দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদ এলাকায় অবস্থিত উম্মাল কুরা ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার এক ভবনে শুক্রবার দুপুরে বিস্ফোরণ ঘটার ফলে মাদ্রাসা পরিচালক শেখ আল আমিন, তার স্ত্রী আছিয়া বেগম এবং তাদের দুই সন্তান উমায়েত (১০) ও আব্দুল্লাহ (৭) আহত হন। মোট চারজনের মধ্যে তিনজন নারী ও শিশুরা আহত হওয়ায় জরুরি সেবার দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে চিকিৎসা প্রদান করে।
পুলিশ জানায়, বিস্ফোরণের পর মাদ্রাসা ভবনের ভেতর থেকে বিস্ফোরকসহ বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে বোমা নিষ্পত্তি ইউনিটের পাশাপাশি অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থাও কাজ করছে।
বিস্ফোরণের ফলে মাদ্রাসার দুইটি কক্ষের দেয়াল ধসে পড়ে, ছাদ ও কলামেও ফাটল দেখা যায়। পাশের একটি আবাসিক ভবনেরও কাঠামোগত ক্ষতি রিপোর্ট করা হয়েছে, যার মালিক দাবি করেন যে তাদের সম্পত্তিতেও ফাটল দেখা দিয়েছে।
মাদ্রাসার পরিচালনা শৈলীর পরিবর্তন সম্পর্কে জানা যায়, পূর্বে মুফতি হারুন তিন বছর ধরে ভাড়া নিয়ে মাদ্রাসা পরিচালনা করতেন; পরে তিনি শ্যালক আল আমিনকে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। বর্তমানে আল আমিনের নেতৃত্বে মাদ্রাসা পরিচালিত হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, মাদ্রাসায় প্রায় পঞ্চাশজনের কাছাকাছি শিক্ষার্থী ভর্তি ছিল, তবে শুক্রবারের সাপ্তাহিক ছুটির কারণে ক্লাস চলছিল না। তাই বিস্ফোরণের সময় শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল না, যা সম্ভাব্য প্রাণহানির ঝুঁকি কমিয়ে দিয়েছে।
মাদ্রাসার পেছনের বাড়ি ভাড়া নেওয়া পারভীন বেগমের মতে, তিনি শুক্রবার ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন ভবনের চারপাশে ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে আছে। তিনি উল্লেখ করেন, “বিল্ডিংয়ের চারপাশে সবকিছু উড়ে গিয়েছে।”
পুলিশের মতে, বিস্ফোরণের সঠিক কারণ এখনও নির্ধারিত হয়নি। দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা এসপি মিজানুর রহমান জানান, “আমরা এখনো নিশ্চিত করতে পারিনি বিস্ফোরণটি কীভাবে ঘটেছে; তদন্ত চলমান রয়েছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, “বোমা নিষ্পত্তি ইউনিটের সহায়তায় আমরা বিস্ফোরক ও বোমা তৈরির উপকরণ সংগ্রহ করেছি এবং বিশ্লেষণ চালিয়ে যাচ্ছি।”
আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে, বিস্ফোরণকে সন্ত্রাসী অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তের অংশ হিসেবে ফরেনসিক বিশ্লেষণ, সিআইডি রেকর্ড এবং সম্ভাব্য সন্দেহভাজনের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।
অধিক তথ্য প্রকাশের আগে, কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসারে ঘটনাস্থলে প্রবেশের সীমা নির্ধারিত হয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গৃহীত হয়েছে। ভবিষ্যতে তদন্তের ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে আইনি প্রক্রিয়া চালু হবে।



