গাজীপুরের বাসন থানা অধীনে চাঁদনা এলাকায় অবস্থিত একটি ভাড়া ঘরে, ৩০ বছর বয়সী জালাল দুলু তার স্ত্রীকে গলা চেপে হত্যা করে। অপরাধের পর শ্বশুরকে ফোন করে ঘটনাটি জানিয়ে, র্যাবের যৌথ অভিযান থেকে তাকে কুড়িগ্রামের রাজারজাট থানা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
জালাল দুলু কুড়িগ্রামের উলিপুর থানা অধীনে বসুনিয়া গ্রামের মো. আ. আজিজের পুত্র। তার স্ত্রী মাস্তুরা আক্তার সুমা, ২৮ বছর বয়সী, গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত এবং ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট থানা অধীনে পূর্ব নড়াইল এলাকার মিরাজুল ইসলামের কন্যা।
সুমা ও জালাল গাজীপুর মহানগরের বাসন থানা অধীনে চাঁদনা এলাকার রমিজ উদ্দিনের মালিকানাধীন ভবনের তৃতীয় তলার একটি ঘরে একসাথে থাকতেন। উভয়ের ভাড়া চুক্তি এবং পারিবারিক বিবাদ পূর্বে প্রতিবেদন হয়েছে, তবে অপরাধের মুহূর্তে কোনো তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
বৃহস্পতিবার রাত প্রায় অর্ধরাতের দিকে, জালাল দুলু সুমাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। মৃতদেহটি ঘরের ভিতরে তালাবদ্ধ অবস্থায় রাখা হয়, যা পরে শ্বশুরকে ফোনে জানানো হয়। ফোনে তিনি হত্যার ঘটনা সংক্ষেপে বর্ণনা করে শ্বশুরকে অবহিত করেন।
শ্বশুরের ফোন কল পাওয়ার পর বাসন থানা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে, ঘরে প্রবেশ করে সুমার মৃতদেহ উদ্ধার করে। মৃতদেহটি স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয় এবং পরে শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।
ময়নাতদন্তে সুমার গলা চেপে মারা যাওয়ার স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়। মৃতদেহের অবস্থান ও সময় নির্ধারণের পর, সুমার বাবা মিরাজুল ইসলাম রাবের মাধ্যমে বাসন থানায় একটি যৌতুকের জন্য হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি আইনি দিক থেকে যথাযথভাবে রেকর্ড করা হয়।
র্যাবের ১ নম্বর ও ১৩ নম্বর কোম্পানির সদস্যদের যৌথ অভিযান শুরু হয়। রাব-১ স্পেশালাইজড কোম্পানি পোড়াবাড়ি ক্যাম্পের লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. নাফিজ বিন জামাল জানিয়েছেন, হুমকির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযানে সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে জালালের গৃহহীনতা এবং আত্মগোপন অবস্থান নিশ্চিত করা হয়। রাবের গোয়েন্দা দল কুড়িগ্রামের রাজারজাট থানার ৭ নম্বর নাজিম খান ইউপির রামকৃষ্ণ মন্ডলপাড়া এলাকায় তার গোপন অবস্থান সনাক্ত করে।
ফ্রাইডে রাত ১টা ১০ মিনিটে রাব-১, রাব-১৩ এবং রঙপুরের সদর কোম্পানির যৌথ দল মন্ডলপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে জালাল দুলুকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকালে তাকে কোনো প্রতিরোধের মুখোমুখি করা হয়নি এবং তিনি শান্তভাবে হস্তান্তর করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জালাল দুলু স্বীকার করেন যে তিনি স্ত্রীর গলা চেপে হত্যা করেছেন এবং শ্বশুরকে ফোন করে ঘটনাটি জানিয়েছেন। তার স্বীকারোক্তি রাবের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত জালালকে বাসন থানায় হস্তান্তর করা হয় এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য রাবের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। এখন তাকে হেফাজতে রাখা হবে এবং মামলাটি স্থানীয় আদালতে শোনার জন্য প্রস্তুত করা হবে।
মামলার পরবর্তী ধাপ হিসেবে, সুমার পরিবারের আইনজীবী ও রাবের তদন্ত দল একসাথে কাজ করে প্রমাণ সংগ্রহ, সাক্ষী তালিকা এবং ফরেনসিক রিপোর্ট আদালতে উপস্থাপন করবে। আদালতকে মামলার শোনার তারিখ নির্ধারণের জন্য সময়সীমা দেওয়া হয়েছে, যাতে দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যায়।
এই ঘটনার মাধ্যমে গাজীপুরে পারিবারিক হিংসা ও গৃহহত্যার বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগের গুরুত্ব পুনরায় উদ্ভাসিত হয়েছে। রাবের দ্রুত পদক্ষেপ ও থানা বিভাগের সমন্বিত কাজকে প্রশংসা করা হচ্ছে, তবে স্থানীয় সমাজে পারিবারিক বিরোধের সমাধানে সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বানও বাড়ছে।



