শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজার রেকর্ডের কাছাকাছি স্তরে শেষ হয়েছে, তবে ট্রেডিং সেশনটি ক্রিসমাসের পরের নিস্তব্ধতা বজায় রেখেছে। ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা এবং নিরাপদ সম্পদে চাহিদা বাড়ার ফলে স্বর্ণ ও রৌপ্যের দাম সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। অস্ট্রেলিয়া, হংকং এবং ইউরোপের বেশিরভাগ দেশ ছুটির কারণে বাজার বন্ধ ছিল, তবে খোলা বাজারগুলো বছরের শেষের দিকে ইতিবাচক দিকনির্দেশে অগ্রসর হয়েছে। এশিয়ার শেয়ারবাজারও পূর্ববর্তী সেশনে বহু সপ্তাহের শীর্ষে পৌঁছে, যা গ্লোবাল ঝুঁকি-আগ্রহের সূচককে উজ্জ্বল করেছে।
নিউ ইয়র্কে S&P 500 সূচক উদ্বোধনের পর ০.০৩ শতাংশ হ্রাস পেয়ে বন্ধ হয়েছে, ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ ০.০৪ শতাংশ এবং নাসড্যাক কম্পোজিট ০.০৯ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। যদিও তিনটি সূচক তিন দিনের ধারাবাহিক উত্থান ভেঙে গিয়েছে, তবুও সপ্তাহের শেষে সবগুলোই ঊর্ধ্বমুখী অবস্থায় রয়েছে এবং এই বছর দ্বিগুণ অঙ্কের বার্ষিক বৃদ্ধি অর্জনের পথে রয়েছে।
২০২৫ সালে S&P 500-কে প্রধানত বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো ত্বরান্বিত করেছে, তবে বিনিয়োগকারীরা এখন আর্থিক ও উপাদান সেক্টরের দিকে দৃষ্টিপাত করছেন। এই সেক্টরগুলোতে প্রবেশের ফলে বাজারের উত্থান আরও বিস্তৃত হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান সূচকগুলো তৃতীয় ধারাবাহিক বছরে মুনাফা অর্জনের সম্ভাবনা বাড়িয়েছে।
মার্কিন অর্থনীতির স্থিতিশীলতা নির্দেশক ডেটা এবং জেরোম পাউয়েলের পরিবর্তে নতুন ফেডারেল রিজার্ভ চেয়ার সুদের হার হ্রাসের সম্ভাবনা নিয়ে বাজারে ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করেছে। পাশাপাশি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) শেয়ারগুলোর মূল্যায়ন অতিরিক্ত উচ্চ হওয়ার উদ্বেগ এবং বড় মূলধন ব্যয়ের চাপ কমে যাওয়ায় এই সেক্টরের ওপর চাপ হ্রাস পেয়েছে।
নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণ ও রৌপ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বায়ু হামলার পর আন্তর্জাতিক উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই তীব্রতর হয়েছে। এই পরিস্থিতি বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি-হ্রাসের জন্য ধাতু বাজারে প্রবেশের দিকে ধাবিত করেছে, ফলে দাম ঐতিহাসিক শীর্ষে পৌঁছেছে।
বিশ্বব্যাপী ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, বিশেষ করে মার্কিন সামরিক কার্যক্রমের পরিপ্রেক্ষিতে, স্বর্ণের নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে আকর্ষণ বাড়িয়েছে। এই প্রবণতা বাজারের সামগ্রিক ঝুঁকি-আগ্রহকে হ্রাস করে, ফলে শেয়ারবাজারের অস্থিরতা কমে যায় এবং ধাতু মূল্যের উত্থানকে ত্বরান্বিত করে।
অস্ট্রেলিয়া, হংকং এবং ইউরোপের বেশিরভাগ দেশ ছুটির কারণে বন্ধ থাকলেও, জাপান, সিঙ্গাপুর এবং দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ারবাজার সক্রিয়ভাবে লেনদেন চালিয়ে গিয়েছে। এশিয়ার সূচকগুলো সাম্প্রতিক সেশনে বহু সপ্তাহের শীর্ষে পৌঁছেছে, যা গ্লোবাল বাজারের সামগ্রিক ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রতিফলিত করে।
বাজার বিশ্লেষকরা “সান্তা ক্লজ র্যালি” পর্যবেক্ষণ করছেন, যা S&P 500 শেষ পাঁচটি ট্রেডিং দিন এবং জানুয়ারির প্রথম দুই দিনে ধারাবাহিকভাবে বাড়লে নির্ধারিত হয়। এই র্যালি সফল হলে ২০২৬ সালের শেয়ারবাজারের জন্য শুভ সংকেত হিসেবে গণ্য করা হয়, বিশেষ করে গত বছরের অস্থিরতা বিবেচনা করলে।
বাজারের সামগ্রিক প্রবণতা এখন নিরাপদ সম্পদে রূপান্তর এবং সেক্টরাল বৈচিত্র্যের দিকে ঝুঁকছে। প্রযুক্তি শেয়ারগুলোর মূল্যায়ন সংশোধন এবং ফেডারেল রিজার্ভের সম্ভাব্য সুদের হ্রাসের প্রত্যাশা উভয়ই শেয়ারবাজারকে সমর্থন দিচ্ছে। একই সঙ্গে, স্বর্ণ ও রৌপ্যের চাহিদা বাড়ার ফলে ধাতু বাজারে নতুন প্রবাহ সৃষ্টি হয়েছে।
অবশিষ্ট বছরের শেষের দিকে বিনিয়োগকারীদের জন্য মূল ঝুঁকি হল ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং মুদ্রা নীতি পরিবর্তনের অনিশ্চয়তা। তবে বর্তমান ডেটা এবং বাজারের মনোভাব নির্দেশ করে যে, যদি সুদের হার হ্রাসের সম্ভাবনা বাস্তবায়িত হয়, তবে শেয়ারবাজারের উত্থান আরও শক্তিশালী হতে পারে।
সারসংক্ষেপে, যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজার রেকর্ডের কাছাকাছি স্তরে শেষ হয়েছে, যদিও সূচকগুলো সামান্য হ্রাস পেয়েছে। একই সময়ে স্বর্ণ ও রৌপ্যের দাম ঐতিহাসিক শীর্ষে পৌঁছেছে, যা নিরাপদ সম্পদের প্রতি বাড়তি চাহিদা নির্দেশ করে। ভবিষ্যতে ফেডারেল রিজার্ভের নীতি এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিবেশ বাজারের দিকনির্দেশ নির্ধারণ করবে।



