অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের মধ্যে চতুর্থ অ্যাশেস টেস্টের প্রথম দিন মেলবোর্নের মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ভয়াবহভাবে শেষ হয়। টিম অস্ট্রেলিয়া ১৫২ রান দিয়ে আউট হয়, আর ইংল্যান্ডের জবাব ১১০ রান। দু’দলই একে অপরের বিপরীতে ব্যাটিংয়ে সংগ্রাম করে, ফলে প্রথম দিনে মোট বিশটি উইকেট নেমে আসে।
দ্বিতীয় দিন সকালে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং আরও কঠিন হয়ে পড়ে, লাঞ্চের সময় স্কোর ৯৮-৬ থাকে। অতিরিক্ত ছয়টি উইকেট নেমে মোট ২৬টি উইকেট ৯৮ ওভারে নেমে আসে, চারটি সেশনের মধ্যে এই সংখ্যা রেকর্ড করে। এই পরিমাণ প্রথম দিনেই গৃহীত উইকেটের সংখ্যা ১৯০৯ সাল থেকে সর্বোচ্চ, যা পূর্বের ঐতিহাসিক রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যায়।
শুরুতে পার্থের টেস্টে প্রথম দিনে ১৯টি উইকেট নেমে যাওয়া একটি সতর্ক সংকেত ছিল, তবে সেখানে দুই দিনের মধ্যে ম্যাচ শেষ হয়ে গিয়েছিল। পার্থের দ্রুত সমাপ্তি অস্ট্রেলিয়ার আর্থিক ক্ষতি বাড়িয়ে দেয়, যেখানে মিলিয়ন ডলারের আয় হারিয়ে যায়। মেলবোর্নের এই ম্যাচও একইভাবে আর্থিক চাপ বাড়িয়ে তুলেছে, কারণ বড় দর্শকসংখ্যা সত্ত্বেও টেস্টের সময়সীমা হ্রাস পেয়েছে।
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান টড গ্রিনবার্গ রেডিওতে জানান যে তিনি গত রাতটি ভালভাবে ঘুমাতে পারেননি। ৯৪,০০০ দর্শক মেলবোর্নের গ্রাউন্ডে একত্রিত হওয়া একটি বিশাল ঘটনা, তবে তিনি উল্লেখ করেন যে ধারাবাহিকভাবে এমন অভিজ্ঞতা প্রদান করা এখন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের কাজ হল প্রতিদিন এমনই উত্তেজনা ও আনন্দ বজায় রাখা।”
মেলবোর্নের পিচে ১০ মিমি ঘাসের স্তর রাখা হয়েছিল, যা বোলারদের জন্য অতিরিক্ত ঘূর্ণন ও বাউন্স সৃষ্টি করে। মেঘলা আকাশের নিচে পিচের এই বৈশিষ্ট্যগুলো ব্যাটসম্যানদের জন্য কঠিন শর্ত তৈরি করে, ফলে উইকেটের সংখ্যা বাড়ে। গ্রিনবার্গ উল্লেখ করেন যে পিচের এই প্রস্তুতি বোলারদের সুবিধা দেয়, তবে ব্যাটসম্যানদের জন্য সমতা বজায় রাখা প্রয়োজন।
টেস্টের দৈর্ঘ্য সংক্রান্ত আলোচনায় গ্রিনবার্গ স্পষ্টভাবে বলেন, “স্বল্প টেস্ট ব্যবসার জন্য ক্ষতিকর।” তিনি আরও যোগ করেন, “এটি নিয়ে আরও সরাসরি কথা বলা কঠিন নয়।” তার মতে, টেস্টের সময়সীমা কমিয়ে দিলে দর্শকসংখ্যা ও টেলিভিশন রেভিনিউ উভয়ই প্রভাবিত হয়। তাই তিনি টেস্টের দৈর্ঘ্য বাড়িয়ে ব্যাট ও বলের মধ্যে সামঞ্জস্য রক্ষা করার আহ্বান জানান।
বোলারদের সুবিধা বাড়াতে পিচের ঘাসের পরিমাণ বাড়ানো এবং আকাশের আবহাওয়া দুটোই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে গ্রিনবার্গের মতে, এই ধরনের পিচ প্রস্তুতি দীর্ঘমেয়াদে টেস্টের আকর্ষণ কমিয়ে দিতে পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “একটি টেস্টের মূল উদ্দেশ্য হল ব্যাটসম্যান ও বোলার উভয়ের জন্য সমান সুযোগ তৈরি করা।”
পূর্বের কিছু কিংবদন্তি খেলোয়াড়ও মেলবোর্নের পিচ নিয়ে সমালোচনা প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে এক্স-ইংল্যান্ড ক্যাপ্টেনের মন্তব্যে দেখা যায়, পিচের অতিরিক্ত গতি ও বাউন্স ব্যাটিংকে কঠিন করে তুলেছে। এই সমালোচনা অস্ট্রেলিয়ার পিচ প্রস্তুতির পদ্ধতি পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের টেস্ট সিরিজের পরবর্তী ম্যাচগুলোও একই গ্রাউন্ডে নির্ধারিত হয়েছে, যা দর্শকদের জন্য ধারাবাহিক উত্তেজনা বজায় রাখবে। গ্রিনবার্গের মতে, ভবিষ্যতে পিচের প্রস্তুতিতে ব্যাটসম্যানের স্বার্থকে সমানভাবে বিবেচনা করা উচিত। তিনি আশা প্রকাশ করেন, “পরবর্তী ম্যাচগুলোতে আমরা আরও সুষম শর্ত তৈরি করতে পারব।”
সারসংক্ষেপে, মেলবোর্নের পিচে প্রথম দিনে ২৬টি উইকেট নেমে যাওয়া টেস্টের গতি ও আর্থিক দিক উভয়ই প্রভাবিত করেছে। স্বল্প টেস্টের ব্যবসায়িক ক্ষতি নিয়ে গ্রিনবার্গের উদ্বেগ স্পষ্ট, এবং তিনি পিচের ভারসাম্য রক্ষার জন্য সংশোধনী আহ্বান জানিয়েছেন। এই ঘটনাগুলো অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।



