অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের ২০২৫-২৬ সালের এশেস সিরিজের চতুর্থ টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ইংল্যান্ডের দ্রুতগতি বোলার অটকিনসন হ্যামস্ট্রিংয়ে আঘাত পেয়ে মাঠ ছেড়ে যান।
দ্বিতীয় দিনের শুরুর দিকে অটকিনসন কয়েকটি ওভার চালিয়ে দলের বলিং আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছিলেন, তবে মাঝখানে হঠাৎ করে তার পায়ের পেছনের পেশিতে ব্যথা অনুভব করেন। ব্যথা তীব্র হওয়ায় তিনি তৎক্ষণাৎ মাঠের মাঝখানে থেমে হ্যামস্ট্রিং ধরতে বাধ্য হন।
মেডিক্যাল টিম দ্রুত তার কাছে পৌঁছে প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে, এরপর তাকে পিচের বাইরে নিয়ে গিয়ে বিশ্রাম নিতে নির্দেশ দেয়া হয়। অটকিনসনকে পরে ড্রেসিং রুমে নিয়ে গিয়ে আরও বিস্তারিত মূল্যায়নের জন্য প্রস্তুত করা হয়।
ইংল্যান্ডের ক্যাপ্টেন এবং কোচ টিমের সদস্যরা অবিলম্বে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে, অটকিনসনের পরিবর্তে অন্য বোলারকে চালু করার সিদ্ধান্ত নেন। বিকল্প হিসেবে দলের তরুণ বোলারকে তৎক্ষণাৎ মাঠে পাঠানো হয়, যাতে বলিং ব্যালেন্স বজায় থাকে।
এই ঘটনার ফলে ইংল্যান্ডের বলিং পরিকল্পনায় সাময়িক পরিবর্তন আনতে হয়। অটকিনসন তার সুনির্দিষ্ট লাইন ও গতি দিয়ে মাঝারি ও দ্রুত গতি সংমিশ্রণে ব্যাটসম্যানকে চ্যালেঞ্জ করতেন, তাই তার অনুপস্থিতি দলের কৌশলে প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন।
দ্বিতীয় দিনের বাকি সময়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানরা তুলনামূলকভাবে স্বস্তিতে খেলতে পারেন, কারণ তাদের কাছে এখন অতিরিক্ত বোলারদের সঙ্গে মোকাবিলা করার সুযোগ রয়েছে। তবে ইংল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপের জন্য দ্রুত স্কোর তৈরি করা জরুরি, যাতে হ্যামস্ট্রিং আঘাতের পরবর্তী দিনগুলোতে চাপ কমে।
দলীয় স্টাফ অটকিনসনের অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে, তবে তিনি দ্রুত সেরে উঠবেন বলে আশাবাদী। মেডিক্যাল টিমের মতে, হ্যামস্ট্রিং আঘাতের তীব্রতা নির্ণয়ের পরই তিনি কতদিনের জন্য অনুপস্থিত থাকবেন তা নিশ্চিত করা যাবে।
অটকিনসনের পূর্ববর্তী পারফরম্যান্স সিরিজে উল্লেখযোগ্য ছিল; তিনি প্রথম টেস্টে গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নেন এবং মাঝারি গতি দিয়ে ব্যাটসম্যানকে ব্যাহত করেন। তার অনুপস্থিতি ইংল্যান্ডের বলিং গভীরতায় ফাঁক তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে টেস্টের দীর্ঘ গেমে টেকসই গতি বজায় রাখতে।
এই ম্যাচে এখন পর্যন্ত স্কোরিং রেকর্ডে উভয় দলই সমানভাবে পারফর্ম করেছে, কোনো দলই স্পষ্টভাবে এগিয়ে নেই। পরবর্তী সেশনগুলোতে উভয় দিকের বোলারদের পারফরম্যান্সই ম্যাচের ফল নির্ধারণে মূল ভূমিকা রাখবে।
ইংল্যান্ডের কোচ টিম বলেছে, অটকিনসনের পরিবর্তে নতুন বোলারকে সুযোগ দিয়ে দলকে সমন্বয় করা হবে এবং ব্যাটিং লাইনআপকে শক্তিশালী করে স্কোর বাড়াতে মনোযোগ দেওয়া হবে।
পরবর্তী দিনগুলোতে অটকিনসনের পুনরুদ্ধার অবস্থা এবং তার ফিরে আসার সম্ভাবনা দলের কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হবে। সিরিজের বাকি টেস্টগুলোতে তার উপস্থিতি না থাকলে ইংল্যান্ডকে বিকল্প বোলারদের ওপর নির্ভর করতে হবে।
এশেস সিরিজের এই পর্যায়ে উভয় দলেরই জয় অর্জনের জন্য ধারাবাহিক পারফরম্যান্স প্রয়োজন, এবং অটকিনসনের হ্যামস্ট্রিং আঘাত একটি অপ্রত্যাশিত চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।



