সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ইউরো ২০২৫ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ইংল্যান্ডের দল বিজয়ী হয়ে ইতিহাস রচনা করেছে। কোচ সারিনা উইগম্যানের নেতৃত্বে লায়নেসেস প্রথমবারের মতো বিদেশে বড় টুর্নামেন্টের শিরোপা অর্জন করে, যা দেশের ফুটবল জগতে নতুন মাইলফলক হিসেবে স্বীকৃত।
২০২২ সালে হোম গ্রাউন্ডে জয়লাভের পর, ইংল্যান্ডের নারী দলকে আবারও উচ্চ প্রত্যাশা করা হয়। তবে টুর্নামেন্টের আগে বেশ কিছু মূল খেলোয়াড়ের আঘাত, অবসর এবং অনিয়মিত পারফরম্যান্সের কারণে শিরোপা রক্ষার পথ সহজ ছিল না। গার্ডেনের দীর্ঘমেয়াদী কভারেজকারী একজন সাংবাদিকের দৃষ্টিকোণ থেকে, এই চ্যালেঞ্জগুলোকে অতিক্রম করা টিমের দৃঢ়তা ও প্রস্তুতির প্রমাণ।
২০২২ সালের তুলনায় ২০২৫ সালের ইউরোতে জনসাধারণের অংশগ্রহণের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মেরি ইয়ার্পস এবং ফ্রান কির্বির অবসর, মিলি ব্রাইটের পদত্যাগ, এবং জর্জিয়া স্ট্যানওয়ে ও জেমস ও হেম্পের ফিটনেস নিয়ে ভক্তদের আগ্রহ বাড়ে। ফলে, ইংল্যান্ডের ভক্তরা বিশাল সংখ্যায় স্টেডিয়ামে উপস্থিত হয়ে ম্যাচের পরিবেশকে উজ্জ্বল করে তুলেছে, যা ২০২২ সালের হোম গেমের স্মৃতি পুনরুজ্জীবিত করেছে।
ফাইনাল ম্যাচটি উত্তেজনাপূর্ণ রোলার কোস্টার হিসেবে বর্ণনা করা যায়। দুই দলই সমানভাবে লড়াই করে, অতিরিক্ত সময়ে স্কোর সমান থাকায় পেনাল্টি শুটআউটে গিয়ে শেষ হয়। প্রতিটি পেনাল্টি শটের পর ভক্তদের মধ্যে আনন্দ ও দুঃখের মিশ্র অনুভূতি ছড়িয়ে পড়ে, যা পুরো টুর্নামেন্টের নাটকীয়তা বাড়িয়ে দেয়। শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের শুটআউটের সঠিকতা ও মানসিক স্থিতিশীলতা তাদেরকে বিজয়ী করে তুলেছে।
সারিনা উইগম্যানের কোচিং স্টাইল এবং টিমের সামগ্রিক কৌশলকে এই জয়ের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করা যায়। তিনি এবং তার সহায়ক স্টাফের পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ পদ্ধতি এবং ম্যাচের সময় নেওয়া ট্যাকটিক্যাল সিদ্ধান্তগুলো দলকে কঠিন মুহূর্তে সঠিক পথে নিয়ে গিয়েছে। এছাড়া, মেরি ইয়ার্পসের গার্ডেনের শেষ ম্যাচ, ফ্রান কির্বির বিদায় এবং মিলি ব্রাইটের ক্যারিয়ার সমাপ্তি টিমের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে কাজ করেছে।
এই বিজয় ইংল্যান্ডের নারী ফুটবলের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। প্রথম বিদেশি শিরোপা অর্জনের মাধ্যমে দলটি আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজের অবস্থান দৃঢ় করেছে এবং ভবিষ্যৎ টুর্নামেন্টের জন্য আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। এখন দলটি পরবর্তী আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার প্রস্তুতিতে মনোনিবেশ করবে, যেখানে একই রকম উচ্ছ্বাস ও সমর্থন প্রত্যাশা করা যায়।
ইউরো ২০২৫ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইংল্যান্ডের ভক্তরা স্টেডিয়াম থেকে বেরিয়ে এসে গর্বের সঙ্গে দেশীয় মিডিয়ায় বিজয়ের খবর ছড়িয়ে দিল। এই জয় কেবল একটি ট্রফি নয়, বরং দেশের নারী ফুটবলের বিকাশে নতুন উদ্যমের সূচনা। ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্যের পথে ইংল্যান্ডের লায়নেসেসের যাত্রা অব্যাহত থাকবে।



