বেঙ্গল প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) উদ্বোধনী ম্যাচে ঢাকা ক্যাপিটালস সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে জয়লাভ করে। রাজশাহী ১৩৩ রানে শেষ করে, আর ঢাকা ৫ উইকেটের পার্থক্যে ৭ বল বাকি রেখে লক্ষ্য অর্জন করে।
রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের ব্যাটিং শুরুতে দ্রুত চাপ তৈরি হয়। প্রথম ওয়িকেটের পরে সাইফ হাসান ফিরে গিয়ে রানের গতি কমিয়ে দেয়। এরপর উসমান খান ও আব্দুল্লাহ আল মামুন ৩৭ রানের ছোট অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার চেষ্টা করে, কিন্তু উসমানের ১৮ রান পরেই দলটি আবার ধীরগতি পায়।
ক্যাপিটালসের অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুনের শুরুর ইনিংস প্রত্যাশিত না থাকলেও, আব্দুল্লাহ আল মামুন ধারাবাহিকতা বজায় রাখে। হাফসেঞ্চুরি থেকে বঞ্চিত হয়ে ৪৫ রান করে তিনি দলকে টিকে রাখেন, তবে শেষ মুহূর্তে আউট হন।
নাসির হোসেনের ১৯ রানের অবদান ঢাকা ক্যাপিটালসকে সমানভাবে টিকিয়ে রাখে। তার ধীরগতি হলেও দায়িত্বপূর্ণ খেলা দলকে জয়ের পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। শেষের দিকে শামীম ও সাব্বিরের পারফরম্যান্স ম্যাচের ফল নির্ধারণ করে।
সাব্বির ১০ বলে ২১ রান এবং শামীম ১৩ বলে ১৭ রান করে দুজনেই অপরাজিত থেকে শেষ পর্যন্ত দায়িত্ব নেয়। তাদের ১৮ বলের সমন্বয়ে ৩৬ রানের স্থিতিশীল অংশীদারিত্ব ঢাকা ক্যাপিটালসকে নিরাপদে জয় নিশ্চিত করে।
রাজশাহীর বোলারদের মধ্যে মোহাম্মদ নাওয়াজ ৩ উইকেট নিয়ে ২১ রান দিয়ে সর্বোচ্চ অবদান রাখেন। তানজিম সাকিব ও সন্দীপ লামিচান একে একে একটি করে উইকেট নেন, তবে দলটি মোট ৫ উইকেটের মধ্যে ১৩২ রানে আটকে যায়।
টস হারের পর রাজশাহী ব্যাটিং শুরুতে তৎক্ষণাৎ বিপাকে পড়ে। প্রথম বলেই ফারহান স্টাম্পিং হন, ইমাদ ওয়াসিমের বলের ফলে। তানজিদ হাসান তামিম ১৫ বলে ২০ রান করে ফিরে আসলেও নাসির হোসেনের হাতে আউট হন, ফলে চাপ আরও বাড়ে।
পরবর্তী ওভারে ধারাবাহিকভাবে উইকেট হারাতে থাকে রাজশাহী। ৮৫ রানের মধ্যেই পাঁচটি উইকেট নষ্ট হয়। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ২৮ বলে ৩৭ রান করেন, যার মধ্যে দুটি চার এবং দুটি ছক্কা রয়েছে।
ইয়াসির আলী ১৫ বলে ১৩ রান, মুশফিকুর রহিম ২৩ বলে ২৪ রান যোগ করেন, তবে ইনিংসকে বড় করতে পারেন না। এসএম মেহরুব শূন্য রানে শেষ করেন। শেষ পর্যন্ত মোহাম্মদ নাওয়াজের অপরাজিত ২৬ বলে ২৬ রান দিয়ে দলকে ১৩২ রানে পৌঁছাতে সাহায্য করেন।
ঢাকার বোলারদের মধ্যে ইমাদ ওয়াসিম ৩ উইকেট নিয়ে মাত্র ১৬ রান দিয়ে সর্বোচ্চ প্রভাব ফেলেন। নাসির হোসেন ৩২ রান খরচে ২ উইকেট নেন, যা ঢাকা ক্যাপিটালসের শিকড়কে শক্তিশালী করে।
ম্যাচের সমাপ্তিতে ঢাকা ক্যাপিটালসের জয় নিশ্চিত হয়, যা তাদের বিপিএল মিশনের শক্তিশালী সূচনা নির্দেশ করে। পরবর্তী ম্যাচে দলটি একই স্টেডিয়ামে নতুন প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হবে, যেখানে শীর্ষ পারফরম্যান্স বজায় রাখার প্রত্যাশা থাকবে।



