কুষ্টিয়া শহরে আজ বিকেল প্রায় ২:৩০ টায় শারিফ ওসমান হাদির হত্যার ন্যায়বিচার চাওয়া প্রতিবাদকারীরা রোড ব্লকেড স্থাপন করে। হাদি, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং ঢাকা‑৮ নির্বাচনের প্রার্থী, গত বছর গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকে তার পরিবার ও সমর্থকরা ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়ে আসছেন। “কুষ্টিয়া জনসাধারণ” শিরোনামের তলে সংগঠিত দলটি শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়াম থেকে মঝামপুর গেট পর্যন্ত একটি শোভাযাত্রা শুরু করে, যা শহরের প্রধান চৌরাস্তা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে। এই শোভাযাত্রা রাস্তায় গাড়ি চলাচল থামিয়ে দেয় এবং কুষ্টিয়া‑ঝিনাইদহ ও ইশ্বরদী মহাসড়কে গতি বন্ধ হয়ে যায়।
প্রতিবাদকারীরা মঝামপুর গেটের কাছে বসে রোড ব্লকেড বজায় রাখে, ফলে দুই দিকের মহাসড়কে দীর্ঘ গাড়ি জ্যাম সৃষ্টি হয়। হাজারো গাড়ি ও বাসের যাত্রীদের চলাচল আটকে যায়, যা সাধারণ যাতায়াতের জন্য বড় অসুবিধা তৈরি করে। গাড়ি চালকদের মধ্যে বিরক্তি বাড়লেও, প্রতিবাদকারীরা তাদের দাবি পুনরায় জোর দিয়ে থাকে।
শহরের কেন্দ্রীয় চৌরাস্তায় শোভাযাত্রার সময় demonstrators বিভিন্ন স্লোগান গাইতে থাকে, যার মধ্যে রয়েছে ভারত ও আওয়ামী লীগকে সমালোচনা করা স্লোগান। তারা হাদির হত্যার দায়ী ব্যক্তিদের জন্য কঠোর শাস্তি এবং উদাহরণস্বরূপ শাস্তি চায়। এই স্লোগানগুলো প্রতিবাদকারীদের ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছতা চাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে।
প্রতিবাদকারীরা জানিয়েছে, হাদির হত্যার মামলায় যথাযথ তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত তারা শোভাযাত্রা চালিয়ে যাবে। তারা বিশেষভাবে গৃহ বিষয় ও আইন পরামর্শদাতার কাছ থেকে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি চায়, যাতে মামলাটি দ্রুত ও ন্যায়সঙ্গতভাবে সমাধান হয়।
হাদির হত্যার তদন্তে এখন পর্যন্ত কোনো দোষী সাব্যস্ত হয়নি, তবে পরিবার ও সমর্থকরা ধারাবাহিকভাবে ন্যায়বিচার দাবি করে আসছেন। এই প্রতিবাদে হাদির পরিবার বা কোনো সরকারি কর্মকর্তার সরাসরি মন্তব্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারী কিছু লোকের মতে, হাদির হত্যার পেছনে রাজনৈতিক স্বার্থের প্রভাব থাকতে পারে, তবে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য বা তদন্তের ফলাফল প্রকাশিত হয়নি।
রোড ব্লকেডের ফলে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ ও ইশ্বরদী মহাসড়কের গাড়ি চলাচল সম্পূর্ণভাবে থেমে যায়, যা স্থানীয় ব্যবসা ও পরিবহন সেবার উপর প্রভাব ফেলে। গাড়ি চালক ও যাত্রীদের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়, ফলে দৈনন্দিন কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটে।
প্রতিবাদকারীরা রোড ব্লকেড বজায় রাখার সময় নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে কোনো সংঘর্ষের রিপোর্ট নেই। তবে গাড়ি চলাচল বন্ধ হওয়ায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের জন্য স্থানীয় পুলিশ কিছু সময়ের জন্য অতিরিক্ত কর্মী মোতায়েন করে।
প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারী দল “কুষ্টিয়া জনসাধারণ” নামের অধীনে কাজ করে, যা স্থানীয় নাগরিকদের স্বার্থ রক্ষার জন্য গঠিত একটি সংগঠন হিসেবে পরিচিত। এই সংগঠনটি হাদির হত্যার ন্যায়বিচার ছাড়া অন্য কোনো রাজনৈতিক এজেন্ডা প্রকাশ করেনি।
প্রতিবাদ চলাকালীন কিছু গাড়ি চালক ও যাত্রীদের মধ্যে বিরোধের সম্ভাবনা থাকলেও, তা বড় মাত্রায় বাড়ে না এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকে।
প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারী কিছু ব্যক্তি হাদির হত্যার মামলায় দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে, গৃহ বিষয় ও আইন পরামর্শদাতার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের ইচ্ছা প্রকাশ করে।
প্রতিবাদ শেষ হওয়ার পরও শোভাযাত্রা ও রোড ব্লকেডের প্রভাব রাস্তায় দীর্ঘ সময়ের জন্য অনুভূত হয়, যা স্থানীয় প্রশাসনের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।
একই সময়ে, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার কন্যা জাইমা রহমান ভোটার নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) প্রাপ্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। এই তথ্যটি রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে উল্লেখযোগ্য, তবে হাদির হত্যার ন্যায়বিচার দাবির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।
কুষ্টিয়ায় রোড ব্লকেডের ফলে সৃষ্ট ট্রাফিক জ্যাম ও যাত্রীদের অসুবিধা স্থানীয় প্রশাসনের জন্য একটি জরুরি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, এবং হাদির ন্যায়বিচার দাবির সঙ্গে যুক্ত সকল পক্ষের কাছ থেকে দ্রুত পদক্ষেপের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।



