ইন্টারিম সরকারের প্রাক্তন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর (কুমিল্লা‑৩) আসনে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। ২৪ ডিসেম্বর কুমিল্লা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার অফিসে রমজানুল করিম নামে এক ব্যক্তি তার পক্ষে ফরম সংগ্রহ করেন। একই সময়ে তিনি ফরমটি সরাসরি প্রার্থীর প্রতিনিধি হাতে হস্তান্তর করেন।
কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার হাচিবুর রহমান শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) দুপুরে এই সংগ্রহের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান যে, এখন পর্যন্ত জেলার ১১টি আসনে মোট ১০৪টি মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ফরম সংগ্রহ প্রক্রিয়া আইনসঙ্গতভাবে চলছে।
ফরম সংগ্রহকারী রমজানুল করিম জানান, তিনি এবং আসিফ মাহমুদের মধ্যে কোনো ব্যক্তিগত সম্পর্ক নেই। তিনি বলেন, প্রার্থীর দল থেকে ঠিকানা ও ব্যাংক ড্রাফটের অর্থ প্রদান করে ফরম সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হয় এবং তিনি তা গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট অফিসে জমা দিয়েছেন।
আসিফ মাহমুদের পরিবার এই বিষয়টি নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান গ্রহণ করেছে। তার চাচাতো ভাই ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুরাদনগর উপজেলা আহ্বায়ক উবায়দুল সিদ্দিকী জানান, কুমিল্লা থেকে কোনো মনোনয়ন নেওয়ার সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি এবং প্রার্থী ঢাকা‑১০ আসন থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে তারা জানে।
পূর্বে ১১ ডিসেম্বর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিনই আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেন। ১২ ডিসেম্বর তিনি ফেসবুক পেজে ঢাকা‑১০ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দেন এবং নিজে থানা নির্বাচনী কার্যালয় থেকে ফরম সংগ্রহ করে তা জমা দেন।
কুমিল্লা-৩ আসনে নতুন মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের ঘটনা স্থানীয় রাজনৈতিক পরিবেশে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, যদি প্রার্থী কুমিল্লা থেকেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তবে স্থানীয় দলগুলোর মধ্যে ভোটের ভাগাভাগি নিয়ে নতুন প্রতিযোগিতা দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে, ঢাকা‑১০ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর উপস্থিতি ঐতিহ্যবাহী দলীয় গঠনের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
নির্বাচনের শেষ তারিখের কাছাকাছি আসার সঙ্গে সঙ্গে প্রার্থীর দলীয় কাঠামো ও প্রচার কৌশল গড়ে তুলবে। কুমিল্লা-৩ আসনে মনোনয়ন ফরমের উপস্থিতি স্থানীয় নির্বাচনী গতি পরিবর্তন করতে পারে, তবে তা শেষ পর্যন্ত ভোটারদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।
পরবর্তী সময়ে নির্বাচনী কমিশন ফরমের বৈধতা যাচাই করে আনুষ্ঠানিকভাবে তালিকাভুক্ত করবে এবং ভোটারদের কাছে প্রার্থীর প্রকৃত পরিকল্পনা ও অবস্থান স্পষ্ট হবে।



