খুলনা শহরের র্যাব-৬ সদর দফতরে শনিবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক মেজর মো. নাজমুল ইসলাম গুলিবর্ষণ সংক্রান্ত গ্রেপ্তার ও জব্দকৃত সামগ্রী সম্পর্কে জানালেন। তিনি জানিয়ে দিলেন যে, গত শুক্রবার রাতের দিকে নগরীর বসুপাড়া থেকে হত্যাচেষ্টার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ডিকে শামীম ও তার সহযোগী মাহাদিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে দশটি মোবাইল ফোন এবং নগদ অর্থ জব্দ করা হয়।
মেজর নাজমুলের মতে, শামীমের সঙ্গে যুক্ত অপরাধমূলক কার্যক্রমের মূল কেন্দ্র ছিল তন্বীর বাসা, যেখানে নিয়মিত মাদক (ইয়াবা) সরবরাহের কাজ হতো। শামীমের চাহিদা অনুযায়ী যথাযথ পরিমাণে মাদক না পেলে তিনি নিজ হাতে তন্বীর ঘরে উপস্থিত মোতালেব সিকদারকে গুলি করে হত্যা করার চেষ্টা করেন। গুলিবর্ষণের পর শামীম ও তার সঙ্গীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
শামীম, যাকে ঢাকাইয়া শামীম নামেও পরিচিত, সোনাডাঙ্গা এলাকার অন্যতম শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত। তার বিরুদ্ধে দস্যুতা, বিশেষ ক্ষমতা আইন এবং মাদক সংক্রান্ত একাধিক মামলা দায়ের রয়েছে। র্যাবের তথ্য অনুযায়ী, এই হত্যাচেষ্টা মূলত সোনাডাঙ্গা অঞ্চলের মাদক ব্যবসা ও মাদকের অর্থ ভাগাভাগি নিয়ে গঠিত গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের ফল।
গ্রেপ্তারকৃত শামীম ও মাহাদিনের জিজ্ঞাসাবাদে র্যাবের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, শামীমসহ চার থেকে পাঁচজন ব্যক্তি ২২ ডিসেম্বর সকাল সাতটায় তন্বীর বাড়িতে প্রবেশ করে। তন্বীর স্বামী তানভীর, তন্বীর বন্ধু ইমরান, ইফতির চাচাতো ভাই এবং অন্যান্য সহচররা ইতিমধ্যে সেখানে উপস্থিত ছিলেন। গুলিবর্ষণের পর শামীম ও তার সঙ্গীরা দ্রুত বাড়ি ছেড়ে চলে যায়।
এই ঘটনার পূর্বে, ২৩ ডিসেম্বর দুপুরে মোতালেবের স্ত্রী রহিমা আক্তার ফাহিমা, জেলা জাতীয় যুবশক্তির যুগ্ম সদস্য সচিব তনিমা (অন্য নাম তন্বীর) এবং অজ্ঞাত ৬-৭ জনের বিরুদ্ধে সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় তনিমা তন্বীর নামাল্লেখসহ অন্যান্য অভিযুক্তদের নাম উল্লেখ করা হয়।
পরবর্তীতে নগর গোয়েন্দা পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে তনিমা তন্বীরকে গ্রেপ্তার করে এবং বর্তমানে তিনি কারাগারে আটক আছেন। মামলাটি র্যাবের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) তে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং তদন্তের দায়িত্ব ডিবি-তে স্থানান্তরিত হয়েছে।
মেজর নাজমুল উল্লেখ করেন, গ্রেপ্তারের পর শামীম ও তার সহকর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে গুলিবর্ষণের পেছনের প্রকৃত উদ্দেশ্য ও জড়িত অপরাধী গোষ্ঠীর কাঠামো উন্মোচন করা হবে। তিনি আরও জানান, জব্দকৃত মোবাইল ফোন ও নগদ অর্থের বিশ্লেষণ মাধ্যমে অতিরিক্ত অপরাধী ও মাদক সরবরাহের চেইন চিহ্নিত করা হবে।
র্যাবের কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেন, সোনাডাঙ্গা এলাকায় মাদক ব্যবসা ও অর্থের অবৈধ লেনদেনের ওপর কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং সংশ্লিষ্ট সকল অপরাধীর বিরুদ্ধে আইনি কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা হবে। বর্তমানে তদন্ত চলমান থাকায় অতিরিক্ত গ্রেপ্তার ও জব্দের সম্ভাবনা রয়েছে।
অধিক তথ্যের জন্য র্যাব-৬ সদর দপ্তরের যোগাযোগের লাইন উন্মুক্ত রাখা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আপডেট পাওয়া যাবে।



