বিশ্বের ক্রীড়া জগতে একুশ শতকের প্রথম পঁচিশ বছরে কোন নামগুলো সর্বোচ্চ সম্মান পেয়েছে তা নির্ধারণের জন্য একটি তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। তালিকায় লিওনেল মেসি, টম ব্র্যাডি, মাইকেল ফেলপস, সেরেনা উইলিয়ামস এবং উসেইন বোল্টকে শীর্ষ পাঁচ ক্রীড়াবিদ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
লিওনেল মেসি, আর্জেন্টিনার ফুটবলের কিংবদন্তি, তার ক্যারিয়ারে দশটি লা লিগা শিরোপা এবং চারটি ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নস লিগ জয় করেছেন। এছাড়া তিনি আটবার ব্যালন ডি’অর জিতেছেন, যা তাকে সর্বকালের সেরা ফুটবলারদের মধ্যে স্থাপন করে। মেসি আর্জেন্টিনা ও এফসি বার্সেলোনার সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবেও রেকর্ডে আছেন।
২০২২ সালে ৩৪ বছর বয়সে মেসি আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জয়ী করে তোলেন, যা তার ক্যারিয়ারের শীর্ষমঞ্চে আরেকটি মাইলফলক যোগ করে। এই জয় তাকে ক্রীড়া ইতিহাসে এক অনন্য আইকন হিসেবে গড়ে তুলেছে, যেখানে তার নাম বিশ্বব্যাপী ভক্তদের হৃদয়ে গেঁথে আছে।
আমেরিকান ফুটবলের ক্ষেত্রে টম ব্র্যাডি তার নামের সঙ্গে সমানার্থক হয়ে উঠেছেন। নিউ ইংল্যান্ড প্যাট্রিয়টসের সঙ্গে বিশ বছর এবং ট্যাম্পা বে বুকানিয়ার্সের সঙ্গে তিন বছর খেলে তিনি মোট সাতটি সুপার বোল জয় করেছেন। তার প্রথম সুপার বোল জয় ২০০১ সালে এবং শেষটি ২০২০ সালে, যা তার দীর্ঘায়ু ও ধারাবাহিক সাফল্যের প্রমাণ।
ব্র্যাডি তার ক্যারিয়ারে প্রথম কোয়ার্টারব্যাক যিনি চারটির বেশি সুপার বোল জিতেছেন এবং সর্বোচ্চ সাতটি জয় অর্জন করেছেন। তিনি তিনবার নিয়মিত মৌসুমের এমভিপি এবং পাঁচবার সুপার বোল এমভিপি হিসেবে স্বীকৃত হয়েছেন। তার রেকর্ডে ২৫১টি জয় এবং ৬৪৯টি টাচডাউন পাস অন্তর্ভুক্ত, যা তাকে ক্রীড়া ইতিহাসের অন্যতম শীর্ষ কোয়ার্টারব্যাক করে তুলেছে।
সাঁতারের জগতে মাইকেল ফেলপসের নাম অনন্য। ২০০৪ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত তিনি অলিম্পিকের মঞ্চে ২৮টি পদক জিতেছেন, যার মধ্যে ২৩টি স্বর্ণ। ২০০৮ বেইজিং অলিম্পিকে তিনি একক সাঁতারে আটটি স্বর্ণ পদক জয় করে ঐ এক অলিম্পিকের সর্বোচ্চ স্বর্ণ পদক সংখ্যা গড়ে তোলেন। ঐ সময়ে তিনি সাতটি বিশ্ব রেকর্ড স্থাপন করেন এবং ক্যারিয়ারের শেষ পর্যন্ত মোট ৩৯টি বিশ্ব রেকর্ডের ধারক ছিলেন।
ফেলপসের সাফল্য কেবল সাঁতারেই সীমাবদ্ধ না থেকে তিনি ক্রীড়া জগতের সর্বোচ্চ সম্মান অর্জন করেছেন। তার অর্জনগুলো সাঁতারের বাইরে অন্যান্য ক্রীড়া শাখার সঙ্গে তুলনীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা তাকে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আইকনে পরিণত করেছে।
টেনিসের ক্ষেত্রে সেরেনা উইলিয়ামসের প্রভাব অনন্য। তিনি ৩১৯ সপ্তাহ ধরে বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ছিলেন এবং মোট ৭৩টি শিরোপা জিতেছেন, যার মধ্যে ২৩টি একক গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপা রয়েছে। তার দীর্ঘ সময়ের শীর্ষস্থান এবং শিরোপার সংখ্যা তাকে টেনিসের ইতিহাসে অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
উইলিয়ামসের ক্রীড়া দক্ষতার পাশাপাশি তিনি সাংস্কৃতিক আইকন হিসেবেও স্বীকৃত। তার উপস্থিতি বড় বড় বিজ্ঞাপন ক্যাম্পেইনে দেখা যায়, যা তাকে বিশ্বব্যাপী একটি পরিচিত মুখে পরিণত করেছে। তার সাফল্য এবং জনসাধারণের প্রভাব ক্রীড়া ও সমাজের সংযোগকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
দ্রুতগতির দুনিয়ায় উসেইন বোল্টকে ইতিহাসের সেরা স্প্রিন্টার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তার গতি এবং রেকর্ডগুলো স্প্রিন্টিংয়ের মানদণ্ডকে পুনর্নির্ধারণ করেছে এবং তিনি বহু তরুণ ক্রীড়াবিদকে অনুপ্রাণিত করছেন।
এই পাঁচজন ক্রীড়াবিদ তাদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে অসামান্য সাফল্য অর্জন করে একুশ শতকের প্রথম পঁচিশ বছরকে স্মরণীয় করে তুলেছেন। তাদের অর্জন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ক্রীড়াবিদদের জন্য মানদণ্ড স্থাপন করবে এবং ক্রীড়া জগতের ইতিহাসে চিরস্থায়ী ছাপ রেখে যাবে।



