বহুল ফ্যানবেসের সঙ্গে আজ বলিউডের সুপারস্টার সালমান খান ৬০ তম জন্মদিন উদযাপন করছেন। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি রোমান্স ও অ্যাকশন জঁরে ধারাবাহিক হিট সিনেমা দিয়ে দর্শকের হৃদয় জয় করেছেন। জন্মদিনের এই মাইলফলক তার দীর্ঘায়ু ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিগত জীবনের নানা দিকের পুনর্বিবেচনা ঘটাচ্ছে।
সালমানের চলচ্চিত্র যাত্রা ১৯৯০-এর দশকের শেষের দিকে শুরু হয় এবং দ্রুতই তিনি বক্স অফিসের শীর্ষে উঠে আসেন। রোমান্টিক হিরো থেকে শক্তিশালী একশন আইকন পর্যন্ত তার চরিত্রের পরিসর বিশাল, যা তাকে প্রজন্মের পর প্রজন্মের ভক্তের কাছে অপরিবর্তনীয় করে তুলেছে। তার জনপ্রিয়তা শুধু ভারতের সীমা অতিক্রম করে আন্তর্জাতিক স্তরে ছড়িয়ে পড়েছে।
তবে এই সাফল্যের পথে সবসময় মসৃণ যাত্রা ছিল না। ক্যারিয়ারের শীর্ষে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে তিনি আকাশছোঁয়া সাফল্য ও চরম ব্যর্থতার দু’প্রান্তে দাঁড়িয়েছেন। প্রেম-ভাগ্য, বিতর্ক, আইনি জটিলতা এবং সাম্প্রতিক সময়ে প্রাণনাশের হুমকি তার জীবনের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব ঘটনার পরেও তিনি দর্শকের আস্থা বজায় রেখেছেন।
সালমানের প্রেমের ইতিহাসও ততটাই রঙিন। তিন দশকের বেশি সময়ে তিনি বহুবার প্রেমে পড়েছেন, যা মিডিয়ার নজরে ধারাবাহিক গুজবের স্রোত তৈরি করেছে। প্রতিটি সম্পর্কের সঙ্গে নতুন বিতর্কের জন্ম হয়েছে, যা তার ব্যক্তিগত জীবনের প্রতি জনসাধারণের কৌতূহল বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিশ্বসুন্দরী ও অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনের সঙ্গে তার সম্পর্ক বলিউডের প্রেমের ইতিহাসে অন্যতম বিতর্কিত অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয়। দুজনের সংযোগের সময়কালে মিডিয়া ঘন ঘন তাদের সম্পর্কে অনুমান ও বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছিল, যা উভয়ের ক্যারিয়ারকে প্রভাবিত করেছে।
এরপর অভিনেত্রী ক্যাটরিনা কাইফের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা নিয়ে বলিউডের গসিপ কলামে নানা গুঞ্জন শোনা গিয়েছিল। যদিও উভয়ের সম্পর্কের প্রকৃতি স্পষ্ট হয়নি, তবু এই সংযোগটি জনমতকে উন্মুক্ত করে তুলেছিল এবং তাদের ব্যক্তিগত জীবনের প্রতি আগ্রহ বাড়িয়ে দিয়েছিল।
রোমানীয় শিল্পী ইউলিয়া ভানতুরের সঙ্গে তার রোমান্সের খবরও পেজ থ্রিতে নিয়মিত উঠে আসত। মিডিয়া প্রায়ই তাদের সাক্ষাৎ ও কথোপকথনকে হেডলাইন করে প্রকাশ করত, যা দুজনের পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনে আলো ফেলেছিল।
বিবাহের বিষয়টি নিয়ে সালমান সাধারণত প্রশ্ন এড়িয়ে যান। কখনো কখনো তিনি রসিকতা করে বলেন, “ভাগ্যই সব ঠিক করে,” যা তার ব্যক্তিগত জীবনের গোপনীয়তা বজায় রাখার ইঙ্গিত দেয়। এই দৃষ্টিভঙ্গি তাকে মিডিয়ার অতিরিক্ত অনুসন্ধান থেকে কিছুটা রক্ষা করেছে।
বহিরাগত দৃষ্টিতে কঠিন শাখা হলেও, মানসিকভাবে তিনি নরম হৃদয়ের মানুষ। অন্যের বিপদে তিনি দ্রুত সাড়া দেন এবং প্রয়োজনে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। এই মানবিক দিকটি তার ভক্তদের মধ্যে গভীর প্রশংসা পায়।
সামাজিক সেবার ক্ষেত্রেও তার সক্রিয় উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। তিনি বিভিন্ন দাতব্য প্রকল্পে অংশগ্রহণ করে দুর্বল ও বিপন্ন জনগোষ্ঠীর সহায়তা করেন। তার দানশীলতা ও স্বেচ্ছাসেবী কাজের গল্পগুলো মিডিয়ায় নিয়মিত প্রকাশ পায়, যা তার জনসাধারণের চিত্রকে আরও উজ্জ্বল করে।
সালমানের ৬০ তম জন্মদিনের উপলক্ষে ভক্ত ও সহকর্মীরা সামাজিক মিডিয়ায় শুভেচ্ছা জানিয়ে তার ক্যারিয়ারকে সম্মানিত করেছেন। তার চলচ্চিত্রের ক্লাসিক দৃশ্য, গানের লাইন এবং স্মরণীয় সংলাপগুলো পুনরায় দেখা ও শোনা হচ্ছে। এই উদযাপন তার শিল্পী হিসেবে স্থায়ী প্রভাবকে পুনরায় নিশ্চিত করেছে।
ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি এখনও সক্রিয়ভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। নতুন প্রকল্পের পরিকল্পনা, সামাজিক উদ্যোগের সম্প্রসারণ এবং তরুণ শিল্পীদের মেন্টরশিপ তার পরিকল্পনার অংশ। ৬০ বছর পূর্ণ হওয়া মানে শেষ নয়, বরং নতুন সৃষ্টির সূচনা।
সালমান খানকে বলিউডের এক অবিচল স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যার ব্যক্তিগত ও পেশাগত উত্থান-পতন সবার কাছে অনুপ্রেরণার উৎস। তার ৬০ তম জন্মদিন কেবল একটি সংখ্যা নয়, বরং তিন দশকের সাফল্য, চ্যালেঞ্জ এবং মানবিক দিকের সমন্বয়। এই মাইলফলকে তিনি আবারও প্রমাণ করছেন যে, তার গল্প এখনও শেষ হয়নি।



