শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২০২৫ সালের জন্য ‘শ্রুতিলেখক সেবা গ্রহণ সংক্রান্ত নীতিমালা ২০২৫’ নামে একটি নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে। এই নীতিমালা পাবলিক ও শ্রেণি পরীক্ষায় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী বা লিখতে অক্ষম পরীক্ষার্থীদের জন্য শ্রুতিলেখকের সহায়তা নিশ্চিত করবে। নীতিমালার স্বাক্ষরকারী রেহানা পারভীনের, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব, প্রকাশের তারিখের সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তা কার্যকর করা হবে।
নতুন নীতিমালায় ‘শ্রুতিলেখক’কে এমন একজন ব্যক্তি হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, যিনি পরীক্ষার্থীর দেওয়া কথাবার্তা শোনার পর তা সঠিকভাবে, কোনো পরিবর্তন ছাড়া, উত্তরপত্রে লিখে দেন। এই সেবা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী, অস্থায়ী বা স্থায়ী শারীরিক অক্ষমতা‑জনিত কারণে স্বহস্তে লিখতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযোজ্য।
নির্দেশিকাটি ২০১৩ সালের ‘অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩’‑এর ধারা ১৬ (১)‑এর উপ‑ধারা (ঝ) ও (ড) অনুসারে তৈরি করা হয়েছে, যা সকল পাবলিক পরীক্ষায় প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার দায়িত্ব আরোপ করে। আইনগত ভিত্তি নিশ্চিত করে যে, কোনো পরীক্ষায় শারীরিক অক্ষমতার কারণে শিক্ষার্থীর অধিকার হ্রাস পাবে না।
এই নীতিমালা সরকারী ও বেসরকারি বিদ্যালয়, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরিচালিত সকল পাবলিক ও শ্রেণি পরীক্ষার জন্য বাধ্যতামূলক। ফলে, দেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই নির্দেশনা অনুসরণ করা আবশ্যক, যাতে কোনো শিক্ষার্থীকে তার অক্ষমতার ভিত্তিতে বাদ না করা হয়।
নিয়মের স্পষ্টতা বজায় রাখতে বলা হয়েছে যে, এই নীতিমালার বাইরে কোনো নির্দেশনা বা পরিবর্তিত নির্দেশনা অনুসরণ করা যাবে না। কোনো কর্তৃপক্ষ স্বেচ্ছায় অন্য কোনো শর্ত আরোপ করে শ্রুতিলেখকের সেবা সীমাবদ্ধ করতে পারবে না; নীতিমালার ধারাগুলি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে।
শ্রুতিলেখকের যোগ্যতা নির্ধারিত হয়েছে সংযুক্ত‑১‑এ উল্লেখিত মানদণ্ডের ভিত্তিতে। প্রার্থীর উচ্চারণ স্পষ্ট, হস্তাক্ষর পাঠযোগ্য, বানান সঠিক এবং দ্রুত লেখার দক্ষতা থাকতে হবে। এই শর্তগুলো পূরণ করা ব্যক্তিকে প্রথমে বিবেচনা করা হবে, যাতে পরীক্ষার সময় কোনো ভুল বা বিলম্ব না ঘটে।
নিয়োগের সময় বিশেষত এমন প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, যারা উচ্চারণে স্বচ্ছতা, হস্তাক্ষরে স্পষ্টতা এবং দ্রুত লেখার ক্ষমতা প্রদর্শন করে। এই মানদণ্ড নিশ্চিত করে যে, প্রশ্নের সঠিকতা ও উত্তরপত্রের গুণগত মান উভয়ই বজায় থাকবে।
শ্রুতিলেখকের দায়িত্বগুলো স্পষ্টভাবে নির্ধারিত। প্রথমত, তিনি পরীক্ষার প্রশ্নগুলোকে সঠিকভাবে শোনিয়ে দেবেন, যাতে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী প্রশ্নের মূল অর্থ বুঝতে পারে। এরপর, শিক্ষার্থীর উত্তরগুলোকে কোনো পরিবর্তন ছাড়াই লিখে নেবেন। তাছাড়া, রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর নাম ইত্যাদি তথ্যও সঠিকভাবে পূরণ করবেন।
দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর জন্য চিত্রযুক্ত প্রশ্নের ব্যাখ্যা প্রদান করাও শ্রুতিলেখকের কাজের অংশ। তিনি প্রশ্নে থাকা চিত্রের বিষয়বস্তুকে শব্দে রূপান্তর করে শিক্ষার্থীর কাছে উপস্থাপন করবেন, যাতে শিক্ষার্থী প্রশ্নের পূর্ণ ধারণা পায় এবং সঠিক উত্তর দিতে পারে।
প্রতিষ্ঠানগুলোকে এখন থেকে এই নীতিমালা অনুসারে যথাযথ প্রশিক্ষিত ব্যক্তিকে শ্রুতিলেখক হিসেবে নিয়োগ করতে হবে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যোগ্যতা যাচাই, প্রশিক্ষণ ও পারফরম্যান্স মূল্যায়ন অন্তর্ভুক্ত থাকবে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডগুলোকে নীতিমালার বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ করতে হবে এবং কোনো লঙ্ঘন হলে সংশোধনমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।
উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী গণিতের প্রশ্নে চিত্রযুক্ত গ্রাফের ব্যাখ্যা চায়, তবে শ্রুতিলেখক গ্রাফের অক্ষ, স্কেল এবং মূল তথ্যগুলো শব্দে বর্ণনা করে শিক্ষার্থীর কাছে উপস্থাপন করবেন। এরপর শিক্ষার্থী তার উত্তর লিখে দেবেন, যা সরাসরি উত্তরপত্রে নথিভুক্ত হবে।
পাঠকদের জন্য ব্যবহারিক টিপস: যদি আপনি বা আপনার পরিচিত কেউ পরীক্ষায় শ্রুতিলেখকের সেবা প্রয়োজন করেন, তবে পরীক্ষার পূর্বে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দিন। এছাড়া, প্রশ্নের স্পষ্টতা নিশ্চিত করতে পরীক্ষার সময় শোনানো বিষয়গুলো পুনরায় নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।



