সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে আজ সন্ধ্যায় ঢাকা ক্যাপিটালস ও রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের মধ্যে অনুষ্ঠিত বিডিএল ম্যাচে, সহকারী কোচ মাহবুব আলী জাকির হঠাৎ মৃত্যু সত্ত্বেও ঢাকা ৫ উইকেটে জয়লাভ করে। কোচ জাকি ম্যাচের আগে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন এবং হৃদরোগে ৪ ঘণ্টা পরে মৃত্যুবরণ করেন। শোকের পরিবেশে দলটি তৎপরতা বজায় রেখে, শেষ পর্যন্ত লক্ষ্য অর্জন করে।
ঢাকা ১৩৩ রানের লক্ষ্য নির্ধারণের পর ব্যাটিং শুরু করে, প্রথম ওভারেই সাইফ হাসানকে আউট করে শুরুর ঝাঁকুনি দেয়। তানজিম হাসান মাত্র এক রান করে তৎক্ষণাৎ বোল্ড হন। বামহাতি ব্যাটসম্যান আবদুল্লাহ আল মামুন ও ওপেনার উসমান খান ৩৭ রানের স্থিতিশীল জুটি গড়ে, যার মধ্যে উসমান ১৮ রান করে। উভয়ই মোহাম্মদ নেওয়াজের বোলিংয়ে আউট হন, মামুন ৪৫ রান করে দলের শীর্ষ স্কোরার হন।
মাঝের ক্রমে নাসির হোসেন ২২ বলে ১৯ রান যোগ করেন, যা শিকড়ে চাপ বাড়ায়। ২৫ রানের লক্ষ্য পূরণে ৩৫ রান দরকারের সময়, নেপালি স্পিনার সন্দীপ লামিচানের ১৭তম ওভারে ১৫ রান দিয়ে ধীরগতি আনে। শামীম হোসেন ও সাব্বির রহমানের সমন্বয়ে ১৮ বলে ৩৬ রানের জুটি গড়ে, যার মধ্যে সাব্বির ১০ বলে ২১ রান করে অর্ধেক অর্ধেক শেষের দিকে দলকে সুরক্ষিত করে। শেষ পর্যন্ত ঢাকা ৭ বল বাকি রেখে ৫ উইকেটে লক্ষ্য অর্জন করে।
রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের ইনিংসে, পাকিস্তানীয় বামহাতি স্পিনার ইমাদ ওয়াসিম প্রথম বলেই ওপেনার সাহিবজাদা ফারহানকে আউট করেন। ইমাদের ধারাবাহিকতা মাঝের ওভারে নাজমুল হোসেন ও ইয়াসির আলীকে সরিয়ে দেয়, ফলে তিনি মাত্র চার ওভারে ১৬ রানে ৩ উইকেট নেন। রাজশাহীর ব্যাটিং ২০ ওভারে ১৩২ রানে ৮ উইকেটের সঙ্গে শেষ হয়; নাজমুল ৩৭ রান, মোহাম্মদ নেওয়াজ ২৬* রান এবং মুশফিকুর রহিম ২৪ রান যোগ করেন।
ঢাকার বোলিং দিক থেকে, পাকিস্তানি অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নেওয়াজ ৩ উইকেট নেন, তবে ২৬ রান দিয়ে অপরাজিত রয়ে যান। ইমাদ ওয়াসিমের ৩/১৬ পারফরম্যান্সের পাশাপাশি, শামীম হোসেনেরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান থাকে, যা রাজশাহীর স্কোরকে সীমিত রাখতে সহায়তা করে। ম্যাচের শেষে ইমাদ ওয়াসিমকে ম্যান অব দ্য ম্যাচের উপাধি প্রদান করা হয়।
এই জয়টি ঢাকা ক্যাপিটালসের জন্য শোকের মুহূর্তে অর্জিত এক গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য, যা দলকে মানসিক শক্তি ও ঐক্য প্রদর্শন করে। পরবর্তী ম্যাচে ঢাকা ক্যাপিটালসের সূচি এখনও নির্ধারিত, তবে এই জয় তাদের টুর্নামেন্টে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেবে।



