বর্ডার ২ ছবির পুনরায় রচিত গীত ‘ঘর কখন আসবে’ (পূর্বে ‘সন্দেসে আসে হ্যাঁ’) ২ জানুয়ারি লোনগেওলায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রকাশের সময়কালীন অনুষ্ঠান টানোট মা মন্দির ও বাবলিয়ানে অনুষ্ঠিত হবে এবং এতে সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনীর (BSF) প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন। গানের প্রচারমূলক ভিডিওটি ২৭ বা ২৮ ডিসেম্বর প্রকাশের কথা জানানো হয়েছে।
লোনগেওলা রণক্ষেত্র ১৯৭১ সালের যুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ হিসেবে পরিচিত, যেখানে মূল ‘বর্ডার’ ছবির দৃশ্য ধারণ করা হয়েছিল। ঐতিহাসিক এই স্থানকে গানের উদ্বোধনের মঞ্চ হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে, যাতে ছবির থিম ও দেশের সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি শ্রদ্ধা একসাথে প্রকাশ পায়।
বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (BSF) অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানকে আরও মর্যাদাপূর্ণ করেছে। বাহিনীর কর্মকর্তারা গানের উদ্বোধনে অংশ নেবেন এবং সৈন্যদের ত্যাগ ও দায়িত্বের স্মরণে একটি বিশেষ সমাবেশের আয়োজন করা হবে। এই সহযোগিতা ছবির সামরিক পরিবেশকে বাস্তবিকভাবে তুলে ধরবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রচার ভিডিওটি ২৭ বা ২৮ ডিসেম্বর সামাজিক মাধ্যম ও ইউটিউবে প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। ভিডিওতে লোনগেওলার মরুভূমি ও টানোট মা মন্দিরের পবিত্র পরিবেশকে পটভূমি হিসেবে ব্যবহার করা হবে, যা গানের দেশপ্রেমিক সুরের সঙ্গে মানানসই হবে।
সিনেমার সিএনসার সার্টিফিকেটে গানের নতুন শিরোনাম ‘ঘর কখন আসবে’ উল্লেখ করা হয়েছে। মূল ‘সন্দেসে আসে হ্যাঁ’ গানের সুর ও সুরের মূলভাব বজায় রেখে শিরোনাম পরিবর্তন করা হয়েছে, যাতে সৈন্যদের পরিবারে শূন্যতা ও প্রত্যাশার অনুভূতি আরও স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায়।
গানের মোট দৈর্ঘ্য তিন মিনিট চব্বিশ সেকেন্ড, এবং কোনো কাটছাঁট ছাড়াই সিএনসার কর্তৃক অনুমোদিত হয়েছে। এই স্বচ্ছতা গানের পূর্ণাঙ্গ রূপকে দর্শকের সামনে উপস্থাপন করার সুযোগ দেবে, যা মূল গানের আবেগময়তা বজায় রাখবে।
১৯৯৭ সালের ‘বর্ডার’ ছবির ‘সন্দেসে আসে হ্যাঁ’ গীতটি হিন্দি সিনেমার অন্যতম স্মরণীয় গীত হিসেবে স্বীকৃত, যা সৈন্যদের দূরত্ব, ত্যাগ ও আশা প্রকাশ করে। দশকের পর দশক ধরে এই গীতটি প্রজন্মের মধ্যে দেশপ্রেমের প্রতীক হয়ে আছে এবং বহুবার কভার ও রিমিক্স হয়েছে।
নতুন সংস্করণে মূল সুরের সঙ্গে আধুনিক সঙ্গীতশিল্পী মিথুন, অরিজি সিংহ ও সোনু নিগমের কণ্ঠ যুক্ত হয়েছে, যা গানের আবেগকে আধুনিক শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে দিতে সহায়তা করবে। গানের পুনর্নির্মাণে মূল সুরের স্নেহময়তা বজায় রেখে নতুন সুরের ছোঁয়া যোগ করা হয়েছে।
টানোট মা মন্দির ও বাবলিয়ানকে গানের উদ্বোধনের অতিরিক্ত স্থান হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। উভয় স্থানই রণক্লান্ত সৈন্যদের স্মরণে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব বহন করে, যা গানের দেশপ্রেমিক বার্তাকে আরও গভীর করে তুলবে। অনুষ্ঠান চলাকালে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও সামরিক শৌর্যের প্রদর্শনী পরিকল্পনা করা হয়েছে।
‘বর্ডার ২’ এর এই গীত প্রকাশের মাধ্যমে চলচ্চিত্রের প্রচারাভিযান নতুন মাত্রা পাবে এবং দর্শকদের মধ্যে প্রত্যাশা বাড়বে। গানের পুনর্নির্মাণ ও ঐতিহাসিক স্থান নির্বাচন উভয়ই চলচ্চিত্রের মূল থিম—সৈন্যের ত্যাগ ও দেশের প্রতি অটুট ভালোবাসা—কে জোরদার করবে।



