শিরাজগঞ্জের সদর ও কাজিপুর উপজেলা জুড়ে জামুনা নদীর শোলে বসবাসকারী গ্রাম্য শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা গ্রোয়ার অ্যাসোসিয়েশন (EGA) ৩ মে ২০২২ তারিখে প্রতিষ্ঠা করে একটি নতুন উদ্যোগ চালু করে। সংগঠনটি উচ্চশিক্ষার সুযোগ সীমিত এলাকায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করে এবং জুন ৯ তারিখে চতুর্থ বার্ষিক সমাবেশের মাধ্যমে এই লক্ষ্যকে আরও দৃঢ় করে।
প্রারম্ভিকভাবে দুই উপজেলায় ১০০ জন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রের ছোট একটি দল এই উদ্যোগের ভিত্তি গড়ে তুলেছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের প্রচেষ্টা স্থানীয় শিক্ষার্থীদের মনোযোগ আকর্ষণ করে এবং সংগঠনটি দ্রুতই গ্রাম্য সম্প্রদায়ের মধ্যে স্বীকৃতি পায়। আজ EGA-এর সদস্যসংখ্যা শতাধিক শিক্ষার্থী পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে, যারা একত্রে শিক্ষার সোপান বেয়ে ওঠার পথ তৈরি করছে।
EGA-এর মূল উদ্দেশ্য হল গ্রাম্য এলাকায় উচ্চশিক্ষার প্রবেশদ্বার খুলে দেওয়া এবং জ্ঞান অনুসন্ধানের সংস্কৃতি গড়ে তোলা। এর জন্য তারা শিক্ষার সচেতনতা বৃদ্ধি, স্বনির্ভরতা ও ক্ষমতায়নের দিকে মনোযোগ দেয়। সংগঠনটি শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি পরীক্ষা, উচ্চশিক্ষা সংক্রান্ত কর্মশালা এবং ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা আয়োজনের মাধ্যমে একাধিক দিক থেকে সহায়তা প্রদান করে।
প্রতিবছর EGA বিভিন্ন ধরণের ইভেন্টের আয়োজন করে। এর মধ্যে রয়েছে স্কুল ও কলেজ শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি পরীক্ষা, বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রস্তুতির জন্য কর্মশালা, কোরআন তিলাওয়াত, ইসলামিক গান, এবং এক্সটেম্পোরে বক্তৃতা প্রতিযোগিতা। এসব কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের একাডেমিক দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি সামাজিক দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে সহায়তা করে।
২০২৪ সালের ৯ জুন সংগঠনটি তার চতুর্থ বার্ষিক সমাবেশের আয়োজন করে, যেখানে প্রায় ১,০০০ শিক্ষার্থী ২৪টি স্কুল থেকে অংশগ্রহণ করে। এই সমাবেশে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন শাখায় পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে পুরস্কার প্রদান করা হয় এবং নতুন ভর্তি হওয়া পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ইভেন্টটি স্থানীয় সম্প্রদায়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষামূলক মঞ্চ হিসেবে কাজ করে।
সমাবেশে মোট ১৫০টির বেশি শিক্ষার্থীকে একাডেমিক উৎকর্ষের জন্য পুরস্কৃত করা হয়। এছাড়াও ২৪ জন নবীন বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি শিক্ষার্থীকে তাদের কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের স্বীকৃতি হিসেবে বিশেষ স্বাগত জানানো হয়। এই স্বীকৃতি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ শিক্ষার পথে অনুপ্রেরণা যোগায় এবং তাদের পরিবারে গর্বের অনুভূতি জাগায়।
শিক্ষা গ্রোয়ার অ্যাসোসিয়েশন নিয়মিতভাবে এসএসসি প্রার্থীদের জন্য মডেল টেস্ট পরিচালনা করে, যাতে তারা পরীক্ষার প্যাটার্ন ও সময় ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে প্রস্তুত হতে পারে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার জন্য মেরিট-ভিত্তিক কোচিং প্রদান করা হয়, যেখানে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত দুর্বলতা চিহ্নিত করে লক্ষ্যভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়নের দিকেও তারা সচেতনতা কর্মসূচি চালায়, যা শিক্ষার্থীদের সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতে সহায়তা করে।
স্থানীয় একটি ছাত্রের উদাহরণে দেখা যায়, যিনি EGA-এর মডেল টেস্টে অংশগ্রহণের পর এসএসসি ফলাফলে উল্লেখযোগ্য উন্নতি অর্জন করেন এবং বর্তমানে সিলেটের একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছেন। তার পরিবার এখন শিক্ষার মাধ্যমে আর্থিক স্বাবলম্বিতা অর্জনের সম্ভাবনা দেখছে, যা পূর্বে কল্পনাতীত ছিল। এই ধরনের সাফল্য EGA-কে গ্রাম্য শিক্ষার জন্য একটি আশার আলো হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
শিক্ষা গ্রোয়ার অ্যাসোসিয়েশন যে পরিবর্তন আনছে তা দীর্ঘমেয়াদে গ্রাম্য যুবকদের কর্মসংস্থান ও সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাঠকগণ যদি নিজেদের এলাকায় অনুরূপ উদ্যোগ শুরু করতে চান, তবে স্থানীয় শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে সমন্বয় করে ছোট স্কেলে বৃত্তি পরীক্ষা ও কর্মশালা আয়োজন করা একটি কার্যকর প্রথম পদক্ষেপ হতে পারে।



