বাংলাদেশের সব স্থলবন্দরে সেবা মাশুলে ৫ শতাংশের সমন্বয় করা হয়েছে এবং নতুন হার ১ জানুয়ারি থেকে প্রয়োগ করা হবে। বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের প্রজ্ঞাপনে এই পরিবর্তন ঘোষণা করা হয়েছে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের মূলধারায় প্রভাব ফেলবে।
সর্বজনীনভাবে মাশুলের বৃদ্ধি মানে প্রতিটি সেবা, কর, টোল এবং অন্যান্য ফি পূর্বের তুলনায় ৫ শতাংশ বেশি হবে। এই সমন্বয় দেশের বাণিজ্যিক নীতি ও রাজস্ব সংগ্রহের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
বিশেষত বেনাপোল স্থলবন্দরে ২৭টি ভিন্ন সেবার জন্য আলাদা প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। বেনাপোল দেশের প্রধান রপ্তানি-আমদানি গেটওয়ে হওয়ায় এখানে মাশুলের পরিবর্তন সরাসরি বাণিজ্যিক প্রবাহকে প্রভাবিত করবে।
যাত্রীদের জন্য বেনাপোল বন্দর ব্যবহার করলে ২০২৪ সালে মাশুল ৪৯ টাকা ৭৯ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৫২ টাকা ২৭ পয়সা করা হয়েছে। এই বৃদ্ধি যাত্রীদের ভ্রমণ ব্যয়কে সামান্য বাড়াবে, তবে মোট ভ্রমণ খরচে বড় পরিবর্তন আশা করা যায় না।
বাণিজ্যিক গাড়ি, ট্রাক ও লরির ক্ষেত্রে বেনাপোল বন্দর এখন ১৭৫ টাকা ৯০ পয়সা থেকে ১৮৪ টাকা ৭০ পয়সা পর্যন্ত মাশুল আদায় করবে। এই ৫ শতাংশের বৃদ্ধি লজিস্টিক কোম্পানিগুলোর খরচে প্রভাব ফেলবে এবং সম্ভবত পণ্যের চূড়ান্ত মূল্যে কিছুটা বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে।
মোটর গাড়ি, জিপ, পিকআপ এবং থ্রি-হুইলারের মাশুল ১১০ টাকা ৮২ পয়সা নির্ধারিত হয়েছে। যদিও পূর্বের হার উল্লেখ করা হয়নি, তবে এই ফি বাণিজ্যিক গাড়ির ব্যবহারিক খরচের একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে।
দুইচাকার যানবাহন, যেমন মোটরসাইকেল ও সাইকেলের জন্য নতুন মাশুল ৩৬ টাকা ৯৫ পয়সা নির্ধারিত হয়েছে, যা পূর্বের তুলনায় ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিবর্তন ছোট ব্যবসা ও ব্যক্তিগত ব্যবহারকারীদের জন্য সামান্য অতিরিক্ত ব্যয় সৃষ্টি করবে।
ওজন মাপার যন্ত্র ব্যবহার করে ট্রাক ও লরির জন্য মাশুল ৮৮ টাকা ৬৫ পয়সা নির্ধারিত হয়েছে। এই ফি বাণিজ্যিক লোডের সঠিক পরিমাপ নিশ্চিত করতে এবং নিরাপত্তা মান বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
কাগজপত্র প্রক্রিয়াকরণে মাশুল ১৯৫ টাকা ০৭ পয়সা এবং ইয়ার্ডে কোনো যানবাহন রাতভর থাকলে ১১১ টাকা ৪৯ পয়সা ধার্য করা হবে। এই ফি গুদাম ও পার্কিং ব্যবস্থার ব্যবহারের জন্য অতিরিক্ত আয় নিশ্চিত করবে।
গুদামে পণ্য সংরক্ষণের সময় অনুযায়ী মাশুলের হারও বাড়ানো হয়েছে, যদিও নির্দিষ্ট টারিফ উল্লেখ করা হয়নি। এই পরিবর্তন গুদামদারদের আয় বাড়াবে এবং সংরক্ষণ সময়ের ওপর ভিত্তি করে খরচের স্বচ্ছতা বাড়াবে।
বেনাপোল ব্যতীত অন্যান্য স্থলবন্দরে একই ৫ শতাংশের হার প্রয়োগ করা হয়েছে। যাত্রীদের জন্য মাশুল ৪৯ টাকা ৭৯ পয়সা থেকে ৫২ টাকা ২৭ পয়সা করা হয়েছে, যা বেনাপোলের সমান।
অন্যান্য বন্দরগুলোতে বাস, ট্রাক ও লরির আমদানি ফি ১৫১ টাকা ৬৪ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১৫৯ টাকা ২২ পয়সা করা হয়েছে। মোটর গাড়ি ও জিপের মাশুল ৯৫ টাকা ৫২ পয়সা এবং দুইচাকার যানবাহনের জন্য ৪৭ টাকা ৮৩ পয়সা নির্ধারিত হয়েছে।
মাশুলের এই সমন্বয় লজিস্টিক সেক্টরে খরচের সামান্য বৃদ্ধি ঘটাবে, তবে বাণিজ্যিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে। পরিবহন সংস্থাগুলো অতিরিক্ত ব্যয়কে পণ্যের মূল্যে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে, ফলে ভোক্তাদের ওপর কিছুটা মূল্যবৃদ্ধি হতে পারে। একই সঙ্গে, স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের আয় বৃদ্ধি পাবে, যা অবকাঠামো উন্নয়ন ও সেবা মানোন্নয়নে ব্যবহার করা যেতে পারে।
ভবিষ্যতে মাশুলের হার আরও সমন্বয় করা হতে পারে, বিশেষত যদি আন্তর্জাতিক পণ্যের প্রবাহে পরিবর্তন আসে বা দেশের আর্থিক নীতি পুনর্বিবেচনা করা হয়। এই পরিস্থিতিতে ব্যবসায়িক সংস্থাগুলোকে খরচ নিয়ন্ত্রণের জন্য বিকল্প রুট বা পরিবহন পদ্ধতি বিবেচনা করতে হতে পারে।
সারসংক্ষেপে, ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া মাশুল বৃদ্ধি দেশের বাণিজ্যিক পরিবেশে নতুন মূল্য কাঠামো তৈরি করবে, যা লজিস্টিক খরচ, গুদাম ব্যবস্থাপনা এবং শেষ গ্রাহকের দামের ওপর প্রভাব ফেলবে। স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য রাজস্ব বাড়িয়ে সেবা উন্নয়ন নিশ্চিত করা, আর বাজারের প্রতিক্রিয়া নির্ভর করবে এই অতিরিক্ত ব্যয়কে কতটা শোষণ করা যায় তার ওপর।



