ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দরিদুল আলম আজকের শুনানিতে দুই সন্দেহভাজনকে জেল শাস্তি প্রদান করেন। মামলাটি প্রথম আলোর সদর দফতরে সংঘটিত ধ্বংস, অগ্নিকাণ্ড এবং লুটপাটের সঙ্গে সম্পর্কিত, যা ২২ ডিসেম্বর ঘটেছিল। আদালত আদেশের পর পুলিশ দুজনকে আদালতে উপস্থিত করে তাদের আটক নিশ্চিত করে।
ম্যাজিস্ট্রেট দরিদুল আলমের রায়ে রুবেল হোসেন, ৩৮ বছর বয়সী এবং নাজমুল হাসান, ২১ বছর বয়সী, দুজনকে জেল পাঠানোর অনুমোদন দেয়া হয়। দুজনকে গতকাল ঢাকার পল্লবী এলাকায় গৃহে আটক করা হয় এবং পরবর্তীতে আদালতে হাজির করা হয়।
আক্রমণের জন্য দায়ী করা হয়েছে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ অজানা ব্যক্তি, যাদের বিরুদ্ধে পেনাল কোড, অ্যান্টি-টেররিজম আইন, স্পেশাল পাওয়ারস অ্যাক্ট এবং সাইবার সিকিউরিটি অর্ডিন্যান্সের অধীনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার দায়িত্ব গ্রহণ করেন প্রোথোম আলোর নিরাপত্তা প্রধান, রিটায়ার্ড মেজর সাজ্জাদুল কবির, যিনি তেজগাঁও থানা-তে অভিযোগ দায়ের করেন।
প্রোথোম আলোর দফতরে আক্রমণের মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রকাশনা সংস্থাকে ভয় দেখানো, সম্পদ নষ্ট করা, কাজের ধারাবাহিকতা ব্যাহত করা এবং সংবাদ প্রকাশে বাধা সৃষ্টি করা। মামলার নথিতে উল্লেখ আছে যে, এই কাজটি প্রকাশনাকে দমন করার লক্ষ্যে করা হয়েছিল।
আক্রমণের ফলে লুটপাটের মাধ্যমে প্রোথোম আলোর সম্পদের মূল্য আনুমানিক ২.৫০ কোটি টাকা নির্ধারিত হয়েছে। একই সঙ্গে ধ্বংস এবং অগ্নিকাণ্ডের ফলে মোট ক্ষতি প্রায় ৩২ কোটি টাকার কাছাকাছি হয়েছে। এই পরিমাণের ক্ষতি দেশের অন্যতম প্রধান সংবাদমাধ্যমের জন্য বিশাল ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই মামলার আগে, ঢাকা শহরে দৈনিক স্টার এবং প্রোথোম আলোর অফিসে সংঘটিত দুটি পৃথক আক্রমণ সংক্রান্ত মোট ৩২ জনকে জেল শাস্তি দেওয়া হয়েছিল। এই পূর্ববর্তী শাস্তি মামলাটির আইনি প্রেক্ষাপটকে আরও দৃঢ় করে এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের কঠোর শাস্তির বার্তা দেয়।
অন্যদিকে, রাজনীতিবিদ তরিক রহমান ১৯ বছর পর তার পিতার কবরের পাশে প্রার্থনা করেন। তিনি এই সময়ে নির্বাচনী তহবিল সংগ্রহে প্রাপ্ত অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন, যা দেশের রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করেছে।
মামলাটি এখন পরবর্তী শুনানির দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তদন্তকারী সংস্থা অতিরিক্ত প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের বিরুদ্ধে আরও আইনি পদক্ষেপের সম্ভাবনা রয়েছে। আদালতের পরবর্তী তারিখ নির্ধারিত হলে, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে উপস্থিত হতে হবে এবং মামলার চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষা করতে হবে।



