বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান লন্ডন থেকে দেশে ফিরে ভোটার নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র প্রাপ্তি সম্পন্ন করেছেন। তিনি শনিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার শহীদ ওসমান হাদির কবরস্থানে গিয়ে শোকস্মরণে অংশগ্রহণের পর, নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে গিয়ে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।
১৭ বছর পর দেশে ফিরে তারেক রহমানের এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। লন্ডনে দীর্ঘ সময় কাটিয়ে তিনি দেশের রাজনৈতিক মঞ্চে পুনরায় উপস্থিতি জানান, যা বিএনপির সংগঠনের পুনর্গঠন ও নির্বাচনী প্রস্তুতির সূচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সকালবেলায় তিনি গুলশানের নিজ বাড়ি থেকে নিরাপদে বেরিয়ে গিয়ে প্রথমে শহীদ ওসমান হাদির সমাধিস্থলে গিয়েছিলেন। কবরস্থানে উপস্থিতি তার রাজনৈতিক ঐতিহ্য ও শোকের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের অংশ হিসেবে উল্লেখযোগ্য। সমাধিস্থল পরিদর্শনের পর তিনি দলীয় কর্মী ও সহকর্মীদের সঙ্গে অগ্রগামী পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন।
এরপর তিনি অগ্রগামীভাবে আগারগাঁওয়ের নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে গিয়ে ভোটার তালিকায় নিজের নাম যুক্ত করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। ইনস্টিটিউটে উপস্থিতি তার ভোটার নিবন্ধন ফর্ম পূরণ, পরিচয় যাচাই এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের আবেদনপত্র জমা দেওয়ার অন্তর্ভুক্ত ছিল। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, তারেক রহমানের আবেদন দ্রুত প্রক্রিয়াকরণ করা হয়েছে।
সেই দিন সকালে তারেক রহমান গুলশানের বাড়ি থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার অধীনে বেরিয়ে গেছেন। পূর্বের দুই দিনের মতো তিনি লাল‑সবুজ রঙের সরকারী বাসে না গিয়ে, সাদা রঙের একটি এসইউভি (SUV) ব্যবহার করেন। গাড়িটি ফুল দিয়ে সজ্জিত ছিল, যা তার ফিরে আসার উদযাপনকে সূক্ষ্মভাবে প্রকাশ করে।
গাড়ির সাদা রঙ এবং ফুলের সাজসজ্জা নিরাপত্তা দল ও পার্টির সদস্যদের দ্বারা বিশেষভাবে নজরদারিতে রাখা হয়। গাড়িটি গুলশান থেকে রওনা হয়ে সরাসরি আগারগাঁওয়ের ইনস্টিটিউটে পৌঁছায়, যেখানে নিরাপত্তা গার্ড এবং পার্টি কর্মীরা তার উপস্থিতি নিশ্চিত করেন।
বিএনপি ও বিরোধী দলের নেতারা এই ঘটনাকে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করছেন। বিরোধীরা উল্লেখ করেছেন, দীর্ঘ সময়ের পর দেশে ফিরে তারেক রহমানের ভোটার নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র প্রাপ্তি পার্টির সংগঠনকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। অন্যদিকে, কিছু বিশ্লেষকরা সতর্কতা প্রকাশ করেছেন যে, নিরাপত্তা ব্যবস্থার কঠোরতা এবং গাড়ির সজ্জা রাজনৈতিক প্রতীকবাদের অংশ হতে পারে।
এই ঘটনার পরবর্তী ধাপ হিসেবে, তারেক রহমানের ভোটার তালিকায় নাম যুক্ত হওয়া এবং জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়া বিএনপির নির্বাচনী কৌশলকে প্রভাবিত করতে পারে। পার্টি এখন নির্বাচনের জন্য প্রার্থী তালিকা প্রস্তুত করা, ভোটার সংযোগ বাড়ানো এবং সংগঠনগত কাঠামো শক্তিশালী করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। তারেকের সক্রিয় অংশগ্রহণের ফলে পার্টির ভিত্তি সম্প্রসারণে নতুন দিক উন্মোচিত হতে পারে।
সারসংক্ষেপে, তারেক রহমানের ভোটার নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র প্রাপ্তি দেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা নির্দেশ করে। নিরাপত্তা ব্যবস্থার কঠোরতা, গাড়ির সজ্জা এবং তার দ্রুত পদক্ষেপ ভবিষ্যৎ নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় তার ভূমিকা ও পার্টির অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করবে।



