২০২৫ সালে বাংলাদেশে শিক্ষা ব্যবস্থা সর্ববৃহৎ ব্যাঘাতের মুখে পড়ে; জানুয়ারি থেকে শিক্ষক ধর্মঘট, সরকারী পদক্ষেপ এবং বিদ্যালয় বন্ধের ফলে প্রায় এক কোটি শিশুর শিক্ষার ধারাবাহিকতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
নরসিংদির বাখারনগরে আহমেদ মিয়া তার কন্যা রাফিয়ার গল্প শেয়ার করেন। রাফিয়া দ্বিতীয় শ্রেণি শেষ করলেও বাংলা পড়তে সমস্যায় পড়ে, যদিও স্থানীয় সরকারী প্রাইমারি স্কুলে ৯০% শিক্ষার্থী পাশ করে।
সাটপাড়া গ্রামে সোনিয়া আক্তার উদ্বেগ প্রকাশ করেন; ক্লাসের শূন্যতা বাড়লে স্থানীয় কারখানায় কাজের চাপ ও প্রারম্ভিক বিয়ে বাড়তে পারে, যা সামাজিক সমস্যার দিকে নিয়ে যাবে।
শিক্ষকরা জানুয়ারিতে শাহবাগ হাইওয়ের দিকে বেতন বৃদ্ধির দাবি নিয়ে মার্চ করতে চেয়েছিল, তবে পুলিশ বাধা দেয়। মে মাসে এই আন্দোলন সব ৬৫,৫৬৭ সরকারী প্রাইমারি স্কুলে বিস্তৃত হয়ে জাতীয় পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়ে।
প্রায় ৩,৮ লক্ষ শিক্ষক কর্মবিরতি ঘোষণা করে, ফলে এক কোটি শিক্ষার্থী স্কুলে প্রবেশ করতে পারেনি। সরকার শেষ পর্যন্ত সহকারী শিক্ষকদের বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব দিল, তবে শিক্ষক সমিতি তা প্রত্যাখ্যান করে।
গ্রীষ্মকালে সাময়িক সমঝোতা হয়, তবে তা দীর্ঘস্থায়ী না হয়ে শীতকালে আবার অব্যাহত থাকে। অক্টোবর মাসে এমপিও তালিকাভুক্ত বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকরা জাতীয় প্রেস ক্লাবের কাছে প্রতিবাদে সমবেত হয়।
তাদের দাবি ছিল মৌলিক বেতনের ২০ শতাংশ হাউস রেন্ট ভাতা, যা পূর্বে নির্দিষ্ট একক হার হিসেবে প্রদান করা হতো। এই দাবির জন্য তারা রাস্তায় অবরোধ ও ধর্মঘট চালিয়ে যায়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় পাঠ্যক্রমে নতুন পরিবর্তন নিয়ে দ্বিধায় ছিল; ডিজিটাল লার্নিং প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার বাড়াতে পরিকল্পনা থাকলেও বাস্তবায়ন ধীর।
বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে শিক্ষার্থীর সেমিস্টার পুনর্নির্ধারণ, পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তন এবং গবেষণা প্রকল্পে বিলম্ব ঘটেছে। উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও শিক্ষক ধর্মঘটের প্রভাব অনুভব করেছে।
পুলিশের হস্তক্ষেপে কিছু শিক্ষক গ্রুপের নেতা গ্রেফতার হয়, যা ধর্মঘটের তীব্রতা বাড়িয়ে দেয়। সরকারী ক্র্যাকডাউন এবং শিক্ষকের দাবির মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাস বৃদ্ধি পায়।
বহু পরিবার শিক্ষার ব্যয় বাড়ার কারণে আর্থিক চাপে পড়েছে; কিছু পরিবার সন্তানকে কাজের জন্য পাঠাতে বাধ্য হয়েছে, ফলে শিশুশ্রমের ঝুঁকি বাড়ে।\



