ফ্রান্সের কীটপতঙ্গ প্রোটিন স্টার্ট‑আপ Ÿnsect, যা ২০২১ সালে সুপার বোলের সপ্তাহান্তে রবার্ট ডোউনি জুনিয়রের উল্লেখে আন্তর্জাতিক দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল, এখন আদালতের তরফে তরলীকরণ প্রক্রিয়ায় রয়েছে। কোম্পানিটি দেউলিয়া ঘোষণার মাধ্যমে তার আর্থিক অক্ষমতা স্বীকার করেছে এবং সম্পদ বিক্রয়ের মাধ্যমে ঋণ শোধের চেষ্টা করবে।
Ÿnsect ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং দ্রুতই কীটপতঙ্গ থেকে প্রোটিন উৎপাদনের ক্ষেত্রে বৈশ্বিক নেতা হিসেবে নিজেকে স্থাপন করে। ২০২১ পর্যন্ত কোম্পানিটি মোট ৬০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি তহবিল সংগ্রহ করেছিল, যার মধ্যে রবার্ট ডোউনি জুনিয়রের FootPrint Coalition, ইউরোপীয় পাবলিক ফান্ড এবং বেসরকারি ভেঞ্চার ক্যাপিটাল অন্তর্ভুক্ত। তবু তহবিলের পরিমাণ সত্ত্বেও ব্যবসা কাঠামোতে মৌলিক সমস্যার সমাধান না হওয়ায় আর্থিক চাপ বাড়তে থাকে।
কোম্পানির মূল লক্ষ্য ছিল কীটপতঙ্গের প্রোটিনকে খাদ্য শৃঙ্খলে বিপ্লবী উপাদান হিসেবে উপস্থাপন করা, তবে বাস্তবে তা প্রাণী খাদ্য ও পোষা প্রাণীর খাবার বাজারে কেন্দ্রীভূত ছিল। মানব খাদ্যের চাহিদা তুলনামূলকভাবে কম, ফলে উচ্চ মার্জিনের বাজারে প্রবেশের সুযোগ সীমিত রয়ে যায়। এই দ্বিমুখী কৌশল কোম্পানির আয় বৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করে এবং নগদ প্রবাহে ঘাটতি সৃষ্টি করে।
২০২১ সালে Ÿnsect ডাচ কোম্পানি Protifarm অধিগ্রহণ করে মানব খাদ্য ক্ষেত্রে প্রবেশের পরিকল্পনা ঘোষণা করে। Protifarm মূলত মিলওয়ার্ম চাষে বিশেষজ্ঞ এবং মানব ব্যবহারের জন্য প্রোটিন সরবরাহ করে। তবে অধিগ্রহণের সময়ই তখনকার সিইও অঁতয় হুবে দাবি করেন যে মানব খাদ্য থেকে আয় পুরো কোম্পানির মোট আয়ের ১০‑১৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে এবং তা অর্জনে কয়েক বছর সময় লাগবে। এই সময়সীমা কোম্পানির তীব্র নগদ চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না।
আর্থিক তথ্য অনুযায়ী, Ÿnsect এর প্রধান সত্তার আয় ২০২১ সালে সর্বোচ্চ €১৭.৮ মিলিয়ন (প্রায় $২১ মিলিয়ন) পৌঁছায়, যা পরবর্তীতে অভ্যন্তরীণ সাবসিডিয়ারির মধ্যে স্থানান্তরের মাধ্যমে বাড়িয়ে দেখানো হয়। ২০২৩ সালের শেষ নাগাদ কোম্পানির নিট ক্ষতি €৭৯.৭ মিলিয়ন (প্রায় $৯৪ মিলিয়ন) রেকর্ড হয়। এই ক্ষতি মূলত উৎপাদন খরচ, গবেষণা ও উন্নয়ন ব্যয় এবং বাজার সম্প্রসারণের জন্য অতিরিক্ত বিনিয়োগের ফলে ঘটেছে।
বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, Ÿnsect এর ব্যর্থতার মূল কারণ হল বাজারের স্পষ্ট দিকনির্দেশের অভাব। প্রাণী খাদ্য ও পোষা প্রাণীর খাবার এবং মানব খাদ্য—দুটি ভিন্ন সেগমেন্টে একসাথে প্রবেশের চেষ্টা কোম্পানির সম্পদকে ছড়িয়ে দেয় এবং স্কেল অর্জনে বাধা সৃষ্টি করে। তদুপরি, উচ্চ মূলধন ব্যয় এবং সীমিত আয় বৃদ্ধির ফলে নগদ প্রবাহের ঘাটতি বাড়ে, যা শেষ পর্যন্ত দেউলিয়ার দিকে ধাবিত করে।
বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টিকোণ থেকে, ডোউনি জুনিয়রের FootPrint Coalition এবং ইউরোপীয় পাবলিক তহবিলসহ বহু সংস্থা এই প্রকল্পে বড় পরিমাণ অর্থ প্রদান করেছিল। তহবিলের প্রত্যাশিত রিটার্ন না পেয়ে এই বিনিয়োগগুলো এখন ক্ষতির মুখে। তদুপরি, স্টার্ট‑আপের ব্যর্থতা কীটপতঙ্গ প্রোটিন শিল্পের সামগ্রিক বিশ্বাসযোগ্যতায় প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে ভবিষ্যতে পাবলিক ও প্রাইভেট তহবিলের প্রবাহে সতর্কতা বাড়াতে পারে।
ইনসেক্ট‑বেসড প্রোটিন বাজার এখনও বৃদ্ধির সম্ভাবনা ধারণ করে, তবে Ÿnsect এর অভিজ্ঞতা থেকে স্পষ্ট যে স্পষ্ট ব্যবসায়িক মডেল এবং লক্ষ্যবাজারের নির্ধারণ অপরিহার্য। বিনিয়োগকারী এবং উদ্যোক্তাদের জন্য এখনো গুরুত্বপূর্ণ যে, কীটপতঙ্গ থেকে প্রোটিন উৎপাদনের উচ্চ প্রযুক্তি ও পরিবেশগত সুবিধা সত্ত্বেও তা লাভজনকভাবে বাজারে নিয়ে আসতে যথাযথ স্কেল, খরচ কাঠামো এবং গ্রাহক গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে হবে।
সারসংক্ষেপে, Ÿnsect এর দেউলিয়া হওয়া ফরাসি ইনসেক্ট‑প্রোটিন শিল্পের একটি সতর্কতা সংকেত। তহবিলের পরিমাণ এবং উচ্চ প্রোফাইল সমর্থন সত্ত্বেও স্পষ্ট কৌশলগত দিকনির্দেশের অভাব এবং নগদ প্রবাহের ঘাটতি কোম্পানিকে দেউলিয়ার পথে নিয়ে যায়। ভবিষ্যতে এই সেক্টরে প্রবেশকারী স্টার্ট‑আপগুলোকে বাজারের চাহিদা, আয় মডেল এবং আর্থিক স্থিতিশীলতার ওপর বেশি জোর দিতে হবে।



