অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশ লিগে প্রথমবার অংশগ্রহণকারী তরুণ লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন, হোবার্ট হারিকেন্সের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে দলকে জয় নিশ্চিত করতে সহায়তা করেছেন। এই ম্যাচটি বাংলাদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী দিনের পরপরই অনুষ্ঠিত হয়, ফলে রিশাদের অস্ট্রেলিয়ান মাটিতে debut স্বভাবেই দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
রিশাদ BPL-এ খেলেন না, তবে বিগ ব্যাশে তার উপস্থিতি দেশের ক্রিকেটের নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। হোবার্টের সঙ্গে এই ম্যাচে তিনি চার ওভারে ৩৩ রান দিয়ে তিনটি উইকেট নেন, যা তার গড় ১৭.৫০ এবং স্ট্রাইক রেট ১৪ বজায় রাখে। ওভার প্রতি সাড়ে সাত রান দিয়ে তিনি অর্থনীতির দিক থেকেও দলের জন্য মূল্যবান অবদান রেখেছেন।
বিশেষ করে রিশাদের প্রথম ওভারেই কোপার, কনেলি এবং আরন হার্ডিকে দ্রুত আউট করে দলের ওপর চাপ কমিয়ে দেন। পরবর্তী ওভারে লরি ইভান্সের আক্রমণ থামিয়ে তিনি তৃতীয় উইকেটটি নেন, ফলে হোবার্টের ব্যাটিং লাইন‑আপে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। এই ধারাবাহিকতা রিশাদের স্পিনের গতি ও পরিবর্তনের দক্ষতা প্রকাশ করে।
মোট চার ম্যাচে রিশাদের হোবার্টের হয়ে ছয়টি উইকেট রয়েছে, যা টুর্নামেন্টের শীর্ষ তিন বোলারের মধ্যে তাকে রাখে। তার পরিসংখ্যানের তুলনায় কেবল তিনজন বোলারই বেশি উইকেট সংগ্রহ করেছেন, যা তার দ্রুত অগ্রগতি নির্দেশ করে। টুর্নামেন্টের বর্তমান পর্যায়ে রিশাদের গড় ও স্ট্রাইক রেট তাকে একটি নির্ভরযোগ্য বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
হোবার্টের দল এখন তৃতীয় জয়ের পর ছয় পয়েন্ট নিয়ে টেবিলে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। রিশাদের এই পারফরম্যান্স দলকে ছোট বাউন্ডারির শর্তেও আক্রমণাত্মক বিকল্প প্রদান করেছে, ফলে ম্যাচের ফলাফলে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে। দলের সামগ্রিক রণনীতি ও কৌশলে তার ভূমিকা স্পষ্টতই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
দলের কোচ ডেভিড রিশাদের পারফরম্যান্সকে প্রশংসা করে বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবারের মতো রিশাদ যে ভাবে খেলা চালিয়ে যাচ্ছে তা দেখার জন্য সবাই গর্বিত। তিনি উল্লেখ করেন, ছোট বাউন্ডারির পরেও রিশাদকে সহজে বলিংয়ে আনা যায়, কারণ তার দক্ষতা ও বিশেষ গুণাবলী রয়েছে। কোচের মতে, রিশাদের টেকনিক্যাল ক্ষমতা ও মানসিক দৃঢ়তা তাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও বড় দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত করেছে।
বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য রিশাদের এই সাফল্য একটি ইতিবাচক সংকেত। তার পারফরম্যান্স দেশীয় তরুণদের জন্য উদাহরণস্বরূপ এবং আন্তর্জাতিক লিগে বাংলাদেশি খেলোয়াড়ের উপস্থিতি বাড়িয়ে তুলতে পারে। ভবিষ্যতে রিশাদ যদি এই রূপে ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন, তবে তিনি জাতীয় দলে ফিরে আসার সম্ভাবনা আরও শক্তিশালী হবে।
হোবার্ট হারিকেন্সের পরবর্তী ম্যাচে তারা আবারও অস্ট্রেলিয়ার ভিন্ন শহরে মুখোমুখি হবে, যেখানে রিশাদের স্পিনের প্রয়োজনীয়তা আবারও পরীক্ষা করা হবে। রিশাদ ও তার দল উভয়েরই লক্ষ্য থাকবে ধারাবাহিক জয় নিশ্চিত করা এবং টুর্নামেন্টের শীর্ষে পৌঁছানো। এই ধারাবাহিকতা রিশাদের ক্যারিয়ারকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে, যা বাংলাদেশি ক্রিকেটের জন্য গর্বের বিষয়।



