বিএনপি কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং তার কন্যা জাইমা রহমান আজ ঢাকা নির্বাচন কমিশনের সদর দফতরে ভোটার তালিকায় নাম লেখানোর প্রক্রিয়া শেষ করেছেন। উভয়ই ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি আগামী বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত গণভোটের জন্য ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন। এই নিবন্ধন গুলশান, ধারা-১৭ (ওয়ার্ড ১৯) এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকার অধীনে সম্পন্ন হয়েছে।
নিবন্ধন প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ হিসেবে উভয়ই অনলাইন ফর্ম পূরণ করে ভোটার তালিকায় আবেদন জমা দিয়েছেন। ফর্ম জমা দেওয়ার পর নির্বাচন কমিশনের ইলেকশন ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে (ইটিআই) গিয়ে ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও আইরিস স্ক্যানের মাধ্যমে পরিচয় যাচাই করা হয়েছে। জাইমা সকাল ১২:৪৫ টায় তার নিবন্ধন শেষ করেন, আর তারেক বিকেল ১ টায় একই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দফতর ত্যাগ করেন।
জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পরিচালক জেনারেল এএসএম হুমায়ূন কবীর আজ সকালে উভয়ের নিবন্ধন নিশ্চিত করে জানান, এনআইডি কার্ড ৫ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইস্যু হবে। তিনি উল্লেখ করেন, অনলাইন ফর্মের তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডাটাবেসে তুলনা করা হয়; কোনো মিল না পাওয়া গেলে নতুন এনআইডি নম্বর তৈরি হয় এবং সংশ্লিষ্ট মোবাইল নম্বরে নোটিফিকেশন পাঠানো হয়।
ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও আইরিস স্ক্যানের পর সফটওয়্যার স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডেটা যাচাই করে, যদি কোনো ডুপ্লিকেট না থাকে তবে এনআইডি নম্বর জেনারেট হয়। এরপর নাগরিক তার স্মার্ট কার্ডটি নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত শাখা থেকে সংগ্রহ করতে পারবেন। নোটিফিকেশন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মোবাইলের মাধ্যমে এনআইডি ডাউনলোডের সুবিধা প্রদান করা হবে।
তারেক রহমান ২৫ ডিসেম্বর লন্ডন থেকে তার স্ত্রী ও কন্যা সহ বাংলাদেশে ফিরে আসেন, যা ১৭ বছর দীর্ঘ নির্বাসন শেষের সূচক। ফিরে আসার পর তৃতীয় দিনেই তিনি ও তার কন্যা ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় অংশ নেন, যা তার রাজনৈতিক পুনরাগমনকে চিহ্নিত করে।
এই নিবন্ধন প্রক্রিয়া তারেকের দেশে ফিরে আসার পর দ্রুত সম্পন্ন হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিশ্লেষক ও পার্টি কর্মীদের দৃষ্টিতে দেখা হচ্ছে। ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালে ভোটার তালিকায় নাম লেখানো তারেকের রাজনৈতিক উপস্থিতি দৃঢ় করার একটি প্রাথমিক কাজ।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, আজকের নিবন্ধন প্রক্রিয়া কোনো প্রযুক্তিগত সমস্যাবিহীনভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং সকল প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনুসরণ করা হয়েছে। ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও আইরিস স্ক্যানের ডেটা নিরাপদ সার্ভারে সংরক্ষণ করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে ভোটার পরিচয় যাচাইয়ের ভিত্তি হবে।
জাতীয় পরিচয়পত্রের দ্রুত ইস্যু নিশ্চিত করার জন্য এনআইডি ডি.জি. উল্লেখ করেন, সফটওয়্যার স্বয়ংক্রিয়ভাবে তথ্য মিলিয়ে নতুন নম্বর তৈরি করে এবং তা ৫ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রেরণ করে। এই সময়সীমা ভোটারদের দ্রুত ভোটার কার্ড পাওয়ার সুযোগ দেয়, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বাড়ায়।
বিএনপি-র কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যানের এই পদক্ষেপ পার্টির নির্বাচনী কৌশলের একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, তবে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি। পার্টির অভ্যন্তরে এই নিবন্ধনকে দলের সংগঠনের পুনর্গঠন ও ভোটার ভিত্তি সম্প্রসারণের একটি সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গণভোট ও সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালে ভোটার তালিকায় নাম লেখানো রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য অপরিহার্য। তারেক ও জাইমার নিবন্ধন এই প্রেক্ষাপটে একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, যা নির্বাচনী অংশগ্রহণের অধিকার নিশ্চিত করে।
অবশেষে, এনআইডি ডি.জি. হুমায়ূন কবীরের তথ্য অনুযায়ী, তারেক ও জাইমা উভয়েরই এনআইডি কার্ড আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হাতে পাবেন এবং তা সংগ্রহের পর ভোটার হিসেবে তাদের অধিকার সম্পূর্ণভাবে সক্রিয় হবে। এই প্রক্রিয়া বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে পরিচালিত হয়েছে।



