ওয়াশিংটন ডিসির জন এফ কেনেডি সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টসের নাম পরিবর্তন করে “ট্রাম্প‑কেনেডি সেন্টার” করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর ব্যাপক সমালোচনা তীব্রতর হয়েছে এবং ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা জয়েস বিটি তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন।
কেনেডি পরিবার থেকে জো কেনেডি উল্লেখ করেন, সেন্টারের নাম ফেডারেল আইনের মাধ্যমে সুরক্ষিত এবং তা স্বেচ্ছায় পরিবর্তন করা যায় না। তিনি এই বিষয়টি তুলে ধরে বলেছিলেন যে, নামের পরিবর্তনের জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন, যা এখনো পাওয়া যায়নি।
ডেমোক্র্যাট পার্টির আইনপ্রণেতা জয়েস বিটি, যিনি সেন্টারের বোর্ডের সদস্য হিসেবে মনোনীত, ট্রাম্পের নাম যুক্ত করার সিদ্ধান্তকে অবৈধ বলে চিহ্নিত করেছেন। তিনি দায়ের করা মামলায় দাবি করেন, নাম পরিবর্তনের উদ্যোগটি কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া করা হয়েছে এবং তাই তা বাতিল হওয়া উচিত।
মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, নাম পরিবর্তনের বিষয়ে বোর্ডের সভায় বিটি ফোনের মাধ্যমে অংশগ্রহণের চেষ্টা করেন, কিন্তু তার আপত্তি জানাতে গিয়ে তাকে বাধা দেওয়া হয়। এই ঘটনার পর তিনি আদালতে আবেদন করে সেন্টারের নাম পুনরায় জোনেডি সেন্টার হিসেবে স্থাপন করার দাবি করেন।
ট্রাম্পের দৃষ্টিকোণ থেকে, তিনি এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক আক্রমণ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন এবং যুক্তি দিয়েছেন যে, সেন্টারের নাম পরিবর্তন তার ব্যক্তিগত গৌরবের জন্য নয়, বরং সাংস্কৃতিক ও শিল্পকর্মের উন্নয়নের জন্য করা হয়েছে। তবে তার এই ব্যাখ্যা সত্ত্বেও, ডেমোক্র্যাট পার্টির বেশ কিছু সদস্য এবং শিল্প সংস্থার নেতারা এই পরিবর্তনকে অনুচিত ও রাজনৈতিক স্বার্থের ভিত্তিতে করা সমালোচনা করছেন।
কেনেডি সেন্টার, যা ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান পারফরম্যান্স আর্টস কেন্দ্র, তার ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও সাংস্কৃতিক মূল্যকে বিবেচনা করে নাম পরিবর্তনকে সংবেদনশীল বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা ইঙ্গিত করছেন, যদি আদালত এই মামলায় ট্রাম্পের পক্ষে রায় দেয়, তবে ভবিষ্যতে অন্যান্য পাবলিক প্রতিষ্ঠানও রাজনৈতিক নামকরণে অনুরূপ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে।
অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাট পার্টির আইনপ্রণেতারা দাবি করছেন, নাম পরিবর্তনের মাধ্যমে ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, যা নির্বাচনী কৌশলের অংশ হতে পারে। তারা উল্লেখ করছেন, সেন্টারের বোর্ডের সদস্যদের মধ্যে রাজনৈতিক সমতা বজায় রাখা এবং কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া কোনো পরিবর্তন করা সংবিধানিক নীতি লঙ্ঘন হতে পারে।
এই মামলার ফলাফল কী হবে তা এখনও অনিশ্চিত, তবে উভয় পক্ষই আদালতে তাদের যুক্তি দৃঢ়ভাবে উপস্থাপন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আদালতের রায়ের ওপর নির্ভর করে, সেন্টারের নামের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং ভবিষ্যতে পাবলিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নামকরণ প্রক্রিয়ায় নতুন নিয়মাবলী প্রণয়ন হতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা পূর্বাভাস দিচ্ছেন, যদি ট্রাম্পের পক্ষে রায় আসে, তবে এটি তার সমর্থকদের জন্য একটি বড় জয় হবে এবং তার রাজনৈতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করবে। অন্যদিকে, যদি জয়েস বিটি ও তার দলের পক্ষে রায় আসে, তবে এটি ডেমোক্র্যাট পার্টির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিজয় হবে এবং ভবিষ্যতে রাজনৈতিক নামকরণে কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হবে।
সারসংক্ষেপে, কেনেডি সেন্টারের নাম পরিবর্তন নিয়ে চলমান বিতর্ক এবং আদালতে দায়ের করা মামলা, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশে নতুন আলোচনার সূচনা করেছে। উভয় পক্ষের দাবি ও যুক্তি বিবেচনা করে, পরবর্তী কয়েক সপ্তাহে আদালতের রায়ের অপেক্ষা করা হবে, যা দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও রাজনৈতিক গতিপথে প্রভাব ফেলতে পারে।



