22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধউদয়পুর আদালত বিক্রম ভাট ও শ্বেতাঞ্জলি ভাটের জামিন প্রত্যাখ্যান, ৩০ কোটি জালিয়াতি...

উদয়পুর আদালত বিক্রম ভাট ও শ্বেতাঞ্জলি ভাটের জামিন প্রত্যাখ্যান, ৩০ কোটি জালিয়াতি মামলায়

উদয়পুরের এক আদালত ২৪ ডিসেম্বর বিক্রম ভাট এবং তার স্ত্রী শ্বেতাঞ্জলি ভাটের জামিনের আবেদন দুবারই প্রত্যাখ্যান করেছে। ৩০ কোটি টাকার জালিয়াতি মামলায় দুজনের ওপর আরোপিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত চলমান, ফলে আদালত এই মুহূর্তে জামিন প্রদানকে অনুচিত বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে যে, তদন্তের বর্তমান পর্যায়ে আরও গ্রেপ্তার ও জিজ্ঞাসাবাদ হতে পারে। অভিযোগের গম্ভীরতা ও চলমান তদন্তের প্রেক্ষাপটে এই সময়ে জামিন দিলে মামলার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারকে ক্ষতি হতে পারে, তাই আদালত এই রায় দেয়।

মামলাটি উড়াইপুর ভিত্তিক ডঃ অজয় মুর্দিয়া, ইন্দিরা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা, দ্বারা দায়ের করা হয়। মুর্দিয়া দাবি করেন যে তিনি বিক্রম ভাটের সঙ্গে একাধিক চলচ্চিত্রের জন্য, বিশেষ করে তার স্ত্রীর নামের ওপর ভিত্তি করে একটি বায়োপিকের জন্য, প্রায় ৩০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেন। বিনিয়োগের বদলে তাকে ১০০ থেকে ২০০ কোটি টাকার লাভের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তবে কোনো রিটার্ন না পাওয়ায় তিনি আইনগত পদক্ষেপ নেন।

এই মামলায় ইতিমধ্যে কয়েকজনের গ্রেপ্তার হয়েছে। ভাট দম্পতির আগে সহ-প্রযোজক মেহবুব আনসারি এবং বিক্রেতা সন্দীপকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিক্রম ও শ্বেতাঞ্জলি ভাটকে ৭ ডিসেম্বর মুম্বাইয়ে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ৯ ডিসেম্বর উড়াইপুরের আদালতে হাজির করা হয়। প্রথমে তারা পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়, পরে ১৪ দিনের জন্য বিচারিক হেফাজতে স্থানান্তরিত হয়।

মামলাটি প্রথম প্রকাশ পায় যখন রাজস্থানের পুলিশ মুম্বাইয়ে দম্পতিকে জালিয়াতি অভিযোগে আটক করে। তখন উড়াইপুরের পুলিশ তাদের রাজস্থানে নিয়ে যাওয়ার জন্য ট্রানজিট রিম্যান্ডের আবেদন করে, যাতে তারা আর্থিক অনিয়মের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদে অংশ নিতে পারে।

অভিযোগের ভিত্তিতে উড়াইপুরের ভোপালপুরা থানা থেকে এফআইআর দাখিল করা হয়। এফআইআরটি উল্লেখ করে যে, ভাট দম্পতি ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যক্তিরা মুর্দিয়ার বিনিয়োগের টাকা গোপনভাবে ব্যবহার করে ব্যক্তিগত লাভ অর্জনের চেষ্টা করেছে।

আদালত এখন পর্যন্ত যে রায় দেয়, তা অনুসারে তদন্তের পরবর্তী ধাপগুলোতে আরও সাক্ষী ও প্রমাণ সংগ্রহের প্রয়োজন হবে। উড়াইপুরের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ইতিমধ্যে দম্পতির সঙ্গে সম্পর্কিত আর্থিক নথি ও চলচ্চিত্র প্রকল্পের চুক্তিপত্রের বিশ্লেষণ চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, উড়াইপুরের আদালত ভবিষ্যতে জামিনের পুনরায় আবেদন গ্রহণের সম্ভাবনা রাখবে, তবে তা সম্পূর্ণভাবে তদন্তের অগ্রগতি ও প্রমাণের শক্তির ওপর নির্ভর করবে। বর্তমানে দম্পতি বিচারিক হেফাজতে রয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আরও কোনো অভিযোগ উন্মোচিত হলে তা আদালতে উপস্থাপন করা হবে।

এই মামলায় জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদেরও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। বিশেষ করে চলচ্চিত্রের আর্থিক হিসাব, বিনিয়োগের রসিদ এবং মুর্দিয়ার সঙ্গে চুক্তিপত্রের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। উড়াইপুরের পুলিশ ও তদন্তকারী সংস্থা এই তথ্যগুলোকে ভিত্তি করে অতিরিক্ত গ্রেপ্তার বা জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে যাবে।

মামলার মূল বিষয় হল, মুর্দিয়া যে বিনিয়োগের জন্য ভাট দম্পতির ওপর বিশ্বাস রেখেছিলেন, তা কি সত্যিই চলচ্চিত্রের উৎপাদনের জন্য ব্যবহার হয়েছে, নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্যে ব্যয় হয়েছে। এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া পর্যন্ত আদালত ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কঠোরভাবে তদন্ত চালিয়ে যাবে।

বিক্রম ভাট ও শ্বেতাঞ্জলি ভাটের জামিন প্রত্যাখ্যানের এই রায় উড়াইপুরের আইনগত প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, যা মামলার পরবর্তী দিকনির্দেশনা নির্ধারণে প্রভাব ফেলবে। ভবিষ্যতে আদালত কীভাবে রায় দেবে এবং তদন্তের ফলাফল কী হবে, তা এখনও অনিশ্চিত, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দম্পতির মুক্তি না দিয়ে তদন্তকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

৬৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: Bollywood Hungama
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments