গত শুক্রবারের সংবাদ সম্মেলনের শেষ মুহূর্তে উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠল, “কমিটির দল, এটা কেমন অনুভব হচ্ছে?” ক্যাপ্টেন শেখ মেহেদি হাসান হেসে উত্তর দিলেন।
প্রশ্ন শোনার সঙ্গে সঙ্গে তিনি এক মুহূর্ত থেমে ভাবলেন, তারপর হাস্যরসের ছলে বললেন, কমিটির দলকে আমরা স্থানীয়ভাবে জানি এবং সরাসরি সম্প্রচারিত খেলায় তাদের উপস্থিতি কোনো প্রভাব ফেলবে না।
ক্যাপ্টেনের কথায় স্পষ্ট ছিল যে তিনি প্রশ্নটি মজার ছলে নিয়েছেন এবং কোনো গম্ভীর মন্তব্যের ইচ্ছা নেই। তিনি আরও যোগ করেন, “এটা শুধু মজা, ঠিক আছে।”
স্থানীয় টুর্নামেন্টে প্রায়ই আয়োজকের দল থাকে এবং কমিটির পক্ষপাতিত্ব নিয়ে নানা আলোচনা হয়। এখন বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) মঞ্চে এমন বিষয়গুলোকে প্রকাশের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
চট্টগ্রাম রয়্যালস, যা বর্তমানে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এর অধীনে পরিচালিত, এই টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছে। দলটি পূর্বে বেসামরিক মালিকানায় ছিল, তবে আর্থিক সমস্যার কারণে মালিকরা অধিকার ছেড়ে দেন।
টুর্নামেন্টের শুরুর আগের দিনই বিসিবি দলটির দায়িত্ব গ্রহণ করে দ্রুত কোচ ও টিম ম্যানেজমেন্ট গঠন করে। এই দ্রুত পদক্ষেপের ফলে দলটি অস্থিরতা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়।
বহির্ভূত বিশৃঙ্খলা থাকা সত্ত্বেও, উদ্বোধনী ম্যাচে চট্টগ্রাম রয়্যালস চমকপ্রদ পারফরম্যান্স দেখায়। সিলেটের মাঠে শুক্রবার তারা নোয়াখালী এক্সপ্রেসের লক্ষ্য ৬৫ রানের চ্যালেঞ্জ সফলভাবে পূরণ করে জয়লাভ করে।
বিসিবি তত্ত্বাবধানে দলটি যখন প্রস্তুত হচ্ছিল, তখন খেলোয়াড়দের মধ্যে অনিশ্চয়তা দেখা দিচ্ছিল। জয়লাভের পর ক্যাপ্টেন স্পষ্টভাবে বললেন, “যদি ব্যবস্থাপনা ঠিক না থাকে, তবে খেলোয়াড়দের মনোভাব প্রভাবিত হয়। আমরা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার, এমন পরিবেশে আগে কখনো কাজ করিনি।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “এমন কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজিতে আমি এমন অবস্থা দেখিনি, যা আমার জন্য কঠিন ছিল।” এই স্বীকারোক্তি দলীয় ব্যবস্থাপনার সমস্যাকে প্রকাশ করে, তবে একই সঙ্গে তার পেশাদারিত্বের ইঙ্গিত দেয়।
ক্যাপ্টেনের মতে, পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, মাঠে নামলে সব শক্তি খেলার দিকে নিবদ্ধ থাকে। তিনি বলেন, “খেলায় ঢুকলে আমাদের প্রচেষ্টা সম্পূর্ণভাবে খেলার জন্যই থাকে, এটাই আমাদের মানসিকতা।”
অন্য একটি মন্তব্যে তিনি বললেন, “ঝড়-তুফান যতই হোক, খেলা মাঠের মধ্যে থাকে। যখন আপনি ২২ গজে পা রাখবেন, তখন মনোভাব সম্পূর্ণভাবে খেলায় কেন্দ্রীভূত হবে।”
এই কঠিন সময়ে ক্যাপ্টেন ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রেখেছেন এবং দলের মনোবল বাড়াতে চেষ্টা করছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “যে কোনো বাধা থাকুক, আমরা মাঠে আমাদের সেরা দিতে প্রস্তুত।”
চট্টগ্রাম রয়্যালসের এই জয় এবং ক্যাপ্টেনের উন্মুক্ত মন্তব্যগুলো দলীয় পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দেয়। বিসিবি তত্ত্বাবধানে দলটি এখন স্থিতিশীলতা অর্জনের পথে অগ্রসর হচ্ছে।



