সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (RPO) নতুন বিধান অনুযায়ী জোট গঠন করলেও প্রার্থীকে নিজের নিবন্ধিত দলের প্রতীক ব্যবহার করতে হবে। এই শর্তের ফলে বিএনপির সঙ্গে জোট গড়তে চাওয়া কয়েকটি ছোট দল তাদের সংস্থা বিলুপ্ত করে, সদস্যদেরকে ধানের শীষ প্রতীকে (বিএনপির প্রতীক) নির্বাচন করতে অনুমতি দিয়েছে।
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) থেকে বেরিয়ে বিএনপিতে যোগদানকারী ড. রেদোয়ান আহমদ, কুমিল্লা-৭ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তিনি পার্টি পরিবর্তনের কারণ হিসেবে নতুন RPO-র প্রভাব উল্লেখ করেছেন।
১ ডিসেম্বর, সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এম. এস. কিবরিয়ার পুত্র ড. রেজা কিবরিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন এবং তৎক্ষণাৎ হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ‑বাহুবল) আসনে পার্টির মনোনয়ন পান। তার যোগদানের সঙ্গে সঙ্গে পার্টির অভ্যন্তরে নতুন গঠন ও কৌশলগত সমন্বয়ের কথা শোনা যাচ্ছে।
শুক্রবার, গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে সরে গিয়ে রাশেদ খানও বিএনপিতে যোগদান করেন। তিনি ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ ও সদর অংশ) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। রাশেদের এই পদক্ষেপকে পার্টির উচ্চ পর্যায়ের কৌশলগত নির্দেশনা হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
৮ ডিসেম্বর, ১২ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা ও বিএলডিপি (বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি) চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম তার দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দেন। তিনি লক্ষ্মীপুর-১ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি একই প্রতীক দিয়ে এলডিপির হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, তবে এবার দল বিলুপ্ত করে নতুন জোটে অংশ নেওয়া তার জন্য তার কিছু সহকর্মী নেতাকে বিরোধী করেছে।
সেলিমের এই সিদ্ধান্তকে তার পূর্ব দলীয় কিছু কর্মী অবৈধ ঘোষণা করে আলাদা সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে। তারা যুক্তি দিয়েছেন যে পার্টি বিলুপ্ত না করে জোটে অংশগ্রহণ করা সম্ভব, তবে নতুন RPO-র বিধান অনুসারে দলীয় প্রতীক ব্যবহার বাধ্যতামূলক হওয়ায় তারা এই পদক্ষেপকে অপ্রয়োজনীয় বলে বিবেচনা করছে।
সমমনা ১২ দলীয় জোটের আরেক শীর্ষ নেতা, জোটের মুখপাত্র ও জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা, কিশোরগঞ্জ-৫ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তিনি ২২ ডিসেম্বর জাতীয় দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগদান করেন, যা পার্টির উচ্চ পর্যায়ের পরামর্শের ফলাফল বলে জানানো হয়েছে।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় যে, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজও বিএনপিতে যোগ দিয়ে ঢাকা-১৩ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। একই সঙ্গে, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) চেয়ারম্যান ফরিদ নড়াইল-২ আসনে প্রার্থী হবেন।
এই ধারাবাহিক দলীয় পরিবর্তনগুলোকে বিশ্লেষকরা দেশের আসন্ন নির্বাচনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছেন। একদিকে, বিএনপির প্রার্থী তালিকায় নতুন মুখ ও অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদদের সংযোজন পার্টির ভোটভিত্তি শক্তিশালী করতে পারে। অন্যদিকে, ছোট দলগুলোর বিলুপ্তি ও সদস্যদের বড় পার্টিতে যোগদান জোটের অভ্যন্তরে স্বার্থের টানাপোড়েন বাড়াতে পারে, যা নির্বাচনী কৌশলে প্রভাব ফেলতে পারে।
বিএনপির উচ্চপদস্থ নেতারা নতুন RPO-র বিধানকে রাজনৈতিক সমন্বয়ের সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করছেন, তবে বিরোধী দিক থেকে দলীয় স্বায়ত্তশাসন ও স্বতন্ত্র পরিচয়ের ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এই জোটের স্থায়িত্ব ও পার্টিগুলোর পুনর্গঠন কিভাবে নির্বাচনী ফলাফলে প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলবে।



