নতুন বছর শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে “নতুন তুমি” শিরোনামে জিম, ডায়েট ও স্বাস্থ্যের বিজ্ঞাপনগুলো সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। জানুয়ারি মাসে অধিকাংশ মানুষ নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করে, তবে মাঝামাঝি মাসে অনেকেই সেগুলো ত্যাগ করে দেয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংকল্পকে দীর্ঘস্থায়ী করতে প্রথমে লক্ষ্যকে স্পষ্ট, বাস্তবসম্মত ও সীমাবদ্ধ না করে নির্ধারণ করা দরকার। অতি চাপপূর্ণ বা সাধারণ বাক্যগুলো প্রায়শই ব্যর্থতার কারণ হয়।
একজন অভিজ্ঞ ডাক্তারের মতে, সংকল্পের ব্যর্থতার মূল কারণ হল অস্বচ্ছতা, অতিরিক্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং বিস্তৃততা। তিনি পরামর্শ দেন, নিজের জীবনের কোন দিকগুলো কাজ করছে, কোন দিকগুলো ক্লান্তিকর বা আর প্রাসঙ্গিক নয়, এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে যে আচরণগুলো চালিয়ে যাচ্ছি, সেগুলো লিখে ফেলতে।
নিজের ইচ্ছা কীভাবে পূরণ হবে তা স্পষ্টভাবে বুঝে নিলে, শুধুমাত্র কী থেকে দূরে সরে যাবার চেয়ে বেশি টেকসই পরিবর্তন সম্ভব হয়। লক্ষ্য নির্ধারণের সময় দিকনির্দেশনা ও অভিজ্ঞতার উপর জোর দেওয়া উচিত, নির্দিষ্ট কোনো শেষবিন্দুতে পৌঁছানোর চেয়ে।
উদাহরণস্বরূপ, “ওজন কমাবো” বলার বদলে বলা যায়, “আমি আমার দেহে আরও শক্তি ও স্বস্তি অনুভব করতে চাই এবং কীভাবে তা অর্জন করা যায় তা জানার চেষ্টা করব”। এভাবে লক্ষ্যটি ইতিবাচক ও অভিজ্ঞতাভিত্তিক হয়।
অন্যদিকে, “ক্যারিয়ার বদলাবো” বাক্যটিকে রূপান্তর করে বলা যায়, “আমি এমন কাজ খুঁজতে চাই যা আমাকে উদ্যম ও অর্থবোধ দেয়, এবং সেই দিকের একটিমাত্র ছোট পদক্ষেপ নেব”। এই পদ্ধতি দীর্ঘমেয়াদে বাস্তবায়ন সহজ করে।
একজন মনোবিজ্ঞানীর মতে, লক্ষ্যবাক্যে “সবসময়” বা “কখনো না” এর মতো চিরস্থায়ী শব্দ ব্যবহার করা উচিত নয়। এই ধরনের সর্বজনীন শব্দগুলো একধরনের সব-অথবা-কিছু-না-হওয়া মানসিকতা তৈরি করে, যা অনুসরণ করা কঠিন হয়ে যায়।
যদি কেউ প্রতিশ্রুতি দেয়, “আমি প্রতি বুধবার দৌড়াবো” অথবা “আমি আর কখনো মদ্যপান করব না”, তবে একদিন যদি তা না হয়, পুরো পরিকল্পনা ব্যর্থ বলে মনে হয়। এ ধরনের কঠোর প্রতিশ্রুতি ব্যর্থতার ঝুঁকি বাড়ায়।
অনেক মানুষ একক ভুলকে পুরো প্রক্রিয়ার ব্যর্থতা হিসেবে গণ্য করে, ফলে তাদের দৃষ্টিভঙ্গি সংকুচিত হয়ে যায়। তবে বাস্তবে একদিনের বিচ্যুতি পুরো লক্ষ্যকে নষ্ট করে না; বরং সামগ্রিক দৃষ্টিকোণ বজায় রাখলে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সহজ হয়।
সুতরাং, সংকল্প রচনার সময় শব্দচয়নে নমনীয়তা রাখা, বাস্তবিক পদক্ষেপ নির্ধারণ করা এবং অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। ছোট ছোট সাফল্যকে স্বীকৃতি দিয়ে ধীরে ধীরে বড় পরিবর্তনের দিকে অগ্রসর হওয়া উচিত।
এই বছরের সংকল্পকে সফল করতে পাঠকদের পরামর্শ, লক্ষ্যকে ইতিবাচক অভিজ্ঞতা ও দিকনির্দেশনার সাথে সংযুক্ত করুন, চরম শব্দ এড়িয়ে চলুন এবং নিয়মিত স্ব-পর্যালোচনা করুন। আপনার নতুন বছরের পরিকল্পনা কীভাবে সাজাচ্ছেন? আপনার মতামত শেয়ার করুন।



