যুক্তরাজ্য থেকে ফিরে গুলশানের বাড়িতে আসা তারেক রহমান, ঢাকা‑১৭ আসনের অন্তর্ভুক্ত ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ১৯ নং ওয়ার্ডে ভোটার নিবন্ধনের আবেদন করেছেন। তারেকের পাশে বসুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতালে অসুস্থ অবস্থায় থাকা তার মা, বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া, আছেন। ইসির সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, তারেক ও তার কন্যা জাইমা উভয়েই একই ওয়ার্ডে ভোটার হওয়ার জন্য আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন।
এই ওয়ার্ডটি ঢাকা‑১৭ সংসদীয় আসনের অংশ, যেখানে বর্তমানে বিএনপি ও বিজেপির মধ্যে পার্থক্যপূর্ণ আলোচনার সূত্র রয়েছে। বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থকে বিএনপি ত্যাগ করে অন্য পার্টিতে যোগদানের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে; তিনি ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি জোটের প্রার্থী ছিলেন। স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হতে হলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ভোটার হওয়া বাধ্যতামূলক, তবে সংসদীয় নির্বাচনে এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই, ফলে যে কেউ দেশের যেকোনো আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারেন।
সকালবেলা তারেক নিরাপত্তা ব্যবস্থার তীব্র তত্ত্বাবধানে গুলশানের বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেছেন। গত দুই দিন তিনি লাল‑সবুজ রঙে সজ্জিত বাসে যাত্রা করেননি; পরিবর্তে সাদা রঙের একটি এসইউভি ব্যবহার করে গেছেন, যা ফুলে সজ্জিত ছিল। গাড়ির সামনে ড্রাইভারের পাশে তারেক বসে, পেছনের সিটে তার স্ত্রী জুবাইদা এবং কন্যা জাইমা ছিলেন। গন্তব্যে পৌঁছে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার শহীদ ওসমান হাদির কবরের দিকে গিয়ে জিয়ারত করেছেন, এরপর আগারগাঁওয়ের দিকে রওনা হন।
বনানী কবরস্থানে গিয়ে তিনি ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোর সমাধি পরিদর্শন করেন। এই সফরটি তারেকের পারিবারিক দায়িত্ব ও রাজনৈতিক উপস্থিতি দুটোই প্রকাশ করে; কবরস্থানে তার উপস্থিতি পরিবারিক শোকের পাশাপাশি তার রাজনৈতিক নেটওয়ার্ককে দৃঢ় করার একটি সূচক হিসেবে দেখা যেতে পারে।
ইসির সিদ্ধান্তের অপেক্ষা চলাকালে তারেকের ভোটার নিবন্ধন আবেদন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ। যদি তার আবেদন অনুমোদিত হয়, তিনি গুলশানের বাসিন্দা হিসেবে স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করবেন, যা তার রাজনৈতিক প্রোফাইলকে শক্তিশালী করবে। অন্যদিকে, যদি আবেদন প্রত্যাখ্যান হয়, তবে তার পারিবারিক ও রাজনৈতিক প্রভাবের সীমা পুনরায় নির্ধারিত হতে পারে।
বিএনপি ও বিজেপি উভয়ই গুলশান ও আশেপাশের ভোটার তালিকাকে কৌশলগতভাবে ব্যবহার করতে চায়। খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য অবস্থা ও তার অসুস্থতার কারণে গুলশানে তার উপস্থিতি সীমিত হলেও, তার পুত্রের ভোটার নিবন্ধন তার পারিবারিক প্রভাবকে স্থানীয় স্তরে পুনরুজ্জীবিত করতে পারে। একই সঙ্গে, বিজেপি চেয়ারম্যানের সম্ভাব্য পার্টি পরিবর্তন গুলশানের রাজনৈতিক গতিপথে নতুন দিকনির্দেশনা আনতে পারে।
ইসির আগামীকাল নিকটস্থ সিদ্ধান্ত গুলশানের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন গতিশীলতা যোগ করবে। ভোটার নিবন্ধন অনুমোদিত হলে, তারেকের ভবিষ্যৎ নির্বাচনী পরিকল্পনা, সম্ভাব্য প্রার্থীতা এবং তার পারিবারিক নেটওয়ার্কের প্রভাবের পরিধি স্পষ্ট হবে। অন্যদিকে, প্রত্যাখ্যানের ফলে গুলশানের ভোটার তালিকায় তার উপস্থিতি সীমিত থাকবে, যা স্থানীয় রাজনৈতিক গঠনকে প্রভাবিত করবে।
এই ঘটনাটি গুলশান ও ঢাকা‑১৭ আসনের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে পারিবারিক সম্পর্ক, স্বাস্থ্য অবস্থা এবং পার্টি গঠন একসঙ্গে গড়ে তুলছে ভবিষ্যৎ নির্বাচনের সম্ভাবনা।



