23 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeরাজনীতিধর্মীয় ও জাতিগত রাজনীতি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করবে বলে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য সতর্ক

ধর্মীয় ও জাতিগত রাজনীতি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করবে বলে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য সতর্ক

শুক্রবার সন্ধ্যায় সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘সংখ্যালঘুদের মানবাধিকার: বর্তমান বাস্তবতা ও প্রত্যাশা’ শীর্ষক গোলটেবিল সংলাপে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশের আহ্বায়ক ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য ধর্মীয় ও জাতিগত ভিত্তিক রাজনীতির দেশীয় অগ্রগতিতে সৃষ্ট হুমকি তুলে ধরেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এ ধরনের বিভাজন শেষ পর্যন্ত দেশের সার্বভৌমত্ব, সামাজিক সংহতি এবং অর্থনৈতিক শক্তিকে ক্ষয় করবে।

ড. ভট্টাচার্য বাংলাদেশের নীতিনির্ধারণে ধর্মীয় পরিচয়কে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হলে তা দেশের স্বাধীনতা ও আন্তর্জাতিক অবস্থানকে দুর্বল করবে বলে সতর্ক করেন। তিনি বলেন, ধর্মভিত্তিক বিভাজন কেবল অভ্যন্তরীণ শাসনব্যবস্থার ওপর প্রভাব ফেলবে না, বরং বৈশ্বিক মঞ্চে দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

বক্তা উল্লেখ করেন, ধর্মীয় সংখ্যালঘু বা জাতিগত গোষ্ঠীর মধ্যে নিরাপত্তা বোধের অভাব এখন কেবল তাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি নারী, দার্শনিক চিন্তাবিদ, ট্রান্সজেন্ডার কমিউনিটি, আহমদিয়া সম্প্রদায়সহ বিভিন্ন গোষ্ঠীর জন্যও বাস্তবতা। এই বিস্তৃত নিরাপত্তাহীনতা সামাজিক সংহতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ড. ভট্টাচার্য আরও জানান, ভারতের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রতি আচরণ বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। তিনি উল্লেখ করেন, ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে ক্রিসমাসের সময় খ্রিস্টানদের ওপর সহিংসতা ঘটেছে, যা বাংলাদেশের সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর জন্য অনুকরণীয় আচরণকে উৎসাহিত করতে পারে।

বক্তা জোর দিয়ে বলেন, যদি এই ধরনের বিভাজনমূলক রাজনীতি অব্যাহত থাকে, তবে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং জাতীয় গর্বের ধারণা অসম্পূর্ণ রয়ে যাবে। তিনি নতুন একতাবোধের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন, তা না হলে দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়বে।

সংলাপের আয়োজন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ করেছে এবং এতে বিভিন্ন ধর্মীয় সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। আলোচনায় সংখ্যালঘুদের মানবাধিকার, বর্তমান বাস্তবতা এবং ভবিষ্যৎ প্রত্যাশা নিয়ে বিস্তৃত মতবিনিময় হয়।

ড. ভট্টাচার্য উল্লেখ করেন, নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ এখন কেবল ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি নারীর নিরাপত্তা, দার্শনিক ও বৌদ্ধিক চিন্তাবিদ, ট্রান্সজেন্ডার সম্প্রদায় এবং আহমদিয়া মত গোষ্ঠীর জন্যও সমানভাবে প্রযোজ্য। এই বিস্তৃত নিরাপত্তাহীনতা দেশের সামাজিক সংহতিকে ক্ষুণ্ণ করার ঝুঁকি তৈরি করছে।

তিনি আরও বলেন, ভারতের সংখ্যালঘুদের প্রতি সহিংসতা এবং বৈষম্য বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে খ্রিস্টানদের বড়দিনের সময় ঘটে যাওয়া সহিংসতা, যা প্রতিবেশী দেশের নীতি ও আচরণকে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের ওপর প্রভাবিত করতে পারে।

বক্তা উল্লেখ করেন, এই ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বাংলাদেশের সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর মধ্যে আত্মবিশ্বাসের ক্ষতি ঘটাতে পারে এবং সামাজিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সুষ্ঠুতা বজায় রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।

ড. ভট্টাচার্য শেষ করে বলেন, যদি নতুন একতাবোধ গড়ে তোলা না যায়, তবে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং দেশপ্রেমের ধারণা অসম্পূর্ণ রয়ে যাবে। তিনি দেশের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির জন্য সংহতি ও ঐক্যের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন।

সংলাপের শেষে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফিরে সংক্ষিপ্ত বক্তৃতা উল্লেখ করা হয়। তারেক রহমান নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলার কথা বলেন, যা ড. ভট্টাচার্যও নিরাপত্তা বিষয়ের গুরুত্বের সঙ্গে পুনরায় জোর দেন। উভয়েই দেশের নিরাপত্তা ও সংহতি নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।

৯২/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: প্রথম আলো
রাজনীতি প্রতিবেদক
রাজনীতি প্রতিবেদক
AI-powered রাজনীতি content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments