27 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeআন্তর্জাতিকযুক্তরাষ্ট্রের নাইজেরিয়ায় ক্রিসমাসে ইসিসি ভিত্তি লক্ষ্য করে বায়ু হামলা

যুক্তরাষ্ট্রের নাইজেরিয়ায় ক্রিসমাসে ইসিসি ভিত্তি লক্ষ্য করে বায়ু হামলা

২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫-এ যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনী নাইজেরিয়ার উত্তরের পশ্চিম অংশে ইসিসি (ইসলামিক স্টেট) সংযুক্ত গোষ্ঠীর কয়েকটি শিবিরকে লক্ষ্য করে বোমা হামলা চালায়। এই আক্রমণটি দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে উঠে এসেছে।

আক্রমণটি প্রথমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়, যা নাইজেরিয়ার সার্বভৌমত্ব নিয়ে উদ্বেগের সঞ্চার করে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তৎক্ষণাৎ প্রশ্ন তোলা হয় যে, এই পদক্ষেপটি নাইজেরিয়ার স্বায়ত্তশাসনের প্রতি হস্তক্ষেপ কিনা।

পরবর্তী দিনগুলোতে উভয় সরকারই আক্রমণে নিজেদের অংশগ্রহণ স্বীকার করে এবং নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা টিনুবু এই কার্যক্রমের অনুমোদন দিয়েছেন বলে জানায়। এ ঘোষণার মাধ্যমে দু’দেশের কূটনৈতিক সমন্বয় এবং নিরাপত্তা সহযোগিতার মাত্রা স্পষ্ট হয়।

নাইজেরিয়ার তথ্য মন্ত্রী মোহাম্মদ ইদ্রিসের মতে, নাইজেরিয়ার সশস্ত্র বাহিনী সম্পূর্ণভাবে এই বায়ু হামলায় অংশগ্রহণ করেছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, নাইজেরিয়ার সামরিক বাহিনীর সম্পূর্ণ সমর্থন ছাড়া এই অভিযান সম্ভব হতো না।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুক্তরাষ্ট্র আফ্রিকান কমান্ড (AFRICOM) জানায় যে, আক্রমণটি ইসিসি-সংযুক্ত সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়েছে এবং এতে বহু প্রাণহানি ঘটেছে। তবে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু বা শিবিরের সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

নাইজেরিয়া সরকার জানায় যে, সোকোটো রাজ্যের টাঙ্গাজা লোকাল গভার্নমেন্ট এলাকার বাউনি অরণ্যে অবস্থিত দুইটি প্রধান ইসিসি সন্ত্রাসী শিবিরকে আক্রমণ করা হয়েছে। এই শিবিরগুলোকে ইসিসি-সংযুক্ত গোষ্ঠীর গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তোলেন যে, কেন সোকোটোর উত্তরের পশ্চিম অংশে আক্রমণ করা হয়েছে, যেখানে ‘ব্যান্ডিট’ নামে পরিচিত অপরাধী গোষ্ঠীর কার্যক্রম বেশি এবং জিহাদি গোষ্ঠীর উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে কম। এই অঞ্চলে জিহাদি গোষ্ঠীর লক্ষ্যবস্তু হিট হয়েছে কিনা তা স্পষ্ট নয়।

নাইজেরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, দেশে একাধিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এবং সশস্ত্র ব্যান্ডিট গোষ্ঠী সক্রিয়। তিনি জেএনআইএম, আইএসডব্লিউএপি, লাকুরাওয়া এবং মাহমুদা সহ বিভিন্ন গোষ্ঠীর কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করেন। এই তালিকা দেশের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের বহুমুখিতা তুলে ধরে।

বছরের পর বছর ধরে নাইজেরিয়ার জিহাদি বিদ্রোহের মূল মঞ্চ উত্তর-পূর্ব অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ। এই অঞ্চলটি দীর্ঘ সময় ধরে ইসিসি-সংযুক্ত গোষ্ঠী ও অন্যান্য সন্ত্রাসী সংগঠনের আক্রমণের শিকার হয়ে আসছে।

একজন নিরাপত্তা বিশ্লেষক, ভিক্টোরিয়া একহোমু, বলেন যে, বায়ু হামলা এমন এলাকায় হওয়া উচিত যেখানে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর উপস্থিতি সর্বোচ্চ। তিনি যুক্তি দেন যে, উত্তরের পশ্চিম অংশের তুলনায় উত্তর-পূর্বের জিহাদি গোষ্ঠীর ঘাঁটি আরও স্পষ্ট লক্ষ্য হতে পারত।

এই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র ও নাইজেরিয়ার সামরিক সহযোগিতা আরও গভীর হতে পারে। উভয় দেশই ভবিষ্যতে সমন্বিত অপারেশন চালিয়ে যেতে পারে, তবে লক্ষ্যবস্তু নির্বাচন এবং স্থানীয় গোষ্ঠীর প্রকৃত প্রভাব সম্পর্কে স্পষ্ট নীতি নির্ধারণের প্রয়োজন থাকবে।

সারসংক্ষেপে, ক্রিসমাসে নাইজেরিয়ার উত্তরের পশ্চিমে যুক্তরাষ্ট্রের বায়ু হামলা ইসিসি-সংযুক্ত শিবিরকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছে, যার জন্য নাইজেরিয়ার সরকারী অনুমোদন ও সামরিক সমর্থন রয়েছে। তবে লক্ষ্যবস্তু নির্বাচন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা প্রভাব নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে, যা ভবিষ্যতের কূটনৈতিক ও সামরিক কৌশলে প্রভাব ফেলতে পারে।

৯১/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ডেইলি স্টার
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক
AI-powered আন্তর্জাতিক content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments