19 C
Dhaka
Friday, January 30, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধধলেশ্বরী টোলপ্লাজা দুর্ঘটনায় ইকবাল হোসেনের পরিবারে চারজনের মৃত্যু, চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ

ধলেশ্বরী টোলপ্লাজা দুর্ঘটনায় ইকবাল হোসেনের পরিবারে চারজনের মৃত্যু, চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের ধলেশ্বরী টোলপ্লাজায় গত বছর ২৭ ডিসেম্বর একটি বাসের ধাক্কায় ইকবাল হোসেনের পরিবারে চারজনের মৃত্যু ঘটেছে। মৃতদের মধ্যে ছিলেন তার স্ত্রী আমেনা আক্তার (৪৫), বড় মেয়ে ইসরাত জাহান (২৬), ছোট মেয়ে রিহা মনি (১১) এবং ইসরাতের দুই বছরের ছেলে আইয়াজ হোসেন। একই দুর্ঘটনায় বেপারী পরিবহনের বাসে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটিয়ে মোটরসাইকেল চালক সুমন মিয়ার স্ত্রী নিপা আক্তার রেশমা (২৬) ও তাদের সাত বছরের ছেলে মো. আবদুল্লাহও প্রাণ হারিয়েছেন।

ইকবাল হোসেন এক বছর আগে এই ট্র্যাজেডি থেকে সরে দাঁড়াতে পারেননি। তিনি আগে তার স্ত্রী ও তিন কন্যার সঙ্গে বাসা গড়ে তুলেছিলেন; বড় দুই মেয়ে বিয়ে করে অন্য শহরে বসবাস করতেন, আর ছোট রিহা মনি ও তার নাতি জুরাইনে ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। পরিবারে একসাথে বসে খাবার ভাগাভাগি করা, সন্তানদের পা দেখার আনন্দই ছিল তাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ।

দুর্ঘটনার মুহূর্তে টোলপ্লাজায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি প্রাইভেট কার ও একটি মোটরসাইকেলকে বেপারী পরিবহনের বাস জোরে ধাক্কা দেয়। বাসের চালক গাড়ি থামাতে ব্যর্থ হওয়ায় উপরে উল্লেখিত চারজনের পাশাপাশি মোটরসাইকেল চালক ও তার পরিবারের সদস্যদেরও প্রাণ হারাতে বাধ্য হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ দ্রুত তদন্ত শুরু করে এবং প্রাথমিক রিপোর্টে দুর্ঘটনাটিকে সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করে।

মৃত্যুর পরপরই আমেনা আক্তারের ভাই নুরুল আমিন দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানায় সড়ক পরিবহন আইনে মামলা দায়ের করেন। তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন মুন্সীগঞ্জের হাসারা হাইওয়ে থানার এসআই মো. আব্দুর রহমান। তদন্তের ফলস্বরূপ ২৮ অক্টোবর চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। অভিযুক্তদের মধ্যে ছিলেন বেপারী পরিবহনের চালক নুর উদ্দিন (২৯), বাসের মালিক মোস্তফা রাঢ়ী (৬৫), তার পুত্র পারভেজ রাঢ়ী (২৭) এবং পরিবহন ব্যানার ব্যবহারকারী ডাবলু বেপারী (৪৭)।

অভিযুক্ত সকলেই বর্তমানে জামিনে আছেন এবং মামলাটি আদালতে শোনার জন্য অপেক্ষা করছে। বিচারিক প্রক্রিয়া এখনও চলমান, তবে এখন পর্যন্ত কোনো রায় প্রকাশিত হয়নি। ইকবাল হোসেনের পরিবারকে সমর্থন করার জন্য কিছু স্থানীয় সংগঠন ও প্রতিবেশীরা সহায়তা প্রদান করেছে, তবে আইনি দিক থেকে মামলাটি এখনও রয়ে গেছে।

ইকবাল হোসেন মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলার সময় জানান, “অনেক কঠিন সময় যাচ্ছে, এক নিঃসঙ্গ জীবন কাটছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “মেয়েরা আমার হৃদয়ের টুকরো ছিল, এখন দুজনই নেই। আমি একা একা বেঁচে আছি, জীবনের ভার বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।” তার কথায় শোকের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার গভীরতা প্রকাশ পেয়েছে।

দুর্ঘটনা ঘটার এক বছর পরেও ইকবাল হোসেনের শোকের ছায়া পুরো পরিবারকে আচ্ছন্ন করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, “এইভাবে জীবন চালাতে কষ্ট হচ্ছে, প্রতিদিনের দিনগুলো যেন এক অন্ধকার গলি।” তার কণ্ঠে দুঃখের পাশাপাশি ন্যায়বিচারের তীব্র আকাঙ্ক্ষা স্পষ্ট।

আইনি দিক থেকে ইকবাল হোসেনের দাবি স্পষ্ট: “যারা দোষী, তাদের বিচার চাই। এটা যেন সড়ক দুর্ঘটনা আইনে না হয়ে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়ে মামলার বিচার হয়।” তিনি বলেন, “কারণ ওই গাড়ির চালক ইচ্ছাকৃতভাবে গাড়ি না থামিয়ে ঘটনাটি ঘটিয়েছে। পুলিশ সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে চার্জশিট দিয়েছে, আমরা চাই মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হোক।” এই দাবি আদালতে কীভাবে বিবেচিত হবে তা এখনো অনিশ্চিত।

মামলায় যুক্ত চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল হওয়ার পর থেকে তদন্তের অগ্রগতি ধীরগতিতে চলছে। আদালতে পরবর্তী শুনানি নির্ধারিত হয়েছে, যেখানে ইকবাল হোসেনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত প্রমাণ ও সাক্ষী উপস্থাপন করা হতে পারে। একই সঙ্গে, অভিযুক্তদের জামিনের শর্তাবলী ও সম্ভাব্য রিলিজের বিষয়েও আলোচনা হবে। এই সময়ে ইকবাল হোসেনের শোক ও ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষা সমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে, এবং মামলাটির ফলাফল দেশের সড়ক নিরাপত্তা নীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

৮৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিডিনিউজ২৪
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments