিলে আটটি ম্যাচে ১৭ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে অবস্থান বজায় রাখে, যেখানে আবাহনী পঞ্চম স্থানে ১০ পয়েন্ট নিয়ে রয়েছে। পূর্বে কিংসের পুলিশ দলের বিরুদ্ধে পরাজয় ছিল, তাই এই ড্রটি তাদের শীর্ষস্থান রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
ম্যাচের পরপরই উভয় দল পরবর্তী প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি নিতে হবে। কিংসের পরবর্তী ম্যাচে তারা আবারও শীর্ষে থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট সংগ্রহের লক্ষ্য রাখবে, আর আবাহনী তাদের পয়েন্ট বাড়িয়ে টেবিলের অবস্থান উন্নত করার চেষ্টা করবে।
এই ম্যাচে দু’দলই আক্রমণাত্মক খেলায় মনোনিবেশ করেছে, তবে শেষ মুহূর্তের পেনাল্টি সেভ এবং দিয়াবাতে দু’গোলের পারফরম্যান্স ম্যাচের মূল আকর্ষণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উভয় দলের কোচও খেলোয়াড়দের প্রচেষ্টা ও শৃঙ্খলা প্রশংসা করেছেন, যদিও পেনাল্টি সুযোগের ব্যবহার নিয়ে কিছুটা সমালোচনা করা হয়েছে।
কিংস আরেনা স্টেডিয়ামের উজ্জ্বল আলোয় এই উত্তেজনাপূর্ণ ড্রটি ভক্তদের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে, এবং ভবিষ্যতে দুই দলের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও তীব্র হতে পারে।



