অস্ট্রেলিয়ার টি-টোয়েন্টি দলকে কেন্দ্র করে বড় প্রশ্ন উঠেছে। ব্যাটসম্যান ডেভিড শুক্রবারের বিগ ব্যাশ ম্যাচে হ্যামস্ট্রিং চোটের কারণে মাঠ ছেড়ে যান, ফলে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে তার অংশগ্রহণ অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
ডেভিড হোবার্ট হারিকেন্সের হয়ে পার্থ স্কর্চার্সের বিপক্ষে ২৮ রান (৪২ balls) তৈরি করে দলকে জয়ের পথে এগিয়ে নেন। তবে রান নেওয়ার সময় হ্যামস্ট্রিংয়ে টান অনুভব করে তিনি তৎক্ষণাৎ মাঠ ত্যাগ করেন। এই ঘটনার ফলে তার শারীরিক অবস্থার পর্যালোচনা জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এটি ডেভিডের এই বছর দ্বিতীয় হ্যামস্ট্রিং চোট। প্রথমবারের চোট তিনি আইপিএল সময়ে অনুভব করেন, যেখানে রোয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু শিরোপা জয়ের শেষ পর্যায়ে তার উপস্থিতি সীমিত ছিল। সেই পরের দুই মাস তিনি মাঠের বাইরে ছিলেন, পরে ধীরে ধীরে ফিরে আসেন।
বর্তমান চোটের পর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শুরুতে মাত্র দেড় মাস বাকি। অস্ট্রেলিয়ার টি-টোয়েন্টি দলে ডেভিডের ভূমিকা অপরিহার্য, বিশেষ করে তিনি এই মৌসুমে চার‑পাঁচ নম্বরের ব্যাটিং অবস্থানে উন্নীত হয়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। তার অনুপস্থিতি দলের ব্যাটিং শক্তিতে বড় ফাঁক তৈরি করতে পারে।
ডেভিডের চোটের তীব্রতা নির্ধারণের জন্য শনিবার স্ক্যান করা হবে। স্ক্যানের ফলাফল নির্ধারণ করবে তিনি কতদিনের জন্য ব্যাটিং থেকে দূরে থাকতে পারবেন এবং বিশ্বকাপের আগে তার ফিটনেস কতটা নিশ্চিত হবে।
ম্যাচের পর চ্যানেল সেভেনে ডেভিডের মুখে অনিশ্চয়তার ছাপ স্পষ্ট ছিল। তিনি বললেন, “দ্বিতীয় রান নেওয়ার সময় কিছু অস্বস্তি অনুভব করেছি, যা আদর্শ নয়। আমি ক্রিজে থেকে আরও খারাপ কিছু না ঘটাতে চেয়েছি, তবে এখন স্ক্যানের ফলের অপেক্ষা করছি।” তার কথায় স্পষ্ট যে তিনি দলের বাকি অংশকে কাজ সম্পন্ন করতে বিশ্বাস রাখেন, তবে নিজের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বিগ্ন।
ডেভিড আরও উল্লেখ করেন, “বিশ্বকাপের দৃষ্টিতে আমাদের অনেকের চোখ ডেভিডের ওপর রয়েছে, তা স্বীকার না করা মিথ্যা হবে। আমি সহকর্মী হারিকেন্সের কিছু ম্যাচে না থাকতে পারা নিয়ে দুঃখিত, আশা করি তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে টুর্নামেন্টের শেষ দিকে ফিরে আসবেন এবং বিশ্বকাপেও অংশ নিতে পারবেন।” হারিকেন্সের গুরুত্ব তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, “তিনি অস্ট্রেলিয়ান দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, চার নম্বরে ব্যাটিং করে শক্তি দেখাচ্ছেন, তাই তার কোনো গুরুতর সমস্যা না থাকলে আমরা স্বস্তি পাব।”
এই বছর অস্ট্রেলিয়ার টি-টোয়েন্টি শেডিউলে ডেভিডের পারফরম্যান্স চিত্তাকর্ষক। দশটি ইনিংসে তিনি ৩৯৫ রান সংগ্রহ করেছেন, গড় ৪৯.৩৭ এবং স্ট্রাইক রেট ১৯৭.৫। এছাড়া তিনি এই মৌসুমে প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি শতকোটি রেকর্ড করেছেন।
সামগ্রিকভাবে, ডেভিডের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে এই বছর গড় ৩৯.৭, স্ট্রাইক রেট ১৭২.৮৯ এবং মোট ১২০৩ রান রয়েছে। তার ধারাবাহিকতা এবং উচ্চ স্কোরিং ক্ষমতা অস্ট্রেলিয়ার টি-টোয়েন্টি পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ডেভিডের চোটের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং স্ক্যানের ফলাফল অস্ট্রেলিয়ার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে কী প্রভাব ফেলবে তা এখনই নজরে থাকবে। দলটি শীঘ্রই তার ফিটনেসের ভিত্তিতে কৌশল নির্ধারণ করবে এবং বিশ্বকাপের জন্য সেরা ব্যাটিং শেডিউল গঠন করবে।



