22 C
Dhaka
Thursday, January 29, 2026
Google search engine
Homeঅপরাধনির্বাচন আগে লুট হওয়া পুলিশ অস্ত্র ও অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ঝুঁকি বাড়ছে

নির্বাচন আগে লুট হওয়া পুলিশ অস্ত্র ও অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ঝুঁকি বাড়ছে

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি চলাকালীন, এক বছর আগে লুট হওয়া পুলিশ বৈধ অস্ত্রের বড় অংশ এখনও উদ্ধার হয়নি। ১০ আগস্ট লুট হওয়া অস্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য পুরস্কার ঘোষণার পরেও তেমন সাড়া পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ছড়াছড়ি বাড়তে থাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি ঝুঁকির মুখে।

পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্রের বেশিরভাগই এখনো অজানা, আর লুটের এক বছর পর পুরস্কার ঘোষণার মাধ্যমে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়া হলেও সাড়া কম। পুরস্কারসূচিতে লাইট মেশিনগান (LMG) জন্য ৫ লাখ, সাব মেশিনগান (SMG) জন্য ১.৫ লাখ, চায়না রাইফেল জন্য ১ লাখ এবং পিস্তল ও শটগান জন্য ৫০ হাজার টাকা নির্ধারিত।

অবৈধ অস্ত্রের বাজারে এখনো লুট হওয়া পুলিশ অস্ত্রের উপস্থিতি নিশ্চিত করা যায়নি, তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন যে এই অস্ত্রগুলোও অপরাধী গোষ্ঠীর হাতে পড়তে পারে। বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, নির্বাচনের আগে বিপুল পরিমাণ অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে দুর্বল করে তুলবে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, অবৈধ অস্ত্রের অতিরিক্ত প্রবাহ সহিংসতা, রাজনৈতিক ভীতিপ্রদর্শন এবং অপরাধের ঝুঁকি বাড়াবে। এ ধরনের পরিবেশে নির্বাচন স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

১২ ডিসেম্বর, রাজধানীর মতিঝিলে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও সম্ভাব্য নির্বাচনী প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এই ঘটনা দেশের বিভিন্ন স্থানে অবৈধ অস্ত্রের মজুদ নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্বেগ বাড়িয়ে দেয়।

হত্যার দশ দিন পর, ২২ ডিসেম্বর খুলনা জেলার সোনাডাঙায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) খুলনা বিভাগীয় প্রধান ও জাতীয় শ্রমিক শক্তির কেন্দ্রীয় সংগঠক মোতালেব শিকদার গুলিবিদ্ধ হন। উভয় ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্রের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তীব্রভাবে উত্থাপিত হয়েছে।

যশোর, চট্টগ্রাম, খুলনা, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, বগুড়া, পাবনা সহ মোট বিশটি জেলায় গত চৌদ্দ মাসে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের গুলিতে পাঁচশতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে। এই পরিসংখ্যান দেশের নিরাপত্তা অবস্থা নিয়ে উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক জানান, লুট হওয়া পুলিশ অস্ত্রগুলো অপরাধে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং কিছু ক্ষেত্রে অপরাধীরা এই অস্ত্র ভাড়া দিয়ে লাভবান হচ্ছে। তিনি যোগ করেন, নির্বাচনের সময় এই ধরনের অস্ত্রের ব্যবহার অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করতে পারে।

পুলিশ সদর দপ্তরের সূত্রে বলা হয়েছে, অবৈধ অস্ত্রের বাজারে লুট হওয়া পুলিশ অস্ত্রও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করছে।

১০ আগস্ট স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী লুট হওয়া অস্ত্রের পুনরুদ্ধারের জন্য পুরস্কার ঘোষণা করেন। পুরস্কারসূচিতে লাইট মেশিনগান, সাব মেশিনগান, চায়না রাইফেল এবং পিস্তল-শটগান অন্তর্ভুক্ত, যা সম্ভাব্য তথ্যদাতাদের আকৃষ্ট করার উদ্দেশ্যে নির্ধারিত।

প্রতিষ্ঠিত পুরস্কারসূচি সত্ত্বেও, এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো অস্ত্র পুনরুদ্ধার করা যায়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টিতে, এই পরিস্থিতি অবৈধ অস্ত্রের চক্রকে বন্ধ করতে বাধা সৃষ্টি করছে।

গণপ্রজাতন্ত্রী সরকারের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো বর্তমানে লুট হওয়া অস্ত্রের সন্ধান ও পুনরুদ্ধারের জন্য বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করেছে। টাস্কফোর্সের কাজের অগ্রগতি এবং সংশ্লিষ্ট মামলায় আদালতের রায়ের অপেক্ষা চলমান।

নির্বাচনের নিকটবর্তী সময়ে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো অবৈধ অস্ত্রের প্রবাহ রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, অবৈধ অস্ত্রের সহজলভ্যতা এবং লুট হওয়া পুলিশ অস্ত্রের সম্ভাব্য ব্যবহার নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।

৮০/১০০ ১টি সোর্স থেকে যাচাইকৃত।
আমরা ছাড়াও প্রকাশ করেছে: ইত্তেফাক
অপরাধ প্রতিবেদক
অপরাধ প্রতিবেদক
AI-powered অপরাধ content writer managed by NewsForge
RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments