চুয়াডাঙ্গা জেলার দারশানা সীমান্তে শুক্রবার রাত ৭:৩০ থেকে ৮:০০ টার মধ্যে ১৪ জনকে সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিবিজি) আটক করেছে। দারশানা বাস স্ট্যান্ডের নিকটে এই দলটি হঠাৎ করে অচেনা অবস্থায় দেখা যায় এবং পরে তাদেরকে বাংলাদেশে প্রবেশের জন্য ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ধাক্কা দিয়ে ঠেলে দেয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
অধিকাংশের মধ্যে চারজন শিশু এবং পাঁচজন নারী অন্তর্ভুক্ত। স্থানীয় বাসিন্দারা দেখেন যে দলটি খাবার, কম্বল এবং প্রয়োজনীয় ওষুধের অভাবে ভুগছে। তারা তৎক্ষণাৎ খাবার, কম্বল এবং মৌলিক চিকিৎসা সামগ্রী সরবরাহ করে, যাতে অস্থায়ীভাবে তাদের তাড়া-দৌড়ে থাকা অবস্থা কিছুটা শমিত হয়।
স্থানীয় মিডিয়া সংস্থার কাছে তথ্য পৌঁছানোর পর বিবিজি দ্রুত পদক্ষেপ নেয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতদের মতে, তারা ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর সদস্যদের দ্বারা বাধ্য হয়ে দারশানা সীমান্তে ধাক্কা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করানো হয়।
গ্রেপ্তারের সময় কোনো পরিচয়পত্র বা নাগরিকত্বের প্রমাণ পাওয়া যায়নি, ফলে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা এখনো সম্ভব হয়নি। দলটি দাবি করে যে তারা ওড়িশা রাজ্যের বাসিন্দা এবং হিন্দি ভাষায় কথা বলে। এই তথ্যের ভিত্তিতে বিবিজি তাদের পরিচয় যাচাইয়ের জন্য অতিরিক্ত তদন্ত চালিয়ে যাবে।
দারশানা থানা পুলিশ অফিসার-ইন-চার্জের মতে, এই ব্যক্তিরা ওড়িশার সরকারী জমিতে বসবাস করছিল। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের আদেশে তাদের বাসস্থান থেকে সরিয়ে নেওয়ার পর, তারা কয়েক দিন জেলখানায় রাখা হয় এবং পরে বিএসএফের হস্তান্তরে যায়। এরপর বিএসএফ তাদেরকে সীমান্ত পার করে বাংলাদেশে ঠেলে দেয়।
বিবিজি এখন তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অপেক্ষায় রয়েছে। যদি বিএসএফের সঙ্গে কোনো সমঝোতা হয়, তবে এই ১৪ জনকে তাদের মূল দেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে; অন্যথায়, তাদের আদালতে হাজির করা হবে।
সীমান্তে এমন ঘটনার আইনি দিকটি জটিল। আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন এবং দু’দেশের দ্বিপাক্ষিক চুক্তি অনুসারে, সীমান্ত পারাপারের সময় কোনো ব্যক্তিকে জোরপূর্বক প্রবেশ করানো হলে তা মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। একই সঙ্গে, নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর দায়িত্ব হল সীমান্তে অবৈধ প্রবেশ রোধ করা, যা কখনও কখনও মানবিক দিক থেকে সমস্যার সৃষ্টি করে।
বিবিজি কর্তৃপক্ষের মতে, গ্রেপ্তারের পরপরই দারশানা বাস স্ট্যান্ডের আশেপাশে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে এবং স্থানীয় জনগণকে সতর্ক করা হয়েছে যে, অনধিকার প্রবেশের ক্ষেত্রে অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।
এই ঘটনার পর, দু’দেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা জোর দিয়ে বলা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন যে, সীমান্তে মানবিক সহায়তা এবং নিরাপত্তা রক্ষার মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখা জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে এধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি না হয়।
বিবিজি এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তারের কারণ, গ্রেপ্তারের সময়ের শর্তাবলী এবং গ্রেপ্তারের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্পষ্ট বিবরণ দেয়নি। তবে তারা নিশ্চিত করেছে যে, সকল ধাপই দেশের আইন অনুযায়ী সম্পন্ন হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ন্যায়সঙ্গত বিচার নিশ্চিত করা হবে।



