শুক্রবার রাতের পর থেকে সকাল ৬টা ৩০ মিনিটের দিকে কক্সবাজারের নুনিয়াছড়া বিআইডব্লিউটিএ ঘাটের সংলগ্ন বাঁকখালী নদীতে নোঙর করা ‘দ্যা আটলান্টিক ক্রুজ’ নামের জাহাজে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। আগুনের ফলে জাহাজের স্টাফ নূর কামাল, ২৫ বছর বয়সী, নিহত হন। তিনি টেকনাফের বাসিন্দা এবং কাজের সময় ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন বলে জানা যায়।
অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাতের প্রাথমিক ধারণা জাহাজের কর্তৃপক্ষের মতে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে হয়েছে। জাহাজটি সেন্ট মার্টিন দ্বীপে যাত্রা করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল এবং প্রায় ১৮০ যাত্রীর জন্য বুকিং করা ছিল। তবে আগুনের সময় জাহাজে কোনো পর্যটক উপস্থিত না থাকায় কোনো অতিরিক্ত প্রাণহানি রোধ করা যায়নি।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন জানান, সকাল ৭টার দিকে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনটি ফায়ার ইউনিটকে অগ্নি নিয়ন্ত্রণে পাঠায়। প্রথমে অগ্নি নিয়ন্ত্রণে আনার কাজটি কঠিন ছিল, তবে দ্রুত পদক্ষেপে আগুন ধীরে ধীরে নিভে যায়।
কক্সবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিলা তাসনিম উল্লেখ করেন, নোঙর অবস্থায় থাকা জাহাজে অগ্নিকাণ্ড ঘটায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি প্রকাশ পেয়েছে। তিনি বলেন, জাহাজটি সেন্ট মার্টিনের যাত্রার জন্য প্রস্তুত ছিল, তবে যাত্রীর সংখ্যা এখনও বোর্ডিং শুরু হয়নি। ফলে যাত্রীদের নিরাপদে অন্য জাহাজে স্থানান্তর করা সম্ভব হয়েছে।
সিএসিএইউ (অনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর জানান, আগুনের সময় জাহাজে কোনো পর্যটক না থাকলেও প্রায় ১৮০ যাত্রীর জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। তিনি যোগ করেন, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত বিকল্প জাহাজে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে কঠোর নজরদারি বাড়ানো হবে।
অগ্নিকাণ্ডের তদন্ত এখন ফায়ার সার্ভিস, সিভিল ডিফেন্স এবং সংশ্লিষ্ট নৌবাহিনীর যৌথ কমিটি দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। তদন্তে বৈদ্যুতিক সিস্টেমের ত্রুটি, জাহাজের রক্ষণাবেক্ষণ রেকর্ড এবং নোঙর অবস্থায় নিরাপত্তা প্রোটোকল পরীক্ষা করা হবে। প্রাথমিক ফলাফল যদি শর্তসাপেক্ষে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের দিকে ইঙ্গিত করে, তবে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নৌবাহিনীর নিরাপত্তা মানদণ্ডের পুনঃমূল্যায়ন এবং জাহাজের রক্ষণাবেক্ষণ প্রক্রিয়ার কঠোর তদারকি করা হবে। এছাড়া, ভবিষ্যতে নোঙর অবস্থায় থাকা জাহাজের জন্য অতিরিক্ত অগ্নি সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং জরুরি প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
এই ঘটনার পর কক্সবাজারের স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অগ্নি নিরাপত্তা বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জরুরি সাড়া দেওয়ার ক্ষমতা উন্নত করার জন্য জরুরি সভা আহ্বান করেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকরা নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতি আস্থা পুনরুদ্ধার করতে এই পদক্ষেপগুলিকে স্বাগত জানিয়েছেন।
অগ্নিকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ তদন্তের ফলাফল এবং সম্ভাব্য আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে পরবর্তী সময়ে আপডেট প্রদান করা হবে। বর্তমান পর্যন্ত প্রাথমিক তথ্যই প্রকাশিত হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টা চলমান।



