ঢাকার রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে রাত তিনটার দিকে তাপমাত্রা প্রায় ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে এসে শীতের সত্ত্বেও একটি বিশাল সমাবেশ গড়ে ওঠে। উপস্থিতদের মধ্যে বাবা-সন্তান জোড়া, নারীরা ও শিশুরা অন্তর্ভুক্ত, যারা হাদি হত্যার ন্যায়বিচার চেয়ে একত্রিত হয়েছেন।
আসিফুল ইসলাম ও তার স্ত্রী শারিফুল ফায়দা তাদের সন্তান শাফিকুল ফারাজকে কোলে নিয়ে শীতের তীব্রতাকে উপেক্ষা করে দাঁড়িয়ে আছেন। তারা বলেন, হাদির মত ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তির মৃত্যুর পর তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখতে ন্যায়বিচার অপরিহার্য।
সমাবেশের মূল দাবি হাদি হত্যার দ্রুত ও স্বচ্ছ বিচার নিশ্চিত করা। উপস্থিতরা হাদির কবরের দিকে যাত্রা করে, দূর থেকে জিয়ারত করে এবং হাদির স্মরণে গান ও কবিতা গাইছে। স্লোগান “হাদি হত্যার বিচার চাই” বারবার উচ্চারিত হচ্ছে।
সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত চলমান এই সমাবেশের আয়োজন ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে করা হয়। মঞ্চের ঘোষণার পর নারী, পুরুষ ও শিশুরা একত্রিত হয়ে হাদির ন্যায়বিচার দাবি জানায়।
অজিমপুরের মমিনুল ইসলাম উপস্থিত হয়ে হাদির ত্যাগকে দেশের প্রেমিকের সঙ্গে তুলনা করেন এবং ন্যায়ের পথে চলতে সাহসের কথা উল্লেখ করেন। তার বক্তব্যে হাদির আত্মত্যাগকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরা হয়।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ইনকিলাব মঞ্চের সঙ্গে সমন্বয় করে শনিবার শাহবাগে অবরোধের পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। তিনি হাদির কবর জিয়ারতের সময়সূচি জানিয়ে সমাবেশের সমর্থন প্রকাশ করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখপাত্র ও ডিএসইউ নেত্রী ফাতিমা তাসনিম জুমা মঞ্চের সঙ্গে আলোচনার কথা জানিয়ে সমাবেশের জন্য সর্বাত্মক সহযোগিতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, হাদির ন্যায়বিচার চাহিদা নিয়ে সকলের সঙ্গে সমন্বয় বজায় থাকবে।
সমাবেশে তৃণমূল এনসিপির প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক মুনতাসীর মাহমুদও উপস্থিত ছিলেন। তিনি প্রতিষ্ঠানের পুনর্গঠন ও হাদির স্বপ্নের প্রতিষ্ঠা নিয়ে কথা বলেন, হাদির লক্ষ্যকে প্রতিষ্ঠা গড়ার দিক হিসেবে উল্লেখ করেন।
ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের সমাবেশকে চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি হাদির হত্যাকারী গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত সমাবেশকে রাস্তায় বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
ইনকিলাব মঞ্চের পরিকল্পনা অনুযায়ী শনিবারও শাহবাগে অবরোধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এই অবরোধে হাদির ন্যায়বিচার দাবি আরও তীব্র হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উল্লেখ করছেন, হাদি হত্যার ন্যায়বিচার দাবি দেশের মানবাধিকার ও আইনের শাসনকে পরীক্ষা করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। সমাবেশের ধারাবাহিকতা ও অবরোধের প্রভাব ভবিষ্যতে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে।
শাহবাগে রাতের এই সমাবেশ হাদির স্মৃতিকে সম্মান জানিয়ে ন্যায়বিচার চাওয়ার একটি শক্তিশালী প্রকাশ, যা দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশে নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করবে।



