বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শনিবার দুপুর ১১টায় ইনকিলাব মঞ্চের প্রতিষ্ঠাতা শরিফ ওসমান বিন হাদির সমাধিস্থলে শোকযাত্রা করবেন। সমাধিস্থল পরিদর্শনের পর তিনি আগারগাঁয়ের নির্বাচন কমিশনের অফিসে গিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের নিবন্ধন সম্পন্ন করবেন। এরপর তিনি জাতীয় অর্থোপেডিক ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) গিয়ে জুলাই ২০২৩-এ গণ-অভ্যুত্থানে আহত ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এই কর্মসূচি বিএনপির স্বীকৃত ফেসবুক পেজে সকাল ৮:০৫টায় প্রকাশিত হয়েছিল।
শরিফ ওসমান বিন হাদি, যিনি ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক হিসেবে পরিচিত, আগস্ট ২০২২-এ ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের বিরোধে উচ্চস্বরে কথা বলতেন এবং ঢাকা‑৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী ছিলেন। ১২ ডিসেম্বর জুমা নামাজের পর পুরানা পল্টনের কালভার্ট রোডে রিকশায় গিয়ে তাকে গুলি করা হয়। আহত অবস্থায় সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা নেওয়ার পর তিনি মারা যান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ‑সংলগ্ন কাজী নজরুল ইসলামের সমাধিস্থলের পাশে দাফন করা হয়।
তারেক রহমানের এই কবরযাত্রা, জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন এবং পঙ্গু হাসপাতালে ভিজিটের পেছনে তার রাজনৈতিক পরিকল্পনা ও জনসাধারণের সঙ্গে সংযোগের ইঙ্গিত রয়েছে। তিনি ১৭ বছর পর দেশে ফিরে আসার পর ঢাকার পূর্বাচলের ৩০০ ফুট এলাকায় বিশাল সমাবেশে অংশ নেন, যেখানে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে দলের মনোনীত প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশের পর তিনি এবং তার সহকর্মীরা নিজ নিজ এলাকার দিকে ফিরে যান।
গত শুক্রবার তারেক রহমান তার পিতার, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিস্থলে শোকস্মরণ করেন এবং সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। সমাবেশে উপস্থিত বিশাল নেতা‑কর্মীর ভিড়ের কারণে গন্তব্যে পৌঁছাতে সময় বিলম্ব হয়। এই ঘটনাগুলি তারেকের জনমুখী কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা নির্দেশ করে।
বিএনপির এই সিরিজের কার্যক্রমের প্রতি বিরোধী দলগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি তীক্ষ্ণ। আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেছেন যে, রাজনৈতিক দলগুলোর এমন জনসাধারণের সমাবেশ ও শোকযাত্রা দেশের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে তারা স্বীকার করেন যে, রাজনৈতিক নেতাদের স্বাভাবিক অধিকার হিসেবে জনসাধারণের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করা উচিত।
তবে বিশ্লেষকরা ইঙ্গিত দিচ্ছেন যে, তারেক রহমানের এই কর্মসূচি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে দেখা যেতে পারে। কবরযাত্রা, জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন এবং আহতদের সঙ্গে সাক্ষাৎ—এই সবই তার রাজনৈতিক উপস্থিতি ও জনসাধারণের সমর্থন বাড়ানোর লক্ষ্যে করা হতে পারে। বিশেষ করে জাতীয় পরিচয়পত্রের নিবন্ধন তার ভোটার তালিকায় তার উপস্থিতি নিশ্চিত করার একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।
শরিফ ওসমান বিন হাদির কবরযাত্রা এবং পঙ্গু হাসপাতালে আহতদের সঙ্গে সাক্ষাৎ তারেকের শোক ও সমর্থন প্রকাশের পাশাপাশি তার রাজনৈতিক অবস্থানকে দৃঢ় করার একটি মাধ্যম হতে পারে। এই ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি তার পারিবারিক ঐতিহ্য, পার্টির ইতিহাস এবং বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করছেন।
বিএনপির এই সিরিজের কার্যক্রমের পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন ও নিরাপত্তা বাহিনীর দায়িত্ব বাড়বে। কবরযাত্রা, নিবন্ধন এবং হাসপাতাল ভিজিটের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থার যথাযথ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। একই সঙ্গে, এই ধরনের জনসাধারণের সমাবেশের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের ভিত্তি শক্তিশালী করতে এবং ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করতে চায়।
সারসংক্ষেপে, আজকের তারেক রহমানের কর্মসূচি রাজনৈতিক দৃশ্যপটে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। কবরযাত্রা, জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন এবং পঙ্গু হাসপাতালে ভিজিটের মাধ্যমে তিনি শোক, সমর্থন এবং রাজনৈতিক প্রস্তুতির একত্রিত চিত্র উপস্থাপন করেছেন, যা দেশের রাজনৈতিক গতিবিধিতে প্রভাব ফেলতে পারে।



