কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদে ঐতিহাসিক দান বাক্সের সর্বশেষ খোলার ফলে ৩৫টি থলে নগদ, স্বর্ণের গহনা, বিদেশি মুদ্রা ও হীরার বিশাল পরিমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। মসজিদটি নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ধর্ম নির্বিশেষে নিয়মিত দান করে আসেন। এইবার দান বাক্সগুলো ৩ মাস ২৭ দিন পর, আগের তুলনায় কম সময়ে খুলে ফেলা হয়।
দৈনিকভাবে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ পাগলা মসজিদে দান করতে আসেন এবং প্রতি তিন‑চার মাসে দান বাক্সে জমা হওয়া অর্থ ও সম্পদের পরিমাণ চমকপ্রদভাবে বাড়ে। পূর্বে দেখা গিয়েছে যে, দান বাক্সে নগদ, বিদেশি মুদ্রা এবং স্বর্ণের গহনা একত্রে বিশাল পরিমাণে জমা হয়, যা মসজিদের আর্থিক স্বচ্ছতা ও সামাজিক দায়িত্বের প্রতিফলন।
এইবার দান বাক্সের খোলার সময়সূচি পূর্বের তুলনায় সংক্ষিপ্ত ছিল; ৩ মাস ২৭ দিন পরই বাক্সগুলো খুলে ফেলা হয়। খোলার কাজের আগে দান বাক্সগুলো থেকে তোলার জন্য প্রস্তুত করা থলাগুলোকে মেঝেতে সাজিয়ে গণনা করা হয়।
মসজিদ কর্তৃপক্ষের রেকর্ড অনুযায়ী, ৩০ আগস্ট পর্যন্ত চার মাস ১৮ দিন সময়ে দান বাক্সে মোট টাকার পরিমাণ ছিল ১২ কোটি ৯ লক্ষ ৩৭ হাজার ২২০ টাকা, যার পাশাপাশি বিদেশি মুদ্রা, স্বর্ণের গহনা ও হীরারও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। এই পরিসংখ্যান পূর্বের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
দান বাক্সের গণনা সকাল ৭ টা থেকে শুরু হয় এবং এতে কিশোরগঞ্জের ডেপুটি কমিশনার, মসজিদ কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা, পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট ড. এস.এম. ফারহাদ হোসেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা অংশ নেন। অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার (সাধারণ) মিজাবে রাহমত এবং অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার (রাজস্ব) মোহাম্মদ নাহিদ হাসান খানও উপস্থিত ছিলেন।
গণনা প্রক্রিয়ায় প্রায় ৫০০ জনের বেশি মানুষ যুক্ত ছিলেন। এর মধ্যে পাগলা মসজিদের অনাথাশ্রমের অধীনে পরিচালিত আল জামিয়াতুল ইমদাদিয়া ও দুইটি মাদ্রাসার প্রায় ৩৫০ জন ছাত্র, রূপালী ব্যাংকের প্রায় ১০০ জন কর্মচারী এবং মসজিদ কমিটির সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। সবাই মিলে থলাগুলোকে একে একে খুলে, নগদ ও সম্পদকে সুনির্দিষ্টভাবে গুনে নথিভুক্ত করা হয়।
নগদের পাশাপাশি দাতারা পোল্ট্রি, গরু, ছাগল ইত্যাদি প্রাণীর দানও নিয়মিত করে থাকেন, যা মসজিদের সামাজিক সেবা কার্যক্রমে ব্যবহার করা হয়। এসব দান স্থানীয় দরিদ্র পরিবার ও অনাথশিশুদের সহায়তায় সরাসরি কাজে লাগানো হয়।
অধিকাংশ দাতার বিশ্বাস যে, দানের স্বচ্ছতা ও সঠিক হিসাব-নিকাশ মসজিদের সুনাম বাড়ায় এবং ভবিষ্যতে আরও বড় পরিমাণ দান আকর্ষণ করবে। কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করেছে যে, এই রেকর্ডভঙ্গী সংগ্রহ পরবর্তী সময়ে আরও বৃদ্ধি পাবে এবং মসজিদে দানের সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী হবে।
পাঠকদের জন্য বিশেষ টেকঅ্যাওয়ে: পাগলা মসজিদে দানের স্বচ্ছতা ও বৃহৎ পরিমাণ সংগ্রহ স্থানীয় সমাজে দাতব্য কার্যক্রমের গুরুত্বকে পুনরায় তুলে ধরেছে। দানকারী হিসেবে আপনার অবদান যদি সঠিকভাবে নথিভুক্ত হয়, তবে তা সমাজের উন্নয়নে সরাসরি প্রভাব ফেলে। তাই, আপনার দানকে সঠিকভাবে রেকর্ড করা এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখা সমাজের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার অন্যতম পথ।



