22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeবিজ্ঞানভারতে প্রথম জিন‑সম্পাদিত ভেড়া এক বছর পূর্ণ, স্বাস্থ্য ভালো

ভারতে প্রথম জিন‑সম্পাদিত ভেড়া এক বছর পূর্ণ, স্বাস্থ্য ভালো

শ্রীনগরে শের‑ই‑কাশ্মীর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারে জন্ম নেওয়া, জিন‑সম্পাদিত ভেড়া টারমিম এই মাসে এক বছর বয়সী হল। দেশের প্রথম জিন‑সম্পাদিত গৃহপালিত প্রাণী হিসেবে তার স্বাস্থ্য ও বৃদ্ধি সম্পর্কে গবেষকরা সম্প্রতি আপডেট দিয়েছেন।

ট্যারমিমের জন্ম ১৬ ডিসেম্বর ২০২২-এ, ভারত‑নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের শের‑ই‑কাশ্মীর অঞ্চলে ঘটেছিল। একই সময়ে তার স্বাভাবিক জিন‑সম্পাদনা না করা জোড়া বোনও একই স্থানে জন্ম নেয়, যা তুলনামূলক পর্যবেক্ষণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

এই ভেড়াটির নাম টারমিম, যা আরবিতে ‘সম্পাদনা’ বা ‘পরিবর্তন’ অর্থে ব্যবহৃত হয়। নামকরণে গবেষকরা জিন‑সম্পাদনার মূল ধারণা ও লক্ষ্যকে প্রকাশ করতে চেয়েছেন।

টারমিম বর্তমানে শের‑ই‑কাশ্মীর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রীনগরের প্রধান ক্যাম্পাসে একটি ব্যক্তিগত ঘরে রাখা হয়েছে। একই ঘরে তার অ‑সম্পাদিত বোনও রয়েছে, যাতে দুটির শারীরিক ও জৈবিক পার্থক্য সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা যায়।

গবেষণায় ব্যবহৃত প্রযুক্তি হল CRISPR, যা ডিএনএকে নির্দিষ্টভাবে কাটার জন্য ডিজাইন করা একটি অণু‑যন্ত্র। বিজ্ঞানীরা এটিকে জিনের ‘কাঁচি’ হিসেবে বর্ণনা করেন, যা রোগজনিত বা দুর্বলতা‑সৃষ্টিকর জিনের অংশকে সরিয়ে দেয়।

বিশেষভাবে টারমিমের ক্ষেত্রে গবেষকরা মায়োস্ট্যাটিন জিনকে লক্ষ্যবস্তু করে পরিবর্তন করেছেন। মায়োস্ট্যাটিন পেশীর বৃদ্ধি দমনকারী একটি প্রোটিন উৎপাদন করে; এই জিনকে নিষ্ক্রিয় করলে পেশীর পরিমাণ বাড়ে বলে ধারণা করা হয়।

প্রক্রিয়াটি শুরু হয় গর্ভবতী ভেড়ার ডিম্বাণু থেকে প্রাপ্ত ভ্রূণগুলিকে সংগ্রহ করে। এরপর ল্যাবরেটরিতে দুই‑তিন দিন পর্যন্ত জিন‑সম্পাদনা করা হয়, এবং সফলভাবে সম্পাদিত ভ্রূণগুলোকে গৃহস্থালীর ভেড়ার গর্ভে রোপণ করা হয়। রোপণের পর প্রায় ১৫০ দিন পরে টারমিম ও তার বোন জন্ম নেয়।

গবেষণার মূল লক্ষ্য ছিল মায়োস্ট্যাটিন জিনকে ‘নক‑আউট’ করে পেশীর ভর বৃদ্ধি করা। প্রথম ফলাফল দেখায় টারমিমের পেশী বৃদ্ধি স্বাভাবিক ভেড়ার তুলনায় প্রায় দশ শতাংশ বেশি, যা জিন‑সম্পাদনার প্রত্যাশিত প্রভাবকে সমর্থন করে।

এক বছর পর টারমিমের শারীরিক, রসায়নিক ও জৈবিক সূচকগুলো স্বাভাবিক সীমার মধ্যে রয়েছে। গবেষকরা উল্লেখ করেছেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পেশীর বৃদ্ধি আরও বাড়তে পারে, তবে তা নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদী পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।

বর্তমানে টারমিমকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও পর্যবেক্ষণ সিস্টেমের অধীনে রাখা হচ্ছে। গবেষণা দল সরকারী তহবিলের জন্য একটি প্রকল্প প্রস্তাব জমা দিয়েছে, যাতে টারমিমের স্বাস্থ্যের দীর্ঘমেয়াদী মূল্যায়ন ও সম্ভাব্য বাণিজ্যিক প্রয়োগের জন্য অতিরিক্ত সম্পদ 확보 করা যায়।

গ্লোবাল স্তরে গৃহপালিত প্রাণীর জিন‑সম্পাদনা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে, তবে টারমিমের সাফল্য ভারতীয় কৃষি গবেষণার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত। ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি মাংসের উৎপাদন বাড়ানো, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং খাদ্য নিরাপত্তা উন্নত করার সম্ভাবনা রাখে।

এই ধরনের গবেষণা চালিয়ে যাওয়া এবং ফলাফলকে স্বচ্ছভাবে প্রকাশ করা জনসাধারণের আস্থা অর্জনের পাশাপাশি নৈতিক ও পরিবেশগত দিক থেকে সঠিক দিকনির্দেশনা নির্ধারণে সহায়তা করবে। টারমিমের অগ্রগতি কীভাবে কৃষি ও প্রাণি বিজ্ঞানকে রূপান্তরিত করবে, তা সময়ই বলবে।

৯৫/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: বিবিসি
খবরিয়া প্রতিবেদক
খবরিয়া প্রতিবেদক
AI Powered by NewsForge (https://newsforge.news)
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments