ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আজ বাংলাদেশ ফটো সাংবাদিক সমিতি (BPJA) আয়োজন করা প্রতিবাদ র্যালিতে সাংবাদিক ইউনিয়নগুলো একত্রিত হয়ে দৈনিক স্টার ও প্রথম আলোর ওপর সাম্প্রতিক আক্রমণের দায়ী ব্যক্তিদের দ্রুত বিচার দাবি করেছে। র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে মধ্যাহ্নে, যেখানে সমিতির সভাপতি এ.কে.এম. মোহসিনের নেতৃত্বে বিভিন্ন সাংবাদিক সংস্থার নেতারা মঞ্চে উঠে তাদের মতামত প্রকাশ করেন।
সমাবেশে উপস্থিত প্রধান অতিথি কাদের গনি চৌধুরী, যিনি বাংলাদেশের ফেডারেল ইউনিয়ন অব জার্নালিস্টসের একটি শাখার সচিব সাধারণ, তিনি ঘটনার ধ্বংসাত্মক দিক তুলে ধরে বলেন যে, আগুনের শিখা স্টার ও প্রথম আলোর ভবনে ছড়িয়ে পড়ে বহু কর্মীকে আতঙ্কিত করে তুলেছিল। তিনি উল্লেখ করেন, এক কর্মীকে ছাদে আশ্রয় নিতে হয়েছিল এবং তার চিৎকার পুরো শহরের মনোযোগ আকর্ষণ করে।
চৌধুরী আরও জোর দিয়ে বলেন, এমন হিংসা কোনো সভ্যতা বা মানবিকতার পরিচয় নয় এবং এটি গণতন্ত্রের ওপর সরাসরি আক্রমণ। তিনি সরকারের কাছে আহ্বান জানান যে, এই ধরনের কাজকে দেশদ্রোহী কাজ হিসেবে গণ্য করে দায়ী ব্যক্তিদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হোক, নতুবা ভবিষ্যতে অনুরূপ অপরাধ বাড়তে পারে।
প্রথম আলোর অনলাইন বিভাগীয় উপ-প্রধান শাওকত হোসেন মাসুম র্যালিতে তার মতামত জানান যে, পূর্বে আক্রমণকারীরা সুরক্ষামূলক হেলমেট পরিধান করতেন, তবে এইবার তারা মুখোশ না পরায় স্পষ্ট করে দেখিয়েছে যে, তারা আইনগত দায় থেকে মুক্তি পাবে বলে তারা আত্মবিশ্বাসী। তিনি দাবি করেন, আক্রমণের পেছনে শুধু প্রকাশের স্বাধীনতা দমন নয়, বরং সাংবাদিকদের শারীরিক নিরাপত্তা হুমকির মুখে আনা একটি পরিকল্পনা রয়েছে।
র্যালির মডারেটর মোহসিনের নেতৃত্বে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বও বক্তব্য রাখেন। ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শাহিদুল ইসলাম, প্রথম আলোর সহ-সম্পাদক লজ্জাত এনাব মাহশি, দৈনিক স্টারের প্রধান ফটোগ্রাফার আনিসুর রহমান, BPJA-র সাধারণ সম্পাদক বাবুল তালুকদার ইত্যাদি তাদের সমর্থন প্রকাশ করেন। সবাই একত্রে সরকারকে আহ্বান জানান যে, আক্রমণের দায়ী ব্যক্তিদের সনাক্ত করে দ্রুত গ্রেফতার করা হোক এবং আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হোক।
এই প্রতিবাদ র্যালি, সাম্প্রতিক মিডিয়া আক্রমণের পর ধারাবাহিকভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও প্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য একটি সমন্বিত প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা যায়। অতীতে একই ধরণের আক্রমণে কয়েকজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন এবং সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা দেশের গণমাধ্যমের ওপর আস্থা কমিয়ে দিয়েছে।
সরকারি সূত্র অনুযায়ী, আক্রমণের তদন্তের জন্য একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তবে সাংবাদিক গোষ্ঠী দাবি করে যে, তদন্তের গতি ও স্বচ্ছতা বাড়িয়ে দায়ী ব্যক্তিদের দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা দরকার।
এই র্যালি শেষে উপস্থিত সাংবাদিকরা একসাথে একটি চিঠি প্রস্তুত করে জাতীয় প্রেস ক্লাবের প্রধানের কাছে জমা দেন, যেখানে তারা পুনরায় দায়ী ব্যক্তিদের সনাক্তকরণ, গ্রেফতার এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য সরকারের ত্বরিত পদক্ষেপের আহ্বান জানায়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মিডিয়া আক্রমণকে দমন করা না হলে দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়বে।
অধিকন্তু, র্যালিতে উপস্থিত ফটো সাংবাদিকরা তাদের ক্যামেরা ও সরঞ্জাম ব্যবহার করে ঘটনার ছবি ও ভিডিও রেকর্ড করেন, যা পরবর্তীতে মিডিয়া ও মানবাধিকার সংস্থার কাছে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হবে। তারা জোর দিয়ে বলেন, স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করতে সব প্রমাণ সংরক্ষণ করা জরুরি।
সামগ্রিকভাবে, আজকের প্রতিবাদ র্যালি সাংবাদিক সম্প্রদায়ের ঐক্য ও দৃঢ়সংকল্পের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তারা একত্রে সরকারের ওপর দায়িত্ব আরোপ করে দাবি করেন যে, মিডিয়া আক্রমণের পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর আইন প্রয়োগ এবং সংশ্লিষ্ট দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। এই ধরনের সমন্বিত আন্দোলন ভবিষ্যতে মিডিয়া স্বাধীনতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা যায়।



